শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ , ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

বিদেশ

‘শ্রমিকদের উদ্ধার মানবতার বিস্ময়কর উদাহরণ’

নিউজজি ডেস্ক ২৯ নভেম্বর , ২০২৩, ১৬:৪২:৫২

93
  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: ভারতের উত্তরাখন্ডে টানেলে আটকা পড়ার ১৭দিন পর মঙ্গলবার রাতে ৪১ শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা ও প্রচেষ্টার পর তাদের উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী দল। এই ঘটনাকে মানবতার বিস্ময়কর উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মোদি বলেন, উত্তরকাশীতে আমাদের শ্রমিক ভাইদের উদ্ধার অভিযানের সাফল্য সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে।

মোদি বলেন, সুড়ঙ্গে আটকে পড়া বন্ধুদের বলতে চাই আপনাদের সাহস ও ধৈর্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করছে। আমি আপনাদের সকলের মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা খুবই তৃপ্তির বিষয় যে দীর্ঘ অপেক্ষার পর আমাদের বন্ধুরা এখন তাদের প্রিয়জনের সাথে দেখা করতে পারবে। এই প্রতিকূল সময়ে এই সমস্ত পরিবার যে ধৈর্য ও সাহস দেখিয়েছে সেটি প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না।

মোদি বলেন, উদ্ধার অভিযানের সাথে জড়িত সকল মানুষেকে আমি সালাম জানাই। তাদের সাহসিকতা ও দৃঢ়তা আমাদের শ্রমিক ভাইদের নতুন জীবন দিয়েছে। এই মিশনের সাথে জড়িত প্রত্যেকেই মানবতা এবং দলবদ্ধতার বিস্ময়কর উদাহরণ স্থাপন করেছে।

ভারতের সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'সিল্কিয়ারা টানেল ধসে ৪১ জন আটকে পড়া শ্রমিককে সফলভাবে উদ্ধার করায় আমি খুশি। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ধার অভিযানগুলোর একটি।'

ভারতে দীর্ঘ ১৭ দিন উদ্ধার করা হয়েছে টানেলে আটকে পড়া শ্রমিকদের। পাহাড়ের নিচ দিয়ে তৈরি হওয়া এই টানেলে গত ১২ নভেম্বর ধস নামে। এরপর থেকে সেখানে আটকে রয়েছেন ৪১ জন শ্রমিক। আধুনিক নয়, আদিম ও বিপজ্জনক ‘ইঁদুর খোঁড়া পদ্ধতি’ ব্যবহার করে তাদের কাছে পৌঁছন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। প্রথম সদস্যকে বের করা হয় ভারতীয় সময় ৭টা ৪৯ মিনিটে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাইকে একে একে বের করে আনা হয়।

ভারত ও অন্যান্য দেশের উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা এই অভিযানে অংশ নেন। শুরু থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে নেয়া বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অনেকটা খনন করার পর ভেঙে যায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা যন্ত্র। এরপর ধরে নেয়া হচ্ছিল যে, শ্রমিকদের উদ্ধারে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। তবে অবশেষে মঙ্গলবার সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাইপ বসানোর কাজ শেষ করেন উদ্ধারকারীরা। এরপর টানেলের ভেতর পৌঁছান উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

খবরে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আধুনিক পদ্ধতি বাতিল করা হয়। কাজে লাগানো হয় ‘ইঁদুর খোঁড়া পদ্ধতি’। ইঁদুরের মতো গর্ত খনন করে বসানো হয়েছে পাইপ। যন্ত্রের পরিবর্তে খননকাজ চালানো হয়েছে হাত দিয়ে।

নিউজজি/এস দত্ত

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন