শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ২৩ সফর ১৪৪৮

খেলা

আক্রমণে আর্জেন্টিনা, রক্ষণে অতুলনীয় স্পেন

নিউজজি ডেস্ক জুলাই ১৮, ২০২৬, ১৬:০৪:১০

142
  • সংগৃহীত

রোববারের বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেন নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মিশনে। দুই দলের শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা চললেও পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে আক্রমণ বনাম রক্ষণের এক রোমাঞ্চকর লড়াই।

অতিরিক্ত সময়ে দুটি ম্যাচ খেলায় স্পেনের তুলনায় এক ঘণ্টা বেশি ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। তাই দুই দলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে অধিকাংশ পরিসংখ্যানই প্রতি ৯০ মিনিটের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়েছে।

গোল করার দক্ষতায় সবার ওপরে আর্জেন্টিনা

এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছে আর্জেন্টিনা। তাদের সাফল্যের বড় কারণ দুর্দান্ত ফিনিশিং। চার বছর আগে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারার পর থেকে বিশ্বকাপে টানা ১৩ ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করেছে আলবিসেলেস্তেরা।

অন্যদিকে স্পেন গোলের সুযোগ বেশি তৈরি করলেও গোল করেছে মাত্র ১৩টি। তাদের এক্সপেক্টেড গোল (xG) ১৩.৩, অর্থাৎ সুযোগের মান অনুযায়ী যত গোল হওয়ার কথা ছিল, প্রায় ততটাই করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

বক্সের ভেতর থেকে আর্জেন্টিনা স্পেনের চেয়ে মাত্র একটি গোল বেশি করলেও পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দূরপাল্লার শট। আর্জেন্টিনা বক্সের বাইরে থেকে ৫টি গোল করেছে, যেখানে স্পেন এখনো দূর থেকে গোলের দেখা পায়নি।

রক্ষণে স্পেন যেন অন্য উচ্চতায়

গোল কম করলেও রক্ষণে স্পেনের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে। সেটিও কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে।

আর্জেন্টিনা সাত গোল হজম করলেও পরিসংখ্যান বলছে, তারা কিছুটা দুর্ভাগ্যের শিকার। প্রতিপক্ষকে কম শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দিক থেকে মাত্র তিনটি দল তাদের চেয়ে ভালো। আর প্রতি ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের xG-এর হিসেবে স্পেন ছাড়া আর কোনো দল আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে নেই। তবুও রক্ষণে স্পেন যেন আলাদা এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, অন্য ৪৪টি দলের চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেও স্পেনের বিপক্ষে মোট ডিফেন্সিভ xG মাত্র ২.১, যা পুরো বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া উরুগুয়ে রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে (২.৪)।

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগও স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিপক্ষকে সহজ কোনো সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি স্প্যানিশরা।

দৌড়ে এগিয়ে স্পেন

অতিরিক্ত সময়ের কারণে মোট দূরত্বে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও প্রতি ৯০ মিনিটে স্পেনই বেশি দৌড়েছে এবং বেশি স্প্রিন্ট করেছে।

প্রতিপক্ষের অর্ধে বল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও স্পেনের অবস্থান শীর্ষে। শুধু মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে প্রতি ৯০ মিনিটে তাদের চেয়ে বেশি বল পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এই বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের তুলনায় কম দূরত্ব দৌড়িয়েছে। মোট হিসেবে তারা প্রতিপক্ষদের চেয়ে ১৭ কিলোমিটার কম দৌড়ালেও প্রতিবারই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার অপেক্ষাকৃত কম-তীব্রতার খেলার ধরন তাদের বাড়তি ৬০ মিনিটের ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রামও দিয়েছিল দলটি।

বলের দখলে দুই দলেরই আত্মবিশ্বাস

বল দখলে আধিপত্য দেখাতে দুই দলই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তবে প্রয়োজন হলে বল ছেড়েও ম্যাচ জেতার সামর্থ্য আছে তাদের। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর সময় স্পেনের বল দখল ছিল মাত্র ৫১ শতাংশ। অন্যদিকে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল ৪৮ শতাংশ।

ক্রসে পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা

পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন ওপেন প্লে থেকে বেশি ক্রস করলেও নকআউট পর্বে এই কৌশলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে আর্জেন্টিনা। প্রথম চার ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে মাত্র ১৩টি ক্রস করলেও শেষ তিন ম্যাচে তারা করেছে ৫১টি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলও এসেছিল একটি নিখুঁত ক্রস থেকেই।

আকাশে স্পেন, মাটিতে আর্জেন্টিনা

এরিয়াল ডুয়েল জয়ের হারে বিশ্বকাপে সবার ওপরে রয়েছে স্পেন। ফলে আকাশপথের লড়াইয়ে তারা কিছুটা এগিয়ে থাকবে। তবে দুই দলের সামগ্রিক ডুয়েল জয়ের হার প্রায় সমান হওয়ায় বোঝা যায়, মাটির লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা সামান্য বেশি কার্যকর।

ইয়ামাল-মেসির ড্রিবলিংয়ে বাড়তি আকর্ষণ

দুই দলই খুব বেশি ড্রিবলনির্ভর নয়। প্রতি ৯০ মিনিটে স্পেনের চেয়ে ২৫টি দল বেশি ড্রিবলের চেষ্টা করেছে। আর্জেন্টিনা করেছে আরও কম। তবে সফলতার দিক থেকে আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত। তাদের চেয়ে ভালো ড্রিবল সফলতার হার রয়েছে কেবল ক্রোয়েশিয়ার (৬৩ শতাংশ)।

এই পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা দুই সুপারস্টারের। স্পেনের লামিনে ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি—দুই দলের মোট ২০৯টি ড্রিবলের মধ্যে ৯০টিই (৪৩ শতাংশ) করেছেন এই দুই ফুটবলার।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ড্রিবলের চেষ্টা করেছেন ইয়ামাল। আর ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পর প্রতিপক্ষকে বল পায়ে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন মেসি।

পরিসংখ্যান যা বলছে

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সংখ্যার হিসাব বলছে, আর্জেন্টিনা এগিয়ে নিখুঁত ফিনিশিং, দূরপাল্লার গোল এবং কার্যকর আক্রমণে। অন্যদিকে স্পেন এগিয়ে রক্ষণ, বল পুনরুদ্ধার, দৌড় এবং আকাশপথের লড়াইয়ে।

তাই শিরোপার মহারণে শেষ পর্যন্ত জয় নির্ভর করতে পারে—আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার বেশি কার্যকর হয়, নাকি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ আরেকবার প্রতিপক্ষকে থামিয়ে দেয়। -বিবিসি

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers