রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯ , ৭ রজব ১৪৪৪

বিদেশ

অমিতের বিতর্কিত প্রচারের পর যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্য

নিউজজি ডেস্ক ৩ ডিসেম্বর , ২০২২, ১৫:১৫:৪৬

47
  • ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উস্কে দিয়েছেন গুজরাত হিংসার স্মৃতি।  দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, এটা রামভক্তদের জন্মভূমি।  পিছিয়ে নেই আসামের মুখ্যমন্ত্রীও। তার দাবি, হিন্দুরা হিংসায় অংশ নেয় না। পরপর এমন মন্তব্য কেন? উত্তরটা সহজ, ভোট চলছে নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাতে।

বিধানসভা দখলে মরিয়া তার দল। আর তাই নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। ভোটের বাজারে বিজেপির এই উগ্র হিন্দুত্ব ও মেরুকরণের রাজনীতি নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। 

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) এ প্রসঙ্গে দিল্লিতে নিযুক্ত অন্তর্বর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত এলিজাবেথ জোনস সাফ জানালেন, ‘ভারতের ভোটের প্রচারপর্বে সাম্প্রদায়িক ঘৃণার বশে ধর্মীয় উস্কানি ভীষণ উদ্বেগের বিষয়। এ নিয়ে ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।’

মোদি সরকারের আমলে এদেশে ধর্মীয় অসহিঞ্চুতা, মানবাধিকার ও বাক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে বারবার সরব হতে দেখা গিয়েছে আমেরিকাকে। যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। সেই তালিকায় এবার নয়া সংযোজন ভোটের প্রচারে ধর্মীয় উস্কানি।

প্রথম দফার ভোটপ্রচারের শেষবেলায় অমিত শাহ সচেতনভাবে দাবি করেছিলেন, ‘২০০২ সালে ওদের উচিত শিক্ষা দিয়েছি। গুজরাতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’ কাদের দিকে ইঙ্গিত? বুঝতে অসুবিধা হয় না ওই হিংসার জন্য মুসলিমদেরই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।

শাহি মন্তব্যে বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেন, ‘জেহাদে বিশ্বাসী নয় হিন্দুরা।’ আর প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্য, গুজরাত হল ‘রামভক্তদের ভূমি’। এসব নিয়েই এদিন সরব হন এলিজাবেথ।

যদিও কেন তিনি এমন বলছেন, তার ব্যাখ্যা দেননি। শুধু বলেছেন, ‘ভারতীয় আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টিতে (ধর্মীয় উস্কানি) আমাদের আলোচনা চলছে। আগেও বিষয়টি আমরা তুলেছি। ভবিষ্যতেও তার অন্যথা হবে না।’

ঘটনাচক্রে, গত মাসেই মার্কিন সরকারের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত কমিশনের (সিআইআরএফ) বার্ষিক রিপোর্টে বিজেপি সরকারের নীতিকে তুলোধোনা করা হয়। বলা হয়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার হাল সেই তিমিরেই। ধর্মান্তরকরণ, ভিন ধর্মে বিয়ে ও গোরক্ষার মতো বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতে গৃহীত সরকারি নীতিগুলির নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর। নিশানা বানানো হচ্ছে মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, দলিত ও আদিবাসীদের। 

সমালোচকদের কণ্ঠরোধে সরকারি মেশিনারির মাধ্যমে তাদের হেনস্তা করা হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে টানা হয় মহম্মদ জুবেইরের গ্রেপ্তারি ও হেফাজতে থাকাকালীন ফাদার স্ট্যান স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা।

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণে মৃত্যু, যৌন হেনস্তা, বাড়িঘর, এমনকী ধর্মীয় স্থানও ভেঙে দেওয়ার ঘটনার সমালোচনা করা হয়। যদিও সেই রিপোর্ট মিথ্যা বলেই দাবি করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এবার গুজরাত ভোটে ধর্মীয় উস্কানির রমরমা নিয়েও আমেরিকা উদ্বেগ প্রকাশ করা অস্বস্তি আরও বাড়ল মোদি সরকারের।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন