শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৩ সফর ১৪৪৮

বিদেশ

৩ দেশের পোল্ট্রি মাংসে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ঝুঁকি

নিউজজি ডেস্ক ৬ আগস্ট , ২০২৬, ১৩:৪২:৫৯

50
  • সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বাজারে পাওয়া পোল্ট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের তুলনায় বেশি মাত্রায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের অবশিষ্টাংশ শনাক্ত হয়েছে। লন্ডনের রয়্যাল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আরভিসির নেতৃত্বে হওয়া এই গবেষণায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গবেষণায় খাদ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত পশুপাখির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশুপাখিকে ওষুধ দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগে জবাই করা হলে মাংসে সেই ওষুধের অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে, যা মানুষের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ ধরনের ওষুধের অবশিষ্টাংশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিমালা রয়েছে। ফলে সেখানে নিরাপদ সীমার বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল অবশিষ্টাংশ পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ বিষয়ে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তুলনামূলক কম।

এ সমস্যা খুঁজতে আরভিসির ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোলজি ও অ্যানেস্থেশিয়ার অধ্যাপক লুডোভিক পেলিগ্যান্ডের নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা অংশ নেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে তিন দেশ থেকে সংগ্রহ করা মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরপর নমুনাগুলো সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ড অনুযায়ী ৬৯ ধরনের পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।

মাংসের নমুনাগুলো বিভিন্ন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়া সরাসরি খামার থেকেও নেয়া হয় নমুনা, যেখানে মুরগিগুলো বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, একাধিক নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি ছিল। নির্দিষ্ট কিছু খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নেয়া নমুনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত নিরাপত্তা সীমা অতিক্রম করেছে।

অন্যদিকে, ২০২১ ও ২০২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে এ ধরনের সীমা অতিক্রমের গড় হার ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। গবেষকদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় অবশিষ্টাংশ পাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মুরগি জবাইয়ের ঠিক আগে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা।

অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড আশা প্রকাশ করেছেন, গবেষণাটি পশুপাখির চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াবে এবং স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers