রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ , ৬ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ফের বাড়ছে: ডব্লিউএইচও

নিউজজি ডেস্ক ৩ অক্টোবর , ২০২৬, ১৬:৪৯:২৯

78
  • বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ফের বাড়ছে: ডব্লিউএইচও

ঢাকা: বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু ফের বাড়ছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে যে ধাক্কা লেগেছিল তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠে বৈশ্বিক গড় আয়ু মহামারিপূর্ব অবস্থায় প্রায় ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

২০০০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশে মৃত্যু এবং প্রতিবন্ধিতার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এ হিসাব তৈরি করা হয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ের জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য, ডব্লিউএইচওর কারিগরি কর্মসূচির হিসাব এবং জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থাটির সর্বশেষ ‘গ্লোবাল হেলথ এস্টিমেটস’ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ৩ বছর। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৭৩ দশমিক ৪ বছর। অর্থাৎ মহামারির আগের অবস্থার চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ১ বছর কম রয়েছে।

তবে, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় বা ‘হেলদি লাইফ এক্সপেক্টেন্সি’ তুলনামূলক ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার হয়েছে। ২০২৩ সালে মানুষ গড়ে ৬২ দশমিক ৮ বছর সুস্থভাবে বেঁচেছে। ২০১৯ সালের তুলনায় এটি এখনো শূন্য দশমিক ৪ বছর কম।

ডব্লিউএইচওর ডেটা, ডিজিটাল হেলথ, অ্যানালিটিকস ও এআই বিভাগের পরিচালক ড. অ্যালাঁ ল্যাব্রিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় অর্জন।’

ড. ল্যাব্রিক বলেন, ‘পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের জীবনে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত বছরগুলো যেন সুস্থভাবে কাটে। একই সঙ্গে জনসংখ্যার পরিবর্তিত চাহিদা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাগুলোও যেন প্রস্তুত থাকে।’

নিম্নআয়ের দেশগুলোতে বড় পরিবর্তন

বিশ্বে মানুষ কী কারণে মারা যাচ্ছে সেই প্রবণতায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে ডব্লিউএইচও।

২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো নিম্নআয়ের দেশগুলোতে মোট মৃত্যুর অর্ধেকেরও কম হয়েছে সংক্রামক রোগে। অর্থাৎ, এক ব্যক্তি বা প্রাণী থেকে অন্য ব্যক্তি কিংবা কোনো পৃষ্ঠের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোগের কারণে মৃত্যুর হার অর্ধেকের নিচে নেমেছে। ডব্লিউএইচওর ভাষায়, এটি বিশ্বের ‘এপিডেমিওলজিক্যাল ট্রানজিশন’ বা রোগের ধরন ও মৃত্যুর কারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বিশ্বজুড়ে ২০২৩ সালে মোট মৃত্যুর ৭৪ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসংক্রামক রোগ (এনসিডি)। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৫৮ শতাংশ। বিশ্বের মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের মধ্যে আটটিই ছিল অসংক্রামক রোগ।

হৃদ্‌রোগ এখনো মৃত্যুর প্রধান কারণ

হৃদ্‌রোগ এখনো বিশ্বে মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং রোগজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির সবচেয়ে বড় উৎস। শুধু ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ বা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ২০২৩ সালে আনুমানিক ৯৫ লাখ মানুষ মারা গেছে। এ রোগের কারণে মানুষের সুস্থ জীবনের প্রায় ২১ কোটি বছর হারিয়েছে বিশ্ব।

২০০০ সালের পর বিশ্বের অনেক অঞ্চলে হৃদ্‌রোগের এই বোঝা কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ব্যক্তিপ্রতি ঝুঁকি বেড়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবায় বিদ্যমান বৈষম্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাড়ছে ডিমেনশিয়ার বোঝা

অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগও ক্রমেই বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠছে। ২০০০ সালে বিশ্বে মৃত্যুর ১৯তম প্রধান কারণ ছিল ডিমেনশিয়া। ২০২৩ সালে এটি পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে। এই সময়ে ডিমেনশিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

২০০০ সালের পর ডায়াবেটিসে মৃত্যুর ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর পরিমাণ বেশি।

২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বয়সের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া বৈশ্বিক হিসাবে, বিষণ্নতাজনিত রোগের কারণে হারানো ‘সুস্থ জীবন’-এর হার প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। উদ্বেগজনিত রোগের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ।

মাদক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট রোগের ক্ষেত্রে ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি এবং সুস্থ জীবন হারানোর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমেরিকা মহাদেশে। বিপরীতে, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ঝুঁকিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।

ড. ল্যাব্রিক বলেন, ‘এসব হিসাবের মূল্য শুধু সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।’

তার ভাষায়, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সময়ে মৃত্যুর কারণ এবং রোগের বোঝা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা তুলে ধরার মাধ্যমে এসব তথ্য দেশগুলোকে স্বাস্থ্যনীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সরবরাহ করে।

অর্থাৎ, মানুষ দীর্ঘজীবী হচ্ছে-এটি জনস্বাস্থ্যের অগ্রগতির একটি বড় অর্জন। তবে, সেই বাড়তি বছরগুলো কতটা সুস্থভাবে কাটছে এবং বার্ধক্য, ডিমেনশিয়া, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের বাড়তি চাপ কতটা সামলাতে পারছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা তাই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজজি/এসডি

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers