বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ , ৬ সফর ১৪৪৮

খেলা

কষ্টার্জিত জয়ে সুপার ফোরের আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৮:১২:০৫

360
  • ছবি: ইন্টারনেট

একাদশে চার পরিবর্তন নিয়ে।টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সহস দেখাল বাংলাদেশ দল। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সুযোগ পাওয়া সাইফ হাসানের সৌজন্য দারুণ সূচনা করে টিম টাইগার্স। মাঝে তাওহিদ হৃদয় হাল ধরেন। তাতে ১৭০-১৮০ রানের আশা করেছিল লিটন দাসের দল। তবে শেষ দিকে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা জ্বলে না ওঠায় টাইগারদের ইনিংস থামে দেড়শর পরেই।  আবুধাবির স্লো উইকেটের সুবিধা বল হাতে প্রথমেই নেন নাসুম আহমেদ। দ্রুতই দুই উইকেট তুলে নেন তিনি। এরপর চমক দেখান রিশাদ হোসেন। মোস্তাফিজুর রহমানও জ্বলে ওঠেন। তারপরও ম্যাচের ভাগ্য  পেন্ডুলামের মতো দুলছিল। শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে ম্যাচটিতে ৮ রানের জয় পেয়েছে লিটন দাসের দল। সেই সঙ্গে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সুপার ফোরের আশাও বাঁচিয়ে রাখল টিম টাইগার্স।

মঙ্গলবার আবুধাবিতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান করে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন তামিম। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৪৬ রানেই থামে আফগানিস্তানের ইনিংস। আর তাতে বিদেশের মাটিতে আফগানদের প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে হারাল লাল-সবুজের দল। 

প্রতিপক্ষের সামনে ১৫৫ রানের টার্গেট নিয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন নাসুম আহমেদ। সেদিকউল্লাহ অটলকে এলবিডব্লু করে ফেরান তিনি। প্রথম ওভারে কোনো রান দেননি নাসুম। পরের ওভারে সাফল্য পেতে পারতেন তাসকিনও। তার ওভারের শেষ বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ ফসকান রিশাদ হোসেন। ‘জীবন’ পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি ইব্রাহিম জাদরান। কিন্তু ৩ ওভারে ৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া নাসুমের দুর্দান্ত স্পেল দ্রুতই ভুলিয়ে দিল সেই দুঃখ। তার ফিরতি ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।

হাল ধরার চেষ্টা করা ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ফিরিয়েছেন সেই রিশাদ হোসেনই। তাঁর বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩১ বলে ৩৫ রান করে গেছেন গুরবাজ।

পরে আজমতউল্লাহ ওমরজাই একটু ভয় ধরান—সাইফ হাসানের করা ১৪তম ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে নেন ২০ রান। কিন্তু তাসকিন আহমেদের বলে সাইফের দুর্দান্ত ক্যাচে থেমে যায় তাঁর ১৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস। প্রায় শেষ হয়ে যায় আফগানিস্তানের আশাও। শেষে রশিদ খানের ১১ বলে ২০ রান শুধু হারের ব্যবধানটা কিছুটা কমিয়েছে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজ। এছাড়া দুটি করে পেয়েছেন নাসুম, রিশাদ ও তাসকিন। 

এর আগে দিনের শুরুতে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন লিটন দাস। অধিনায়কের নেয়া সিদ্ধান্ত অবশ্য সঠিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম। এক প্রান্তে তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও আরেক প্রান্তে রান তুলতে বেশ বেগ পান সাইফ।

সাইফ উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। পাওয়ার প্লে শেষেই ফিরেছেন তিনি, ২৮ বলে ৩০ রানে। এরপর তিনে নেমে সুবিধা করতে পারেননি লিটন দাসও, ১১ বলে ৯ রান করে। এরপর ২৮ বলে ফিফটির পর অবশ্য আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তামিম। ফিরে যান ৫২ রানে থাকা অবস্থায়। 

পাঁচে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে চেয়েছিলেন শামীম পাটোয়ারী। তবে ফিরে যান ১১ রান করে। এরপর তাওহীদ হৃদয় ক্রিজে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২০ বল খেলে ২৬ রান করেন। শেষদিকে জাকের আলি রীতিমতো সংগ্রাম করেছেন। ১৩ বল খেলে অপরাজিত মোটে ১২ রান করেন তিনি। যদিও নুরুল হাসান সোহান ৬ বলে অপরাজিত ১২ রান করেন।

এর আগের ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে ভাগ্যটা বাংলাদেশ যেন তুলে দিয়েছিল অন্যদের হাতে। সেটা এখনো বদলানো যায়নি। কিন্তু তাতে ম্যাচ জয়ের স্বস্তি কি এতটুকুও কমে? আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আজ আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে অন্তত নিজেদের কাজটা তো ঠিকঠাক করে রাখা গেল।

এখন হিসাবটা এমন—শ্রীলঙ্কা যদি বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানকে হারায়, তাহলে বাংলাদেশকে আর কোনো অঙ্ক কষতে হবে না। আর যদি আফগানিস্তান জেতে, তাহলে ওদের সেই জয়টা যেন হয় একটু বড় ব্যবধানে—বাংলাদেশের চাওয়া এটাই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (তানজিদ ৫২, সাইফ ৩০, হৃদয় ২৬, জাকের ১২*, নুরুল ১২*, শামীম ১১; নুর ২/২৩, রশিদ ২/২৬)।

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬ (গুরবাজ ৩৫, ওমরজাই ৩০, রশিদ ২০, নাইব ১৬; মোস্তাফিজ ৩/২৮, নাসুম ২/১১, রশিদ ২/১৮, তাসকিন ২/৩৪)।

ফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: নাসুম আহমেদ।

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers