বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

খেলা

ভিএআর ও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার মিসর?

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ৮, ২০২৬, ১৫:৩৮:০৮

124
  • ভিএআর ও রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের শিকার মিসর?

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই  আলোচনায় ভিএআর। যার সর্বশেষটা দেখা গেল মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা-মিসরের মধ্যেকার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে। আটলান্টায় রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মিসরের খেলোয়াড় ও কোচরা। রেফারির নেওয়া সেই সিদ্ধান্তগুলো কি যথাযথ ছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোও।

ম্যাচের ৬২ মিনিটে মোস্তফা জিকোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় মিসর।  তবে ভিএআর বাধ সাধে। গোল হওয়ার আগে মিশরের মারওয়ান আত্তিয়ার সম্ভাব্য ফাউলের জন্য ভিএআর দ্রুত মাঠের রেফারিকে অনফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়। মিসরীয় খেলোয়াড় একই সঙ্গে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন এবং তার পায়ে পা দিয়ে চাপ দিয়েছিলেন। স্ক্রিনে দেখার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাসোঁয়া লেটেক্সিয়ের ভিএআরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হন এবং গোলটি বাতিল করেন।

মঙ্গলবারের ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। তাদের প্রতিবেদনে রেফারেন্স হিসেবে যুক্ত করা হয় অনুযায়ী, ভিএআরের এই হস্তক্ষেপটি সঠিক ছিল। গোলটি বাতিল করার সিদ্ধান্তও যথাযথ ছিল।

ঘটনাটি মাঠের বেশ ওপরের দিকে ঘটায় কিছুটা বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এই ধরনের ফাউল যখন একই আক্রমণের ধাপে ঘটে এবং তার ফলে সরাসরি গোল হয়, তখন তা বাতিল করতেই হবে। রেফারিকে যখন একই সঙ্গে জার্সি টানা ও পায়ে পা দেওয়ার ছবি দেখানো হয়, তখন তার আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কোনো সুযোগই ছিল না।

এ দিকে  ম্যাচের শেষ দিকে মিসর দুটি আলাদা ঘটনায় ফাউলের আবেদন জানায়। এর একটি ঘটে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে। দুটি ঘটনাই আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ঘটে। প্রথম ঘটনায় আর্জেন্টিনার আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মিসরের হামদি ফাতির জার্সি টানতে দেখা যায়। এরপর ফাতি মাটিতে পড়ে যান। তবে রেফারি কোনো ফাউল দেননি। আরেক ঘটনায়, ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হুলিয়ান আলভারেস তাঁকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেয়ার মতো ঘটনা ছিল না।  ভিএআর দুটি ঘটনাই পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। অর্থাৎ কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।

সালাহকে পেনাল্টি না দেয়ার সিদ্ধান্তটিও সঠিক ছিল। আলভারেসের ফাউল করার চেয়ে সালাহ নিজেই পেনাল্টি পাওয়ার চেষ্টা বেশি করছিলেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ডিফেন্ডারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউলের অ্যাকশন থাকতে হয়। কিন্তু এখানে কন্ট্যাক্টটি ছিল মূলত বুটের সঙ্গে বুটের। সালাহ অপ্রয়োজনীয়ভাবে মাটিতে পড়ে যান। মিসর পেনাল্টির দাবি তুললেও ভিএআরে তা চেক পর্যন্ত করতে দেননি রেফারি। ফুটবলের নিয়ম বলছে— কোনো ডিফেন্ডার যদি ট্যাকেলের সময় প্রথমে পরিষ্কারভাবে বল স্পর্শ করেন, এরপর স্বাভাবিক গতির কারণে শারীরিক সংঘর্ষ হলে তা ফাউল নয়। কিন্তু মূল বিতর্ক হলো, মিশরের ফাউলটি ভিএআর দেখে গোল বাতিল করা হলে, সালাহর পেনাল্টির দাবি কেন ভিএআরে চেক করা হলো না? কারণ যদি চেক করার পর ফাউল ধরা পড়তো তবে গোল তো বাতিল হতোই, পাল্টা পেনাল্টি পেত মিশর। এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তের কারণেই প্রশ্ন উঠেছে-ফিফা কি নির্দিষ্ট কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে?

ম্যাচ শেষে রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মিসরের জিকো বলেন, ‘রেফারি অন্যায় করেছেন, অন্যায় করেছেন। রেফারি একদমই ফেয়ার ছিলেন না। তিনি একজন জালিম। এটি স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার তিনি অবিচার করেছেন। তিনি একটি দেশের পুরো পরিশ্রমকে এক নিমিষে নষ্ট করে দিলেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’

এর আগে, গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও একই ধরনের ফাউল আমলে নেননি রেফারি, যেখান থেকে গোল করেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার। একের পর এক এমন ঘটনায় এবারের বিশ্বকাপে যেন তীব্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সে সুতোতে সমালোচনায় রেফারিও।

নিউজজি/সিআর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers