শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ , ১৭ রমজান ১৪৪৭

খেলা
  >
ফুটবল

অনেক সুযোগ নষ্ট করে হেরেই গেল বাংলোদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক ১০ জুন , ২০২৫, ২১:৫২:৫৯

230
  • ছবি: ইন্টারনেট

এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে নিজেদের ঠিক চেনাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। এ সুযোগে গোলও হজম করতে হয় লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই লড়াইয়ের আভাস দেয় স্বাগতিকরা। তবে নিজেদের ভুলে আবারও গোল হজম করতে হয় দলটির। এরপরেই যেন জেগে ওঠে হাজমা চৌধুরীরা। জালের দেখাও পায়।  তাই ম্যাচে ফেরার আভাসও দেয় তারা। অসংখ্য সুযোগ পায়ও পায়। শেষ দিকে একাধিক কর্ণারও আদায় করে নেয়। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গে না থাকায়  শেষ পর্যন্ত হার সঙ্গী করেই ফিরতে হয়েছে বাংলাদেশের। 

জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে ভারত। তাতে ৪ করে পয়েন্ট হংকং ও সিঙ্গাপুরের। ১ করে পয়েন্ট বাংলাদেশ ও ভারতের।

ভারতের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে বাছাই শুরু করায় সিঙ্গাপুর ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার হামজা চৌধুরীর সাথে কানাডার লিগ খেলে আসা শোমিত সোম এবং ইতালির সেরি ডি’তে খেলা ফাহামিদুল ইসলাম যোগ হওয়ায় প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে প্রত্যাশার সাথে পারফরম্যান্সের সম্মিলন হলো না। ফলে ১০ বছর পরের দেখায়ও হারের তেতো অভিজ্ঞতাই হলো বাংলাদেশের।

ঘরের মাঠে খেলা। স্টেডিয়াম দর্শকে ভরা। শুরু থেকেই তাদের উৎসাহে শরীরী ভাষায় আক্রমনাত্মক ছিল বাংলাদেশ। তাই সিঙ্গাপুরকে অনেকটা সময় আটকে রাখে স্বাগতিকরা। তবে আক্রমণের তোড়ে অর্ধের একেবারে শেষ দিকে একটি গোল হজম করে বসে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। হারিসের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল উচুঁতে উঠে যায়, মিতুল পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে ফিস্ট করলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি, বল চলে যায় হ্যারিসের পায়ে। তার ক্রস থেকে সাইড ভলিতে জাল খুঁজে নেন উই-ইয়াং। হামজা ছুটে গিয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি, বল আগেই পেরিয়ে যায় গোললাইন। তাতে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

একটি পরিবর্তন এনে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে বাংলাদেশ। রাইট উইংয়ে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হওয়া কাজেমকে তুলে শাহরিয়ার ইমনকে নামান কাবরেরা। তাতে খেলার গতি বাড়বে কী, উল্টো ৫৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় সিঙ্গাপুর। হামি শাহিনের জোরাল শট মিতুল ফিস্ট করার পর বল চলে যায় ফান্দির পায়ে। মোহাম্মদ হৃদয় পারেননি প্রতিরোধ গড়তে, ফান্দির শটে বলে হৃদয়ের পায়ের ফাঁক গলে দূরের পোস্ট দিয়ে জড়ায় জালে। যে কারনে স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারি। 

স্তব্ধ গ্যালারিতে উন্মাদনা ফিরে ৬৭তম মিনিটে। হামজা আবারও দেখালেন তার ঝলক। এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের থ্রু পাস ধরে শট নেন রাকিব। সিঙ্গাপুর গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বলের গতি কমে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা পেরিয়ে যায় গোললাইন।

একটু পর শাকিল আহাদ ও হৃদয়কে তুলে শেখ মোরসালিন ও আল আমিনকে নামান কাবরেরা। ৭৭তম মিনিটে হামজার বাঁকানো ফ্রি কিক কর্নারে ক্লিয়ার করে সিঙ্গাপুর। মোরসালিনের কর্নারও কাজে আসেনি। সমতায় ফিরতে মরিয়া বাংলাদেশ ৮২তম মিনিটে সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ বাড়াতে থাকে। কিন্তু টানা চারটি কর্নারের কোনোটাই কাজে লাগাতে পারেনি দল। 

এমনকি শেষ সেকেন্ডেও দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। শাহরিয়ার ইমনের অসাধারণ হেডটি কোনোমতে মাঠের বাইরে পাঠান সিঙ্গাপুরের গোলকিপার। তখনই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

হামজা চৌধুরী, রাকিব হোসেন, শমিত সোমরা ভালো খেলেছেন। সিঙ্গাপুরের চেয়ে সুযোগও বেশি তৈরি করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু দারুণ উত্তেজনা ছড়ানো আর রোমাঞ্চ উপহার দেওয়া ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত ১–২ গোলে হেরেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন