শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ , ১৪ জুমাদাউস সানি ১৪৪৭

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

উইন্ডোজ ক্র্যাশ সমস্যা সমাধানের ৫ উপায়

নিউজজি ডেস্ক ১১ নভেম্বর , ২০২৫, ১৪:৩১:৩৮

132
  • ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে উইন্ডোজ পিসি আগের উইন্ডোজ ৭-এর তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ (বিএসওডি) এখন খুব কম দেখা যায়। তবু সফটওয়্যার আপডেট না থাকা, ড্রাইভার সমস্যা বা হার্ডওয়্যার ত্রুটির কারণে ক্র্যাশের ঘটনা এখনও ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু দ্রুত সমাধান জানা থাকলে ব্যবহারকারীরা পেশাদার সাহায্য ছাড়াই নিজেদের পিসি পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেক ইউজ অব (এমইউও) অবলম্বনে দেখে নেয়া যাক একটি উইন্ডোজ ক্র্যাশের পর কীভাবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে তা পুনরুদ্ধার করা যায়—

ইভেন্ট ভিউয়ার ও মিনিডাম্প ফাইল চেক করা

উইন্ডোজ ক্র্যাশ হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে লিপিবদ্ধ হয়। ইভেন্ট ভিউয়ার ক্র্যাশের আগে ঘটানো ত্রুটি ও সতর্কবার্তা দেখায়, আর মিনিডাম্প ফাইল ড্রাইভার বা সিস্টেম ফাইলের সমস্যার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করে। ইভেন্ট ভিউয়ার খুঁজতে স্টার্ট মেনুতে ‘Event Viewer’ টাইপ করে Windows Logs > System-এ যেতে হয়, যেখানে লাল চিহ্নিত গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটিগুলো দেখা যায়। মিনিডাম্প ফাইলগুলো C:WindowsMinidump-এ থাকে। Blue ScreenView-এর মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করে এই ফাইলগুলোকে সহজভাবে বিশ্লেষণ করা যায় এবং ক্র্যাশের মূল কারণ, যেমন ভাঙা ড্রাইভার বা সমস্যা থাকা সিস্টেম ফাইল, শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

বিল্ট-ইন কমান্ড-লাইন টুল ব্যবহার করা

উইন্ডোজে কিছু কমান্ড-লাইন টুল রয়েছে, যা সিস্টেম ফাইল ও ডিস্ক সমস্যা ঠিক করতে সাহায্য করে। প্রথমে DISM ব্যবহার করে উইন্ডোজ কম্পোনেন্ট ঠিক করতে হবে, যা পরে SFC ব্যবহার করে সিস্টেম ফাইল মেরামত করতে সাহায্য করে। যদি সমস্যা থাকে, তবে ডিস্ক চেক করার জন্য Check Disk ব্যবহার করতে হবে। এ টুলগুলো কেবল ক্র্যাশ সমাধানই নয়, উইন্ডোজ ধীরগতিতে কাজ করলে বা কোনো ফিচার ঠিকমতো না চললে সেটাও ঠিক করতে সাহায্য করে।

সেফ মোডে বুট করা

যদি উইন্ডোজ বারবার ক্র্যাশ করে বা ঠিকমতো চালু না হয়, সেফ মোডে প্রবেশ করা সহায়ক। এই মোডে কেবল প্রয়োজনীয় ড্রাইভার ও সার্ভিসগুলো চালু থাকে, যা সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করা সহজ করে।

সেফ মোডে যাওয়ার জন্য পিসি চালু হলে কয়েকবার পাওয়ার বাটন চেপে বন্ধ করতে হবে। এরপর Troubleshoot > Advanced options > Startup Settings > Restart থেকে সেফ মোড নির্বাচন করতে হবে। এখানে সমস্যাজনিত প্রোগ্রাম আনইনস্টল করা, সাম্প্রতিক উইন্ডোজ আপডেট মুছে ফেলা বা ড্রাইভার রোলব্যাক করাও সহজ হয়।

BIOS এবং গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভার আপডেট করা

পুরনো BIOS বা চিপসেট ড্রাইভারও উইন্ডোজ ক্র্যাশের বড় কারণ হতে পারে। msinfo32 কমান্ড ব্যবহার করে BIOS-এর ভার্সন পরীক্ষা করতে হবে এবং মাদারবোর্ড নির্মাতার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী BIOS আপডেট করা উচিত। পাশাপাশি চিপসেট, স্টোরেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভারও আপডেট করা জরুরি। অপ্রয়োজনীয় USB ডিভাইস আলাদা করলে ক্র্যাশের সুনির্দিষ্ট কারণও সহজে চিহ্নিত করা যায়।

মেমোরি ও স্টোরেজ পরীক্ষা করা

কিছু ক্র্যাশ সফটওয়্যার সমস্যা নয়, হার্ডওয়্যার ত্রুটির কারণেও হতে পারে। র‍্যাম পরীক্ষার জন্য MemTest86 ব্যবহার করা যায়। হার্ড ডিস্কের অবস্থা যাচাই করতে CrystalDiskInfo সফটওয়্যার বা কমান্ড প্রম্পটের wmic diskdrive get model, status কমান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। যদি র‍্যাম বা ডিস্কে সমস্যা ধরা পড়ে, তা প্রতিস্থাপন করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত ডেটার ব্যাকআপ রাখা ক্র্যাশের সময় ডেটা নিরাপদ রাখার জন্য অপরিহার্য।

 

মাইক্রোসফট Quick Machine Recovery-এর মতো স্বয়ংক্রিয় টুলও সরবরাহ করছে, যা ক্র্যাশের পর ঠিকঠাক ফিক্স ডাউনলোড করে এবং মেমোরি পরীক্ষা চালায়। তবু লগ চেক করা, কমান্ড চালানো, ড্রাইভার আপডেট করা ও হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করার মতো ক্ল্যাসিক ধাপগুলো এখনো কার্যকর এবং এগুলো ব্যবহারকারীর পিসি দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন