রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৩ জিলকদ ১৪৪৭

বিদেশ

ইরানে সামরিক অভিযান সমাপ্ত: রুবিও

নিউজজি ডেস্ক ৬ মে , ২০২৬, ১৪:২২:৩৪

63
  • সংগৃহীত

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে শুরু হওয়া “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

রুবিও আরও জানান, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তার ভাষায়, “বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হোক—এটা আমরা চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই আছি।”

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সমঝোতা চান এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং তৈরি করতে আগ্রহী, যেখানে ভবিষ্যৎ আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’যুগ ধরে টানাপোড়েন চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। ২০২৫ সালের জুন মাস এ ইস্যুতে ১২ দিনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল।

পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় বৈঠক হয় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে। তবে দীর্ঘ এই আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি।

২১ দিন ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ সেই বৈঠক। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতেমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান।

টানা ৪০ দিন ধরে যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই বিরতি এখনও চলছে। সূত্র: এবিসি নিউজ

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers