রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

গড় আয়ুতে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

নিউজজি ডেস্ক ৪ অক্টোবর , ২০২৬, ১৩:১০:১১

82
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: গড় আয়ুর হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৭ বছরে। বিপরীতে ভারতে গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর এবং পাকিস্তানে ৬৮ দশমিক ২ বছর।

তবে মানুষের আয়ু কত দীর্ঘ হচ্ছে, তার পাশাপাশি কত বছর সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে—সেই সূচকেও দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয়দের গড় আয়ু বাংলাদেশের মানুষের তুলনায় কম। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মানুষের গড় আয়ুও ভারতের চেয়ে বেশি। ২০২৩ সালে ভারতীয়দের গড় আয়ু ছিল ৭১ বছর। পাকিস্তানে তা ৬৮ দশমিক ২ বছর, বাংলাদেশে ৭২ দশমিক ৭ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে ৭৮ দশমিক ৫ বছর এবং কানাডায় ৮১ দশমিক ৪ বছর। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

তবে বেশি দিন বাঁচার অর্থ এই নয় যে মানুষ বেশি বছর সুস্থও থাকে। ২০২৩ সালে ভারতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময় ছিল ৬০ দশমিক ৬ বছর। ২০১৯ সালে এই সময় ছিল ৬০ দশমিক ৫ বছর। ২০২১ সালে তা কমে ৫৮ দশমিক ৪ বছরে নেমে গিয়েছিল। পরে ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬০ দশমিক ২ বছরে দাঁড়ায়।

গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’-এর অংশ হিসেবে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জীবন প্রত্যাশা, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রত্যাশিত সময়, মৃত্যুর কারণ এবং রোগের প্রভাব নিয়ে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু মহামারির আগের সময়ের কাছাকাছি ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় আগের অবস্থায় ফিরতে আরও বেশি সময় লাগছে।

মহামারির সময় ভারতের গড় আয়ুর পরিবর্তনটি ছিল বেশ স্পষ্ট। ২০১৯ সালে দেশটির মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ৫ বছর। করোনাকালে ২০২১ সালে তা কমে ৬৮ দশমিক ১ বছরে নেমে আসে। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২২ সালে গড় আয়ু আবার ৭০ দশমিক ৫ বছর এবং ২০২৩ সালে ৭১ বছরে পৌঁছায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয়দের প্রত্যাশিত আয়ু বেড়েছে ২ দশমিক ৯ বছর।

তবে এই সময়ে সুস্থভাবে জীবনযাপনের প্রত্যাশিত সময় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম। ২০২১ সালে সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশিত সময় ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বছর, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ৬০ দশমিক ৬ বছরে দাঁড়ায়। ফলে ২০১৯ সালের তুলনায় সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ বছর।

বয়স্ক ভারতীয়দের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৩ সালে ৬০ বছর বয়সী একজন ভারতীয় আরও ১৮ দশমিক ৮ বছর বাঁচবেন বলে আশা করা যায়। ২০১৯ সালে এই প্রত্যাশা ছিল ১৮ দশমিক ৪ বছর। তবে এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৭ বছর সুস্থভাবে কাটানোর প্রত্যাশা ছিল। ২০১৯ সালে এই সময় ছিল ১৩ দশমিক ৪ বছর।

ভারতে রোগের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সংক্রামক রোগের মধ্যে যক্ষ্মা ও ডায়রিয়াজনিত রোগ রয়েছে, যেগুলো একজনের কাছ থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে। অন্যদিকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়ে থাকে।

২০০০ সালে ভারতের মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের সম্মিলিত মৃত্যুহারের প্রায় ৬২ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল সংক্রামক রোগ। অন্যদিকে অসংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু ছিল ৩৪ শতাংশ।

২০২৩ সালে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। ওই বছর মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের সম্মিলিত মৃত্যুহারের প্রায় ৭৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ। সংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যু ছিল ১৬ শতাংশ। বাকি অংশ ছিল বিভিন্ন ধরনের আঘাতজনিত কারণে।

মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর তালিকাতেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট। ২০০০ সালে তালিকার শীর্ষে ছিল যক্ষ্মা ও ডায়রিয়াজনিত রোগ। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এসব রোগে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ৯২ দশমিক ৪ ও ৮৭ দশমিক ৮।

২০২৩ সালে হৃদপিণ্ডের রক্তনালিতে রক্ত চলাচল কমে যাওয়াজনিত হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল। এসব রোগে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল যথাক্রমে ১৩৮ দশমিক ৫, ৮৩ দশমিক ১৯, ৭৪ দশমিক ৮ এবং ৪৯ দশমিক ০১।

তবে সংক্রামক রোগ এখনো ভারতের জন্য বড় ধরনের বোঝা। ২০২৩ সালেও ডায়রিয়াজনিত রোগ, যক্ষ্মা এবং শ্বাসতন্ত্রের নিচের অংশের সংক্রমণ দেশটির মৃত্যুর শীর্ষ ১০টি কারণের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও অসংক্রামক রোগের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশই হয়েছে অসংক্রামক রোগের কারণে। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৫৮ শতাংশ। ওই বছর বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের মধ্যে আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।

এদিকে ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। ২০১৯ সালে তা ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বে গড় আয়ু প্রায় আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে সুস্থভাবে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্বে সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশিত সময় ছিল ৬২ দশমিক ৮ বছর, যা ২০১৯ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers