মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ , ১১ জিলহজ ১৪৪৫

খেলা
  >
ক্রিকেট

এই প্রথম ১০ উইকেটের জয় দেখল বাংলাদেশ

শামীম চৌধুরী ২৩ মার্চ , ২০২৩, ১৮:৫০:৪৪

33
  • রানের জন্য ছুটছেন লিটন-তামিম। ছবি-ক্রিকইনফো

আয়ারল্যান্ড : ১০১/১০ (২৮.১ ওভারে)

বাংলাদেশ : ১০২/০ (১৩.১ ওভারে)

ফল : বাংলাদেশ ১০ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ)।

ম্যান অব দ্য সিরিজ : মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)।

সিলেটে ওডিআই ম্যাচ মানেই রেকর্ডের পর রেকর্ড, উৎসব করবে স্বাগতিক দল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তা আর একবার জেনে গেছে ক্রিকেট বিশ্ব। এক সিরিজে সর্বোচ্চ দুটি স্কোর, পর পর দুই ম্যাচে ৩৩৮/৮, ৩৪৯/৫!

প্রথম ম্যাচে ১৮৩ রানে জিতে রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয় দেখেছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে দেখল উইকেটের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়। এতদিন ৯ উইকেটে ৫টি জয় ছিল সর্বোচ্চ। ছিল না কোনো ১০ উইকেটের জয়।

সেই রেকর্ডটা প্রথম দেখল তামিমরা এবার। হাসান মাহমুদের ভয়ংকর বোলিংয়ে (৫/৩২) ১০১ রানে অল আউট করে সহজ জয় তুলে নিতে তামিম-লিটনের ওপেনিং পার্টনারশিপ যথেষ্ট হয়েছে। ২২১ বল হাতে রেখে ১০ উইকেটে জিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ তে সিরিজের ট্রফি ঘরে রাখল বাংলাদেশ দল। 

আইরিশ বোলারদের বাগে পেয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২টি স্কোরে তৃতীয় ম্যাচে আরো বেশি স্কোরে হাত নিশপিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের।

সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করলে টার্গেট থাকবে ৪শ’ স্কোর-এই লক্ষ্যটা ছিল নির্ধারিত। বাংলাদেশ বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের এই ঘোষণা শুনে ভয় পেয়েছে আয়ারল্যান্ড।

ঝির ঝির বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া আউট ফিল্ড এবং স্যাঁতসেতে উইকেট দেখেও নিয়েছে তারা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। তাতেই বুমেরাং হয়েছে আয়ারল্যান্ডের। সিমিং কন্ডিশনের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পাশে (৫/৩২ ), তাসকিন আহমেদ (৩/২৬ ) এবং এবাদতের (২/২৯ ) বোলিংয়ে ছিন্ন ভিন্ন হয়েছে আয়ারল্যান্ড।

১০১/১০ স্কোরে গেছে উড়ে। ব্যাটারদের মহা ছন্দের পর বোলাররাও ফিরেছেন রিদমে। এর আগে ২০০৯ সালে চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়েকে ৪৪ রানে এবং একই ভেন্যুতে ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অল আউট করে সর্বনিম্ন ২টি স্কোরের অপবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটের রাণবন্যার উইকেটে আয়ারল্যান্ডকে এবার বাংলাদেশ দল তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোরের লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ। 

হাসান মাহমুদের প্রথম স্পেলে (৬-১-২৩-৩) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে (২৭/৪) ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যে পড়েছে আয়ারল্যান্ড। সেই দুর্যোগ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে আয়ারল্যান্ডের ৫ম উইকেট জুটি। এই জুটির ৪২ রানে সম্মানজনক স্কোরের প্রত্যাশা ছিল আয়ারল্যান্ডের।

তবে এবাদতের পর পর দুই ডেলিভারিতে টাকার (৩১ বলে ২৬) ইয়র্কারে এলবিডাব্লুউ এবং ডকরেল (১ বলে ০)সুইং ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে হয়েছেন হতভম্ব। প্রথম স্পেলে (৫-০-১১-১) আইরিশ অধিনায়ক বালব্রিনিকে (১৮ বলে ১৬) ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিলেন তাসকিন। দ্বিতীয় স্পেলে (৫-১-১৬-২) আরও ভয়ংকর বোলিং করেছেন তিনি। তার এক ওভারে এক বলের ব্যবধানে ম্যাকব্রিন মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ (৭ বলে ১), ১৩৯ কিলোমিটার গতির বলে এডেয়ার হয়েছেন বোল্ড (৩ বলে ০)।

২০২১ সালে ওয়ানডে অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুরে ৩/২৮ ছিল হাসান মাহমুদের ইতোপূর্বের সেরা বোলিং। নিজের সেই সেরা বোলিং ছাড়িয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) প্রথমবারের মতো পেয়েছেন ৫ উইকেটের দেখা (৫/৩২)। দ্বিতীয় স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য হয়েছেন ক্যাম্পার (৪৮ বলে ৩৬)।

দ্বিতীয় স্পেলের তৃতীয় ওভারে আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে পরাস্ত হিউমের(১৯ বলে ৩) বিপক্ষে এলবিডাব্লুউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেন তামিম। রিভিউ আপীলে হক আই পরীক্ষা করে এলবিডাব্লুউ দিয়েছেন টিভি আম্পায়ার। 

হোমে যেখানে স্পিনাররা ছড়ান আতঙ্ক, সেখানে বৃহস্পতিবার সাকিব, মিরাজকে করতে হয়নি একটিও বল। আর এক বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম করেছেন ৩ ওভার বোলিং। বাকি ২৫.১ ওভার বোলিং করেছেন বাংলাদেশের তিন পেসার। ১০টি উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন তিন পেস বোলার।

১০২ রান চেজ করতে এসে ছন্দে ফিরেছেন তামিম। হাম্পফায়ার্সকে ২টি ছক্কায় এদিন মাতিয়েছেন সিলেট স্টেডিয়াম। ফিফটিও পেতে পারতেন তামিম। তবে  লিটনকে দিয়েছেন ফিফটি করার সুযোগ। হ্যামফায়ার্সকে ১৩তম ওভারে পর পর ২টি বাউন্ডারিতে ৩৭ বলে পূর্ণ করেছেন লিটন হাফ সেঞ্চুরি (৩৮ বলে ১০ চার-এ ৫০*), তামিম ছিলেন ৪১ বলে ৪১ রানে অপরাজিত।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন