রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ , ২৪ শাওয়াল ১৪৪৭

বিদেশ

শহিদুল আলমদের ফ্লোটিলার সব জাহাজ আটক: ইসরায়েল

নিউজজি ডেস্ক ৮ অক্টোবর , ২০২৫, ১১:৩৯:৫৩

131
  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: গাজার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি অবৈধ নৌঅবরোধ ভাঙতে যাত্রা শুরু করেছিল আন্তর্জাতিক নৌবহর “ফ্রিডম ফ্লোটিলা”, যার অন্যতম যাত্রী ছিলেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। খবর টাইমস অব ইসরায়েল। 

সংবাদ মাধ্যমে জানানো হয়, দেশটির নৌবাহিনী ফ্লোটিলার সব নৌযান ও যাত্রীদের আটক করেছে। ফ্লোটিলা গাজার সমুদ্রবন্দর অতিক্রম করে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “যুদ্ধে প্রবেশের লক্ষ্যে বৈধ নৌবন্দর ভেঙে ঢোকার আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।” 

আটককৃত জাহাজ ও যাত্রীদের একটি ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হয়েছে এবং তারা সবাই সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন। দ্রুত তাদের বহিষ্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানায় ইসরায়েল।

ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন কর্তৃক আয়োজিত এই নয়-জাহাজের ফ্লোটিলায় অন্তত ১০০ জন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এর মধ্যে একটি জাহাজের নাম কনসিয়েন্স (Conscience), যা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করে।

কনসিয়েন্সের আয়োজকরা আজ সকালে জানিয়েছেন, “আমাদের জাহাজ বর্তমানে একটি ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টারের দ্বারা আক্রমণ করা হচ্ছে, অন্য ৮টি জাহাজও অবৈধভাবে আটক ও জব্দ করা হচ্ছে।”

কর্মীদের প্রকাশ করা ফুটেজে দেখা যায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজগুলোতে চড়ে অভিযান চালাচ্ছে।

ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারের ওষুধ, শ্বাসযন্ত্র ও পুষ্টিসামগ্রীসহ গাজার হাসপাতালে পাঠানোর মতো জরুরি মানবিক সহায়তা ছিল।

“থাউজ্যান্ড ম্যাডলিনস” নামে অভিযানে অংশ নেওয়া নয়টি জাহাজে প্রায় ১০০ জন কর্মী রয়েছেন। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এফএফসি এ পর্যন্ত ডজনখানেক মানবিক মিশন চালিয়েছে গাজায় সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং অবরুদ্ধ উপত্যকার মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে।

এর আগের সপ্তাহে গাজামুখী ৪০টিরও বেশি নৌকা আটক করে ইসরায়েল, যাতে ৪৫০ জনেরও বেশি কর্মী ছিলেন।

ইসরায়েল পূর্বেও গাজাগামী জাহাজে হামলা চালিয়েছে, ত্রাণ সামগ্রী জব্দ করেছে এবং কর্মীদের আটক করে পরে বহিষ্কার করেছে।

প্রায় ২৪ লাখ মানুষের বসবাসের গাজা উপত্যকায় ১৮ বছর ধরে ইসরায়েল অবরোধ বজায় রেখেছে। মার্চ মাসে তারা সীমান্ত বন্ধ করে খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিয়ে অবরোধ আরও কঠোর করে, যার ফলে অঞ্চলটি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৬৭ হাজার ১০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অব্যাহত বোমাবর্ষণে অঞ্চলটি এখন কার্যত বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers