বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিদেশ

নেপাল থেকে ভেসে আসা অচেনা মাছ না খাওয়া নিয়ে ভারতের সতর্কতা

নিউজজি ডেস্ক ২ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১৫:৩০:২৪

100
  • সংগৃহীত

ঢাকা: নেপালে আকস্মিক বন্যার পর জনসাধারণকে সতর্ক করে নির্দেশনা জারি করেছে ভারতের বিহার সরকার। প্রতিবেশী দেশ থেকে বন্যার পানির স্রোতে রাজ্যের জলাশয়গুলোতে ভেসে আসা অচেনা ও অস্বাভাবিক প্রজাতির মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিহারের দুগ্ধ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মৎস্য বিভাগ এ সতর্কতা জারি করে। গণ্ডক অববাহিকার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জলাশয় ও নিচু জায়গায় অস্বাভাবিক আকৃতির মাছের সন্ধান পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খবর এএনআই, টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিহারের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় অপরিচিত ও অস্বাভাবিক ধরনের মাছ পাওয়া গেছে। এসব মাছ খাওয়ার পর কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

দপ্তরের মতে, বন্যার পানির কারণে বিভিন্ন পুকুর, হ্রদ ও নদীর মাছ অন্য এলাকায় চলে যায়। পয়ঃবর্জ্য, মৃত প্রাণী এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থের সংস্পর্শে দীর্ঘসময় থাকার কারণে এসব মাছ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বন্যার সময় পুকুর, নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাধার থেকে মাছ পানির স্রোতে বেরিয়ে অনেক দূরে চলে যেতে পারে। কাদা, পয়ঃবর্জ্য, মৃতদেহসহ নানা ধরনের দূষিত উপাদানের সংস্পর্শে দীর্ঘসময় থাকার ফলে এসব মাছ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও রাসায়নিক দ্বারা দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া এবং নিরাপদ ও পরীক্ষিত মাছ বাজারে না আসা পর্যন্ত বন্যার পানিতে ধরা মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নাগরিকদের অচেনা বা অস্বাভাবিক দেখতে মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বন্যার পানিতে ধরা মাছ কেনাবেচা বা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার পাশাপাশি দপ্তরের পরীক্ষা ও অনুমোদন ছাড়া কোনো অপরিচিত মাছকে নিরাপদ মনে না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সতর্কতার অংশ হিসেবে বলা হয়েছে, এ ধরনের মাছ খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে।

এ ধরনের মাছ দেখা গেলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বা স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর জন্যও নাগরিকদের আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ‘গুজবে কান দেবেন না এবং নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অজানা মাছ খাওয়া সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।’

নির্দেশনার পাশাপাশি পশ্চিম চম্পারণের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নূতন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বত্র সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছি এবং জনগণকে জানাচ্ছি যে বন্যার কারণে নেপাল থেকে আসা মাছ অত্যন্ত সংক্রামক এবং এগুলোতে অনেক রোগ বহন করতে পারে। এসব মাছ খেলে সংক্রামক রোগ হতে পারে। এ কারণেই জনগণ যাতে এসব মাছ না খায় বা ব্যবহার না করে, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। অন্যথায় রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমি, আমাশয় এবং তীব্র পেটব্যথা। আমরা মাছ বিক্রেতাদেরও এ ধরনের মাছ বিক্রি না করার বিষয়ে সচেতন করছি এবং সাধারণ মানুষকে এসব মাছ না খাওয়া, না কেনা এবং ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

নেপাল পুলিশও নাগরিকদের জন্য একই ধরনের নির্দেশনা জারি করেছে। এতে তাদের বন্যার পানিতে নদীতে ভেসে আসা মাছ ও অন্যান্য নদীজাত খাবার না খাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers