শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮ আশ্বিন ১৪২৮ , ১৫ সফর ১৪৪৩

সাহিত্য

সুদীপ্তা ঘোষের ৩টি কবিতা

 ২১ জুন , ২০২১, ১৫:৩৮:১৭

  • ছবি : সংগৃহীত

আমরা মানুষ না জন্তু? 
আর্তনাদের ভ্রুণ থেকে উঠে এসেছিল কিছু লোহাগড়া মানুষ!
তামাম দুনিয়া ভেঙেচুড়ে গড়ল একই ভূখণ্ডে পর পর দুটো দেশ
পূর্ব পাকিস্তান, অতঃপর বাংলাদেশ!
পতাকা উড়ল আকাশে সূর্য ছুঁই ছুঁই।
বারবার ওভারল্যাপে তবু অন্ধকার নামছে 
পাঁচশ সত্তর বর্গ কিলোমিটার এই নাদান জমিতে।
 
ভয়ংকর একটা খাঁজকাটা জাগতিক পথ  জানান দিচ্ছে 
শুধু সঠিক প্রতিবাদের অপারগতা, চৌর্যবৃত্তিও বলা যেতে পারে!
কুৎসিত, অসুস্থ, লোলিপ্সু ভাইরাস জন্ম নিচ্ছে ক্রমাগত!
 
মাদকের নেশায় সাদাকে কালো, কালোকে সাদা দেখছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম 
মানব দেহের আড়ালে কামুক লোভী আর মেরুদণ্ডহীন ‘না‘-মানুষের দল 
ছারপোকার ঘৃণিত দাঁতে ছার-খার করছে লুকানো স্বচ্ছ ভালোবাসা।
বিপরীতে সীসাগড়া পৃথিবী ঢাকা পড়ছে কালো পর্দায়।
পর্দার আড়ালে কাঁপছে হলমার্ক 
বাইরে নারীর শরীর চেটেপুটে খায় কেতাদুরস্ত খোলসে অবরুদ্ধ জমদূত!
আধ-খাওয়া টুকরো রুটি চুরির অপরাধে গণপিটুনিতে 
সড়ক রাঙায় কত রাম রহিমেরা ডজনে ডজনে।
 
এ কি তবে কোনো অমোঘ নিয়তি?
নাকি ভোলগা থেকে গঙ্গার সেই দিবা নিশার একচ্ছত্র শাসনের পরিণতি?
নাকি গুহাবাসী  ভিন্সনভ্যাংগকের  ভালোবাসার রক্তে ভেজা তুলির অভিশাপ?
না কোনো বিশাল ঝড়ের পূর্বাভাস?
 
যদি তাই হয়, কি হবে মগ্ন থেকে শাস্ত্রপাঠে!
স্বার্থসর্বস্ব ভালোবাসাহীন বিরান ভূমিতে যখন মানবতার চাষ সংকটাপন্ন
কি হবে সেখানে তত্ত্ব আর আধ্যাত্মিকতার বীজ বুনে
যেখানে আজও শিখলাম না মানুষ আর জন্তুর ভেদ?
 
অসমাপ্ত সিঁড়ি
নিরেট একটা ভালোবাসার কবিতা 
কখনো লিখিনি আজ অবধি!
ইচ্ছে করেনি এমন নয়!
যখন বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ের ফাঁকে দেখেছি 
চাঁদ আর তারাদের বাসর রাত, আমিও চেয়েছি হতে অতীন্দ্র!
চেয়েছি হতে চির নতুন, সৌন্দর্যের অধরা চমক, সব মুগ্ধ চোখে।
 
কখনো শেষ বিকেলে আকাশের রঙধনু 
নীলকণ্ঠী হতে ঈশারা করেনি, এমন নয় !
ষোলোতে স্বপ্ন ছিল, আঠারোতেই থেকে যাব
যদি এমন হয়! কেমন হবে?
 
বাবার শাসন, দাদার ধমক আর স্বামীর তর্জনী তোলা 
প্রতিটি শব্দ চাবুক সয়ে সয়ে, তখনও কেবলই চেয়েছি 
নন্দিনী হতে, সংসারের প্রতিটি কাজে ঘার নেড়ে 
কিংবা শক্ত মুকাভিনয় করে করে।
এভাবেই সিঁথির দুপাশে আজ রুপালি চুলের লুকোচুরি।
একদার নিটোল মুখে ছোপ ছোপ দাগ, চোখের নিচে 
আষাঢ়ের ধেয়ে আসা কালো মেঘের পাকাপাকি বাস।
কোটর নিবাসী জুলজুলে চোখের তারায় বেঁচে আছে শুধু স্বপ্ন ঝিলিক
আরেকবার যদি রংধনু জাগে! উড়ব আকাশে
সাত রঙে সাঁতরে সাঁতরে ঢেউখেলা কালো চুলে 
গেঁথে নেব সাতটি রঙের ফুল, নন্দিনী হয়ে। 
 
পাঁচ আঙুলে সূর্য ধরে
পথের মানুষ হাঁটছে শুধুই পথে-ঘাটে 
ভাবছে কেবল কি না কি যাচ্ছে  ঘটে!
ভাঙাচোরা পাঁজরগুলো ধুক পুক ধুক করছে কেবল
একমুঠো চাল আছে ঘরে, কাল খাবে কি, সাপের ছোবল?
গলা উঁচিয়ে বলছে না কেউ- ভয় কিসের গো
আমরা  কিন্তু  ভয় খাবো, তার চেয়ে ভয় দূরে হটো! 
ভয় তাড়ুয়া হাঁটছে না কেউ ওদের পাশে
শুধু কষ্টগুলো ঝড়তে থাকে  শ্বাসে  শ্বাসে! 
বুকের মধ্যে নৌকো চলে, বৈঠাগুলো চলতে থাকে, জ্বলতে থাকে
জলের ফোটায়, সেখান থেকে স্বপ্ন গড়ায়, সুখ-দুঃখের জোয়ার ভাটায়!
না-মানুষের দল, স্বপ্নবাজ পথের রাজা শক্ত পায়ের ফাটিয়ে কড়া
ছুটছে ওরা, রেখে দিয়ে আদুল পায়ের ছাপ, কেবল ছুটছে ওরা
দুহাত ভরে স্বপ্ন পুরে
সাপবুনোটি কর্মশালার রাস্তা ধরে।
সরল মানুষ ছল জানে না 
তবু ওরা হার মানে না, দিনের শেষে ঘরে ফেরে
শূন্য থলের কানায় কানায় দুঃখ ভরে!
আগুন ঝরে স্বপ্নমুখো চোখের কোনে,আগুন ঝরে!
দুগাল বেয়ে গরম চোখের জল তবু পাঁচ আঙুলে সূর্য ধরে।
 
নিউজজি/জেডকে

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers