মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ , ১৫ শাওয়াল ১৪৪৩

Untitled Document
বিদেশ

বিশ্বে বছর শেষে বেকার সংখ্যা বাড়বে ২০ কোটি ৭০ লাখ

নিউজজি ডেস্ক ১৮ জানুয়ারি , ২০২২, ২১:১১:৫৭

107
  • বিশ্বে বছর শেষে বেকার সংখ্যা বাড়বে ২০ কোটি ৭০ লাখ

ঢাকা : টানা দুই বছর ধরে করোনার বিস্তার এবং নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ২০২২ সাল শেষে বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে হবে ২০ কোটি ৭০ লাখে। মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ২ কোটি ১০ লাখ বেশি। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানের অবস্থা তুলানামূলক ভালো থাকবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলওর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারির প্রভাবে ব্যাপকভাবে ব্যাহত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কর্মসংস্থান। এতে বিভিন্ন দেশে অর্থনীতির রেকর্ড মন্দায় বাধাগ্রস্ত হয় ব্যবসা বাণিজ্য। খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে ছোট বড় সব প্রতিষ্ঠানকেই। ফলে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে বেকারের সংখ্যা। দফায় দফায় করোনার নতুন ধরনের প্রভাব এই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ২০২২ সালের ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল আউটলুক’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনার ধাক্কায় ২০২২ সাল শেষে বিশ্বে বেকারের সংখ্যা বেড়ে হবে ২০ কোটি ৭০ লাখ। যা মহামারি শুরুর আগের বছর ২০১৯ সালের চেয়ে ২ কোটি ১০ লাখ বেশি। আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় ৪ কোটি ৪০ লাখ লোক বেকার থেকে যাবে। এর মানে, সারা বিশ্বের বেকারদের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন হবে দক্ষিণ এশীয়।

যথেষ্ট দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও মনমতো কাজ পাচ্ছেন না দক্ষিণ এশিয়ার ৭ কোটি ৮৯ লাখ তরুণ-তরুণী। জীবিকার তাগিদে অপেক্ষাকৃত কম মজুরির কাজ করছেন তারা। আইএলও বলছে, ২০২২ সালে চার কোটি মানুষ শ্রমবাজারে আর থাকবেই না। এছাড়াও এ বছর সোয়া ৫ কোটি চাকরির সমান কর্মঘণ্টা কমবে বলে জানায় সংস্থাটি।

আইএলওর সংজ্ঞামতে, কাজ খুঁজছেন, কিন্তু সপ্তাহে এক ঘণ্টাও মজুরির বিনিময়ে কাজ করতে পান না, এমন ব্যক্তিকে বেকার হিসাবে ধরা হয়।

আইএলওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন কর্মোপযোগী মানুষের মধ্যে তিনজন মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন। তবে তাদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ পর্যাপ্ত মজুরি পান না। তারা নিজ নিজ দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাও চাহিদামতো পান না। পছন্দমতো ও শোভন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করাই এখন বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে ও মনে করে সংস্থাটি। মহামারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারও টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। মহামারির গতিপথ ও সময়কাল সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চাকরির বাজারে এই অনিশ্চয়তা থাকবে বলে আশঙ্কা করছে আইএলও। যেখানে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও কমতে পারে বলে ধারণা সংস্থাটির।

আইএলওর প্রতিবেদনে বিশ্বের কোন অঞ্চলে এ বছর বেকার কত থাকবে, তার বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বেকার থাকবে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। এই অঞ্চলে ৯ কোটি ৫০ লাখ বেকার থেকে যাবে। এই হিসাবের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বেকাররাও রয়েছে। এরপর আফ্রিকায় ৪ কোটি ৪১ লাখ বেকার থাকবেন। এছাড়া লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ২ কোটি ৬৪ লাখ, ইউরোপে ২ কোটি ২০ লাখ, উত্তর আমেরিকায় ৭৬ লাখ, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৪৮ লাখ, কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম এশিয়ায় ৭৩ লাখ বেকার থাকবেন।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন