শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৩ সফর ১৪৪৮

খেলা

মেসি, তোমার কান্না আমাদেরও ছুঁয়ে যায়

মাঈনুদ্দীন দুলাল জুলাই ২০, ২০২৬, ১৬:৩১:১৫

236
  • মেসি, তোমার কান্না আমাদেরও ছুঁয়ে যায়

কিছু লোক আছে ফুটবল যতটা না উপভোগ করে তার চেয়ে বেশী দলকে সমর্থন করে। বলা যায় দল কানা। আর এক পক্ষ আছে তাদের দল আছে। দলের সমর্থনের চেয়েও বেশি উপভোগ করে খেলা।

ফাইনালে কাপ হারানোর পর মেসি’র অশ্রু সজল কপোল এই দু’পক্ষেরই চোখ আর্দ্র করেছে। কোনো প্রশ্ন ছাড়াই এই মুহূর্তে ফুটবল দুনিয়ায় মেসি সেরাদের সেরা। তাকে ছুঁতে পারার মত খেলোয়াড় এই সময়ে নেই। এমন খেলোয়াড় ও প্রতিভা বছর বছর জন্মায় না। সময় বহু কাল পর একজন পেলে, ম্যারাডোনা, মেসিকে তার গর্ভ থেকে উগড়ে দেয়। মেসির সব কৃতিত্বে চোখ বুলালে বোঝা যাবে সে কেন সেরাদের সেরা।

মেসি’র ঝুলিতে আছে রেকর্ড ৮টি ব্যালন ডি'অর, ৮টি ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার, ৬টি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট এবং ৪৪টি দলীয় শিরোপা।

আন্তর্জাতিক শিরোপা: আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ (২০২২), দুটি কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪) এবং ফাইনালিসিমা (২০২২) জয়।

ক্লাব ফুটবলে অর্জন: বার্সেলোনার হয়ে ১২টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ এবং পিএসজির হয়ে ২টি লিগ ওয়ান শিরোপা।

ব্যক্তিগত রেকর্ড: লা লিগায় সর্বোচ্চ ৪৭৪ গোল, ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অফিসিয়াল অ্যাসিস্ট এবং এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৭৩ গোল করার বিশ্বরেকর্ড।

এত রেকর্ড এখন পর্যন্ত কোন খেলোয়াড় অর্জন করেনি। কে কখন করবে বা করতে পারবে কিনা সময় ভালো জানবে। এজন্যে তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারও কেউ কেউ বলেন।

অবদমিত চোখের জল লুকানোও সম্ভব ছিলনা মেসি'র পক্ষে। সে আর কি করতে পরত? একক ক্যারিশমায় ৪০ প্রায় বয়সে টেনেটুনে ফাইনালে নিয়ে এল। সেই দলটি কেমন অগোছালো আর নিষ্প্রাণ খেলল! সকলেই যেন তাকিয়ে ছিল মেসির দিকে। মেসি কখন জাদু দেখাবে। কিন্তু মেসিকে স্পেনের খেলোয়াড়, কোচ, ফটবল গবেষকরা চেনে বার্সিলোনায় দীর্ঘসময় খেলার কারণে। সে কারণে তাকে বলা যায় লক করতে সুবিধা ছিল। মেসির সতীর্থরা যদি স্পেনকে ব্যতিব্যস্ত রাখতে পারত, তবে হয়ত মেসি তালা খুলে বের হতে পারত। খাঁচার বাঘ কি শিকার করতে পারে? তারপরও মেসিরা চেয়েছিল খেলাকে ট্রাইবেকারে নিয়ে যেতে। স্পেনের তরুণতুর্কীরা কম অভিজ্ঞতার কারণে হয়ত পেনাল্টি মিস করবে। অন্যদিকে অভিজ্ঞ আর্জেন্টাইনরা কম মিস করতে পারে।

এছাড়াও স্পেনের আগ্রাসন, গতি, গোল করার অদম্য ক্ষুধার কাছে আর্জেন্টিনা ছিল নিরীহ শিকার। স্পেন আর্জেন্টিনার গোল পোস্টে ২০ বার টার্গেট করেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাত্রই ২ বার নিয়েছে। স্পেনিশ মৌমাছির কামড়ে অতিষ্ঠ আর্জেন্টাইনরা ফাউলের পর ফাউল করে ৬ টি হলুদ ও ১টি লাল কার্ড পকেটে পুরেছে। এমনকি ডাগ আউটে আর্জেন্টাইন কোচ স্কোলেনিও হলুদ কার্ড দেখেছে। হাতাহাতির মত ঘটনাও হয়েছে। ফেয়ার প্লে’র সৌন্দর্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে ম্যারাডোনার দল।

এত কিছুকে পাশ কাটিয়েও আমরা কোটি ফুটবল ভক্ত বলি— 

‘মেসি তুমি আমাকে চিনবে না। কোটি প্রেমিকের আমিও একজন।

তোমার কান্নার জলতরঙ্গ আমার হৃদয়ে বাজে।

আমারও চোখ ছলছল করে।’

নিউজজি/নাসি

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers