বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৭ সফর ১৪৪৮

খেলা

অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নাটকীয় জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

নিউজজি ডেস্ক জুলাই ৮, ২০২৬, ০৯:৪৫:০৪

132
  • সংগৃহীত

ঢাকা: ম্যাচের বয়স তখন ৭৯তম মিনিট। সে সময় স্কোর লাইন মিসর ২, আর্জেন্টিনা ০। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তখন বিদায়ের দুয়ারে। ফুটবল প্রেমিরাও টিভি সেটের সামনে থেকে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। তারপর মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে হঠাৎ করেই যেন সব বদলে গেল। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিওনেল মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজ করলেন একের পর এক গোল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতে আর্জেন্টিনা।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার শেষ ষোলোর শ্বাসরুদ্ধরকর ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি পরের ১৩ মিনিটে করেছে তিন গোল।

চলতি আসরে প্রথমবার আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে। শুরুতেই তারা গোল হজম করে। মেসি পেনাল্টি মিস করায় এ অর্ধে আর গোল শোধ দিতে পারেনি তারা। মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে তাদেরকে হতাশায় ডুবিয়ে অসাধারণ এক পাল্টা আক্রমণে ৫৮তম মিনিটে জালে বল পাঠান জিকো, হতাশায় নুইয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা দলের অনেক খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মিশরের গ্যালারি। অনেক সুযোগ নষ্টের পর, ৭৯তম মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর উপলক্ষ পায় আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে মেসির মাপা ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে, হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। পাঁচ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোলও আদায় করে নেয় তারা। ডি-বক্সে জটলার মধ্যে মিশর বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে, গন্জালো মন্তিয়েলের কাটব্যাক পেয়ে জোরাল শটে সমতা টানেন মেসি। আসরে এই নিয়ে আট গোল করলেন মেসি, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে গেলেন আবার। একটি করে গোল কম কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হলান্ডের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার মোট গোল হলো ২১টি। আর জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ১২৫টি, ২০৪ ম্যাচে।

এদিকে ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে  ডান দিক থেকে লাউতারো মার্তিনেসের ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে নিখুঁত হেডে দলকে উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন চেলসি মিডফিল্ডার ফার্নান্দেজ।

অথচ আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরুটা কিন্তু অন্য গল্পের ইঙ্গিত দিয়েছিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের চৌদ্দতম ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি মিরোস্লাভ ক্লোজার রেকর্ড ছুঁলেন। কিন্তু রেকর্ডের আনন্দ মিলিয়ে যেতে সময় লাগল না। ১৫ মিনিটেই আর্জেন্টিনার রক্ষণ যেন ঘুমিয়ে পড়ল একলহমায়! কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে টপকে শূন্যে উঠলেন ইয়াসের ইব্রাহিম, মাথা ছুঁইয়ে বল জড়ালেন জালে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের পর এই প্রথম প্রথমার্ধে গোল হজম করল আর্জেন্টিনা। চার মিনিট বাদে সুযোগ এল শোধ তোলার। বক্সে তালিয়াফিকো ফাউলের শিকার, পেনাল্টি। বল বসল মেসির পায়ে। কিন্তু পারলেন না তিনি। শট গেল গোলরক্ষকের বাঁ দিকে, আর মোস্তফা শোবের ঠিক সেদিকেই ঝাঁপালেন। বিশ্বকাপে আটটির মধ্যে চারটি পেনাল্টি মিস—এক আসরে দুটো মিস করা প্রথম ফুটবলার হয়ে রইলেন মেসি। তারপরও আর্জেন্টিনা চেষ্টা কম করেনি। ম্যাক আলিস্টারের হেড লক্ষ্যে থাকল না, মেসির ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরল, আলভারেজের প্রচেষ্টা রুখে দিলেন শোবের।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুর্দান্ত খেলে মিশর। ৫৮ মিনিটে হাইসেম হাসানের কারিকুরি, মোহাম্মদ সালাহর পাস আর জিকোর ফিনিশ—গোল হয়েও বাতিল হলো ভিএআরে, লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ওপর ফাউলের কারণে। কিন্তু ওই বাতিল হওয়া গোলটাই যেন ছিল ভবিষ্যতের পূর্বাভাস। ঠিক ৯ মিনিট পর, পাল্টা আক্রমণে সালাহর পাস থেকে হাসান, আর হাসানের কাটব্যাক থেকে জিকো এবার আর ভুল করলেন না। মিসর ২-০। আটলান্টার গ্যালারিতে তখন লাল-সাদা পতাকার উৎসব।

২-০ গোলে পেছনে পড়ার পরও হাল ছেড়ে দেয়নি আর্জেন্টিনা। উল্টো একের পর এক আক্রমণে মিশরের ডিফেন্সকে ব্যস্ত রাখে দলটি। এর সুফল তারা পেয়ে যায় ৭৯ মিনিটে। সে সময় মেসির ক্রস থেকে ছয় গজ দূর থেকে হেডে ব্যবধান কমালেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, শোবেরের হাত ছুঁয়েও বল জালে জড়াল। এর ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ড বাদে, মন্তিয়েলের সাজানো বল ধরে প্রথম টাচেই মেসির শট। বার-পোস্টের নিচের দিক ছুঁয়ে বল জালে—২-২।  তারপরও ম্যাচ শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আলভারেজের লম্বা বল পেয়ে যায় লাওতারো মার্তিনেজ, ডান প্রান্ত ধরে সময় নিয়ে বাড়ানো ক্রসে হেডে জড়িয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজ। মুহুর্তেই স্কোর লাইন হয়ে গেল আর্জেন্টিনা ৩, মিসর ২। মিসর বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের এত কাছে গিয়েও ফিরে গেল খালি হাতে। আর আর্জেন্টিনা দেখাল, চ্যাম্পিয়নরা সব সময় ভালো খেলে জেতে না। কখনো কখনো তারা শুধু হারে না বলেই জিতে যায়।

ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি, যে কান্না তার থামছিলই না। দুই চোখ বেয়ে অঝোরে ঝরছিল পানি। যে জল আনন্দের! সেই জল হারের নয়, সেই জল সেই বিশ্বাসের।

নিউজজি/সিআর

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers