রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগ

নিউজজি ডেস্ক ৪ অক্টোবর , ২০২৬, ১৩:৩৩:৩৭

75
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নজিরবিহীন ব্যর্থতার ঘটনায় অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের শরীরে দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসির গভর্নর বিল লি জানান, চলতি মাসেই দায়িত্ব ছাড়বেন ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এ সময় পাইকের শরীরে প্রাণঘাতী ইনজেকশন হিসেবে দুই ডোজ পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করা হয়। তবে দুই ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থতার পরই কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা আসে।

আইনি নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাইক।

তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইনজেকশন দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে কাঁদতে ও জোরে জোরে শ্বাস নিতে শোনা যায়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি অচেতন ছিলেন এবং কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় রাখা হয়েছিল।

ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা এক বিবৃতিতে বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইক বেঁচে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এমন পরিস্থিতিতে টেনেসির মানুষের স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবীরা স্ট্রাডার পদত্যাগকে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে তাদের দাবি, কারাপ্রধানের পদত্যাগে পাইকের বর্তমান পরিস্থিতির কোনো সমাধান হবে না।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, বুধবার পাইকের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যবস্থার পদ্ধতিগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। তারা পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, এই তদন্ত টেনেসির মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার গভীর সমস্যাগুলো সামনে আনবে।

হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত পাইকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার সকাল ১০টায় কার্যকরের কথা ছিল। তা কার্যকর হলে ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী হিসেবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো। কিন্তু দুই ডোজ ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যাওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়।

এরপর তার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমানোর আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার সংশ্লিষ্ট আলামত সংরক্ষণের জন্য শুক্রবার একটি জরুরি আবেদনও দাখিল করেছেন তারা।

টেনেসির কারা বিভাগ অবশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য অনুসরণ করা পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, নির্ধারিত পদ্ধতির বাইরে অতিরিক্ত কোনো প্রক্রিয়া তাদের অনুমোদিত প্রোটোকলে নেই।

তবে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য আবার চেষ্টা করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি কারা কর্তৃপক্ষ। দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও কেন তার মৃত্যু হয়নি, কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers