মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ , ১১ জিলহজ ১৪৪৫

খেলা
  >
ক্রিকেট

হাসান মাহমুদের ৫ উইকেট, আয়ারল্যান্ড গুটিয়ে গেল ১০১ রানে

ক্রীড়া ডেস্ক ২৩ মার্চ , ২০২৩, ১৬:৫৮:৩৭

226
  • ছবি: ইন্টারনেট

বল হাতে শুরু থেকেই বৃহস্পতিবার দুর্দান্ত ছিলেন হাসান মাহমুদ। নিয়মিত এ পেসার আয়ারল্যান্ড ব্যাটারদের ফেলছিলেন বড় পরীক্ষায়। সাফল্যও পাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এ ডানহাতি ক্যারিয়ারে পেয়ে গেলেন প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট। তার আগুনঝরা বোলিংয়ের কারণে আইরিশরা বেশিদুর এগোতে পারেনি। মাত্র ১০১ রানেই গুটিয়েই গেছে। 

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বৃহস্পতিবার টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ।  এ সুযোগে  বল হাতে শুরু থেকেই আয়ারল্যান্ড ব্যাটারদের পরীক্ষায় ফেলেন হাসান মাহমুদ-তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। তাদের কারণেই মাত্র ১০১ রানেই গুটিয়ে গেছে তারা। 

হাসান মাহমুদ ৮.১ ওভার বল করে ৩২ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তাসকিন ১০ ওভারে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এছাড়া ২৯ রানে ২টি উইকেট নিয়েছেন এবাদত। প্রথমবারের মতো কোনো ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট গেছে বাংলাদেশের পেসারদের ভাগে। এর আগে ইনিংসে পেসারদের নেওয়া সর্বোচ্চ উইকেট ছিল ৯টি। 

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই বল হাতে আগুন ঝরান হাসান মাহমুদ। পঞ্চম ওভারে তার হাত ধরে সাফল্যের শুরু টিম টাইগার্সের। সে সময় এ পেসার উইকেটে পেছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফিরিয়ে দেন ডোহেনিকে। এরপর নবম ওভারে আক্রমণে ফিরে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন হাসান। এবার তার ইন সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল ব্যাটে খেলতে পারেননি স্টার্লিং, সরাসরি তার প্যাডে আঘাত হানে। তাতে হাসানের আবেদনে সাড়া দিতে খুব একটা সময় নেননি আম্পায়ার। সাজঘরে ফেরারা আগে ১২ বলে ৭ রান করেছেন এই অভিজ্ঞ ওপেনার।

স্টার্লিং ফেরার দুই বল পর আবারও আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার হ্যারি ট্যাক্টর। পরের ওভারে আক্রমণে এসে হাসানের সঙ্গে 'উইকেট পার্টিতে' যোগদেন তাসকিন আহমেদ। ওভারের দ্বিতীয় বলটি খানিকটা শর্ট লেন্থে ফেলে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বের করে নিয়েছিলেন তাসকিন, সেখানে ফুটওয়ার্ক ছাড়াই জায়গায় দাঁড়িয়ে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন অ্যান্ডি বার্লবির্নি। 

দলীয় রান ত্রিশ পেরোনোর আগেই টপ অর্ডার ব্যাটারদের হারিয়ে যখন ধুঁকছিল আয়ারল্যান্ড, তখন টাকারকে সঙ্গে দলের হাল ধরেন কুর্টিসব ক্যাম্পার। তাদের দৃঢ়তায় আইরিশরা আর কোনো উইকেট না হয়ারিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করে। এরপরের গল্পটা শুধুই বাংলাদেশি পেসারদের। সিলেটে এদিন রীতিমতো রাজত্ব করেছেন তারা। 

তবে টাকারকে খুব বেশি দূর এগোতে দেননি এবাদত হোসেন। ১৯তম ওভারের আক্রমণে এসে তাসকিন-হাসানদের সঙ্গে 'উইকেট পার্টিতে' যোগ দেন এই পেসার। ওভারের পঞ্চম বলে লাইন মিস করেন টাকার, তাতে বল আঘাত হানে তার প্যাডে। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ২৮ রান করে এই ব্যাটার ফিরলে ভাঙ্গে ৪২ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। পরের বলে স্বপ্নের মতো এক ডেলিভারীতে তিনি ফেরান জজ ডকরেলকে।

এরপর ২২তম ওভারে আক্রমণে ফিরে জোড়া শিকার ধরেন তাসকিন। ওভারের প্রথম বলে নাসুমের হাতে ধরা পড়েন অ্যান্ডু ১ রান করা ম্যাকব্রাইন। এক বল পর সাজঘরে ফেরেন মার্ক অ্যাডায়ারও। এই অলরাউন্ডার অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টামে ডেকে এনে বোল্ড হয়েছেন। খেয়েছেন সিলভার ডাক। তাসকিনের জোড়া উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে ইনিংসে বোলিং করা বাংলাদেশের তিন পেসারই জোড়া শিকারের স্বাদ পেয়েছেন। আর তাদের তোপের মুখে ২২ ওভারে ৭৯ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়েছে আইরিশরা। 

বাকি ব্যাটাররা আসা-যাওয়ার মিছিলে থাকলেও এদিন ব্যাতিক্রম ছিলেন ক্যাম্পার। এই অলরাউন্ডার এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে খুব একটা পথ হাটতে পাড়েননি। থামতে হয়েছে ৩৬ রানে। শেষ পর্যন্ত ২৮ ওভার ১ বল খেলে ১০১ রানে অলআউট হয়েছে আয়ারল্যান্ড।

নিউজজি/সিআর 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন