রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ , ২১ জিলহজ ১৪৪৭

বিদেশ

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের সমর্থনে যৌথ বিবৃতি নাকোচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজজি ডেস্ক ১৮ জুন , ২০২৫, ১৩:৩০:৫৯

140
  • ইন্টারনেট

ঢাকা: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলন ছেড়ে যাওয়ার পর গ্রুপ অব সেভেন নেতারা মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রতি আরো বেশি সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন। রাশিয়া তার প্রতিবেশীর ওপর আক্রমণ তীব্রতর করায় তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে জি-৭ নেতারা এক বিবৃতিতে উপনীত হয় তবে, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করে দিয়েছে। কানানাস্কিস থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও  ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা কথা ছিল। ট্রাম্পের সঙ্গে তার অস্থির সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু দুই নেতার সাক্ষাতের আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশে ফিরে গেছেন। ইসরাইল-ইরান সংঘাতের কারণে সোমবার তাকে দেশে ফিরতে হয়।

রাশিয়া ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিয়েভে আক্রমণের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহতম বোমাবর্ষণের কয়েক ঘন্টা পরে, জেলেনস্কি রকি পর্বতমালার অংশ কানাডিয়ান রকিজ’র একটি প্রত্যন্ত লজে বাকি নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জেলেনস্কিকে স্বাগত জানান এবং ইউক্রেনের জন্য ড্রোন ও হেলিকপ্টারসহ ২ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (১.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) সামরিক সহায়তা ঘোষণা করেন।

কিন্তু জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করতে পারেনি ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কানাডিয়ান কর্মকর্তা বলেন, ‘আমেরিকানরা পরিস্থিতিকে হালকা করে তুলতে চাইছে।’

কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু ভাষার আপত্তি জানিয়ে বলেছে যে তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তাদের ভূমিকা বজায় রাখতে চায়।’

কার্নি দ্বন্দ্বের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, সমস্ত জি-৭ নেতারা ‘রাশিয়ার ওপর সর্বাধিক চাপ প্রয়োগের জন্য সকল বিকল্প অন্বেষণে দৃঢ়’ হতে সম্মত হয়েছেন, যার মধ্যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত।

জি-৭ নেতারা সোমবার ইরান সংঘাতের ওপর একটি যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হন যা ইসরাইলকে সমর্থন করে, তবে এতে ব্যাপকভাবে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানানো হয়।

কার্নি এর আগে রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া জাহাজের বহরের ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের সাথে যোগ দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হত।

প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন ‘এই নিষেধাজ্ঞাগুলো পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত করে।’

মার্কিন আইন প্রণেতারা রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার একটি প্যাকেজ তৈরি করেছেন কিন্তু ট্রাম্প পুতিনকে সমর্থন দিতে বা বিচ্ছিন্ন করতে দ্বিধা করছেন। পুতিনের সঙ্গে জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে টেলিফোনে কথা হয় তার।

মার্কিন সাহায্যের প্রতি অকৃতজ্ঞতার উল্লেখ করে  ট্রাম্প ২৮ ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেন। তবে পুতিন অন্তত একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তিনি তারপর থেকে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন।

আবেগাপ্লুত হয়ে জেলেনস্কি কার্নিকে বলেন, রাশিয়ার সর্বশেষ আক্রমণ একটি ‘বড় ট্র্যাজেডি’। মিত্রদের সমর্থনের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে বলেন, তিনি এখনও ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আলোচনার আহ্বানকে সমর্থন করেন।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যতক্ষণ না রাশিয়া শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের শক্তিশালী থাকা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যেআমরা শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। এর জন্য আমাদের চাপ প্রয়োজন।’

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বিশ্বব্যাপী মনোযোগকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর মারাত্মক হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন।

ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরও রাশিয়ার হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। -বাসস

নিউজজি/পিএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers