বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩১ ভাদ্র ১৪২৮ , ৭ সফর ১৪৪৩

বিদেশ

সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশই টিকা নিয়েছিলেন

নিউজজি ডেস্ক ২৪ জুলাই , ২০২১, ১৭:৩৪:১৬

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে গত দেড় বছর বেশ ভালোভাবেই এই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আসা দেশ সিঙ্গাপুরে গত চার সপ্তাহ ধরে বাড়ছে প্রাণঘাতী এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৬ জন।

সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আক্রান্ত এই রোগীদের ৪৪ শতাংশই করোনা টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন এবং টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন ৩০ শতাংশ। বাদবাকি মাত্র ২৫ শতাংশের কিছু বেশি রোগী এখন পর্যন্ত টিকার কোনো ডোজ গ্রহণ করেননি।

নতুন আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশই করোনার মৃদু উপসর্গে ভুগছেন। তবে, তাদের মধ্যে মধ্যে ৭ জনকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে এবং একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়া তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

এই আটজনই করোনা টিকার একটি ডোজ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, দেশটিতে করোনা সংক্রমণের সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বমূখি প্রবণতা কোনোভাবেই এমন ধারণা উপস্থাপন করে না যে টিকাদান কর্মসূচি অসফল।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘নতুন আক্রান্ত করোনা রোগীদের অধিকাংশই করোনা টিকা নিয়েছিলেন- তার মানে কিন্তু এই নয় যে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা কম।’

‘সিঙ্গাপুরে যদি ব্যাপকভাবে টিকাদান না করা হতো, তাহলে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকগুণ বেশি হতো এবং গুরুতর অসুস্থ ও মৃত্যুর হারও থাকত অনেক ওপরে।’

সিঙ্গাপুরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, সম্প্রতি দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও তা যে ব্যাপকমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে না এবং আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন – তার প্রধান কারণ, ইতোমধ্যে দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের অধিকাংশকেই টিকার আওতায় আনা গেছে।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের জনস্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তিও ইক ইং বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ সম্পর্কে বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা উচিত। অন্তত যতদিন পর্যন্ত দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকার আওতায় আনা সম্ভব না হয়।’

‘সরকার যদি দেশের শতভাগ প্রাপ্তবয়স্ক জনগণকে টিকার আওতায় আনতে পারে তাহলে সংক্রমণ এমনিতেই হ্রাস পাবে। তারপরও যারা আক্রান্ত হবেন তাদের শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে আমারা জানতে পারব, টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসটি ঠিক কতখানি বিপজ্জনক হতে পারে।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা হাসপাতালের সংক্রামক রোগ চিকিৎসক ও অনজীববিদ্যা (মাইক্রোবায়োলজি) বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পিটার কলিগনন সিঙ্গাপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ধরন ডেল্টার প্রভাবে বিশ্বজুড়েই বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং গবেষণায় ইতোমধ্যে এটি প্রমাণিত যে, ডেল্টা করোনা টিকার ডোজ ফাঁকি দিতে সক্ষম।’

‘সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি করোনার যে উল্লফন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা ঘটছে ডেল্টার প্রভাবে। এ কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে টিকার নেওয়ার পরও কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। যেমন- মাস্ক পরা, হাত-পা পরিস্কার রাখা ইত্যাদি।’

দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় সিঙ্গাপুরে সাম্প্রতিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নেহাতই নগণ্য মনে হলেও, দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য এই পরিসংখ্যান একটি বড় ধাক্কা। কারণ, মহামারির প্রথম পর্যায় থেকেই সাফল্যের সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে দেশটির সরকার। চলতি বছরের ১০ জুলাই সিঙ্গাপুরে করোনায় নতুন আক্রান্ত কোনো রোগী ছিল না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের ৫ কোটি ৭০ লাখ নাগরিকদের ৭৫ শতাংশই করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ গ্রহণ করেছেন। মোট জনসংখ্যাকে টিকার আওতায় আনার হিসেবে বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর। এ তালিকায় শীর্ষে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

তবে কম বয়সীদের তুলনায় বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে টিকা গ্রহণকারীর হার তুলনামূলকভাবে কম সিঙ্গাপুরে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বয়স্ক নাগরিকদের ৭১ শতাংশ করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন; কম বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি সরকার আরো বেশিসংখ্যক বয়স্ক নাগরিককে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : রয়টার্স।

নিউজজি/ এস দত্ত

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers