মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৫ সফর ১৪৪৮

বিদেশ

বিজেপি জোটে যেতে চান ২০ তৃণমূল সাংসদ

নিউজজি ডেস্ক ৮ জুন , ২০২৬, ১৯:৪২:১১

109
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: তৃণমূল কংগ্রেসে এবার লোকসভা স্তরেও বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও বিভাজনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি জমা দিয়েছেন দলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা।

সূত্রের খবর, ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি জমা দেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ওই সাংসদেরা আর তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে থাকতে চান না এবং তারা আলাদা অবস্থান নিতে ইচ্ছুক।

ক্ষমতা বদলের এক মাস পার হওয়ার আগেই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিষদীয় দলের মালিকানা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই নেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল, একইভাবে ভাঙতে চলেছে সংসদীয় দলও।

জানা গেছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের জন্য লোকসভায় পৃথক ব্লক গঠনের আবেদন জানিয়েছে এবং এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।

পাশাপাশি কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতক হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে লোকসভায় তৃণমূলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। ফলে দলীয় অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এসব জল্পনার মাঝেই রোববার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারে বৈঠক হয়েছে।

এককালের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরেছেন মমতা। কিন্তু এতেও কোনো লাভ হলো না। মমতা বন্দোপাধ্যায় দিল্লিতে অবস্থানকালেই ভেঙে গেল তৃণমূলের সংসদীয় দল।

সূত্র অনুযায়ী, রবিবার দিল্লিতে এক গোপন বৈঠকে অন্তত ২০ থেকে ২১ জন তৃণমূল সাংসদ একত্রিত হন। সেখানে দলের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসিত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের খান, সুখেন্দু শেখর রায়, শর্মিলা সরকার, খলিলুর রহমান ও জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার মতো নাম উঠে এসেছে।

এই বৈঠকে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির কথাও সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই স্পষ্ট হয় যে, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে বড় ধরনের পুনর্গঠন হতে চলেছে।

পরদিনই সেই গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নেয়। ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে চলা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে চিঠি জমা দেন। সেখানে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা আর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না এবং পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান নিতে ইচ্ছুক।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তারা সংসদে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পেতে চান এবং এনডিএর সঙ্গে আসন বিন্যাসের আবেদন করেছেন।

এদিকে সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী এই পরিবর্তন স্বীকৃতি পেলে লোকসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বদলে যেতে পারে বলে ধারণা। ফলে দলনেতার পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, যেখানে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে লোকসভায় তৃণমূলের প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ভবিষ্যতে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদ শর্মিলা সরকারের বক্তব্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, এটি হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভের ফল। তাঁর দাবি, দলের ভেতরে অব্যবস্থাপনা, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক সমস্যা বহুদিন ধরেই চলছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং এমপি তহবিল ব্যবহারেও সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে আলাদা ব্লক গঠন করাই এখন তাঁদের সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা- দুই কক্ষেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন স্পিকারের সিদ্ধান্ত এবং বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers