বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩২ আষাঢ় ১৪৩৩ , ৩০ মুহররম ১৪৪৮

খেলা

৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ভয় ধরিয়ে বাংলাদেশের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক অক্টোবর ৩, ২০২৫, ০৬:২০:২২

306
  • ছবি: ইন্টারনেট

১৫২ রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে দাপট দেখান পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান  তামিম। তাদের ১০৯  জুটি সহজ জয়ের পথই দেখিয়েছিল। তবে এরপরও অবিশ্বাস্য ব্যাটিং ধসের শিকার হতে হয় টাইগারদের। আফগানিস্তান স্পিনার রশিদ খানের ভেলকিতে জাকের আলি অনিকের দল ৯ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। যে কারনে চিন্তার পড়ে টিম টাইগার্স। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চ ছড়িয়ে  নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেনের ব্যাটে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

টস হেরে আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে আফগান ব্যাটারদের শুরুতে চেপে ধরে বাংলাদেশের বোলাররা। তারপরও ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ দল লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ৮ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে।  তানজিদ হাসান তামিম ৩৭ বলে ৫১ ও ইমন করেন ৩৭ বলে ৫৪ রান। নুরুল হাসান সোহান অপরাজিত  ছিলেন ১৩ বলে ২৩ রানে।  রিশাদ অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১৪ রানে।

এশিয়া কাপে খেলা সবশেষ পাকিস্তান ম্যাচের একাদশ থেকে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদী ও তাওহীদ হৃদয়ের জায়গায় সুযোগ পান তানজিদ হাসান তামিম ও নাসুম আহমেদ।

আফগানিস্তানকে ১৫১ রানের মধ্যে আটকে দিয়ে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন মিলে ১০৯ রানের জুটি গড়ে।

সেই সময় মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ১০ উইকেট হাতে রেখেই হয়তো জিততে চলেছে। এমন শুরুর পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধ্বংসস্তূপে রূপ নিতে বেশি সময় লাগেনি। ১১৮ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারায় আরও ৫ উইকেট। যে কারনে ভক্তদের ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত একাধিক শট থেলে তাদেরকে মুক্ত করেন নুরুল হাসান সোহান আর রিশাদ হোসেন।

ভালো শুরুর পর হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ইমন আউট হন ৩৭ বলে ৫৪ রান করে। এরপর সাইফ হাসান আউট হন শূন্য রানে। ৬ রান করেন অধিনায়ক জাকের আলী। শামীম হোসেন পাটোয়ারিও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।

শূন্য রানে ফিরেছেন তানজিম সাকিবও। বাংলাদেশের ইনিংস ধ্বংসস্তূপ বানাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আফগান স্পিনার রশিদ খান। নিজের শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

১৩ তম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে রশিদ আউট করেন সাইফ ও তানজিদকে। আর ১৫ তম ওভারে তিনি ফেরান জকের ও শামীমকে।এরপর নুর আহমাদ যখন শূন্যতে ফিরিয়ে দেন তানজিম হাসানকে, বাংলাদেশকে তখন চোখ রাঙাচ্ছে অবিশ্বাস্য এক হার। বিনা উইকেটে ১০৯ থেকে ৬ উইকেটে ১১৮! একটা স্বস্তির ব্যাপার অবশ্য ছিল, রাশিদ ও নুরের ওভার তখন আর বাকি নেই।

অন্য বোলাররা এ দিন ঠিক ছন্দে ছিলেন না। তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে সোহান ও রিশাদ জিতিয়ে দেন দলকে।

 ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। নূর আউট করেন তানজিমকে। 

এরআগে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ভাল হয়নি বৃহস্পতিবার। প্রথম ওভারে তাসকিন আহমেদ ৩ চারে ১২ রান দেন। তবে এরপর ম্যাচের লাগাম টেনে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। চতুর্থ ওভারে ব্রেক-থ্রু এনে দেন নাসুম। তাঁর খানিকটা দ্রুতগতির বলে স্টাম্প হারিয়ে ফেলেন ইব্রাহিম জাদরান (১৫)। পরের ওভারে আরেক ওপেনার সেদিকউল্লাহ আতালকে (১০) পারভেজ হোসেন ইমনের ক্যাচে পরিণত করেন তানজিম হাসান সাকিব। দারউইশ রাসুলি রান আউটের শিকার হলে পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৩ রানের বেশি করতে পারেনি আফগানিস্তান।

মাঝের ওভারে গুরুদায়িত্ব থাকে রিশাদ হোসেনের। এবারও হতাশ করলেন না এই লেগ স্পিনার। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হজম করলেও মোহাম্মদ ইশাককে শিকার করেন তিনি। সুইপ করতে গিয়ে শামীম পাটোয়ারিকে ক্যাচ দেন ইশাক (১)। এরপর আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এবার অবশ্য শুরুতে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন । হাত খুলে খেলতে যাওয়ার আগে তাঁকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখান রিশাদ। স্টাম্পের কাছাকাছি রাখা লেগ স্পিন ডেলিভারি উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনে থাকা তানজিমের হাতে। তবে শেষ দিকে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন মোহাম্মদ নবি। ২৫ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ রান করেন তিনি। যে কারনে আফগানদের স্কোর পৌঁছে যায় দেড়শ উপর। 

৩১ বলে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন আফগান তারকা ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। নবী করেন ৩৮ রান। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রিশাদ ও তানজিম। একটি করে শিকার ধরেন নাসুম, তাসকিন ও মোস্তফিজ।

স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৫১/৯ (ইব্রাহিম ১৫, আটাল ১০, গুরবাজ ৪০, রাসুলি ০, ইসহাক ১, ওমারজাই ১৮, নাবি ৩৮, আশরাফ ১৭*, রাশিদ ৪, নুর ৬; তাসকিন ৪-০-৪০-১, নাসুম ৪-০-১৮-১, তানজিম ৪-০-৩৪-২, মোস্তাফিজ ৪-০-২৪-১, রিশাদ ৪-০-৩৩-২)।

বাংলাদেশ: ১৮.৪ ওভারে ১৫৩/৬ (তানজিদ ৫১, পারভেজ ৫৪, সাইফ ০, জাকের ৬, শামীম ০, সোহান ২৩*, তানজিম ০, রিশাদ ১৪*; ফারিদ ৩-০-২৬-১, ওমারজাই ২.৪-০-৩২-০, নাবি ৩-০-২৭-০, রাশিদ ৪-০-১৮-৪, নুর ৪-০-২১-১, আশরাফ ২-০-২৫-০)

ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: পারভেজ হোসেন।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers