সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ , ৮ মুহররম ১৪৪৬

খেলা

ফ্রান্সকে হতাশায় ডুবিয়ে ইউরোর ফাইনালে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক জুলাই ১০, ২০২৪, ০৮:৫৮:২৭

128
  • ছবি: ইন্টারনেট

গতিময় ফুটবলে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিলেন কিলিয়ান এমবাপে। তবে গোলের দেখা পাননি তিনি। এদিকে ১৬ বছর বয়সেই  লামিনে ইয়ামাল সব আলো কেড়ে নিলেন। চমৎকার এক গোলে দলকে পথ দেখালেন পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল স্পেন।

মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় মঙ্গলবার রাতে ইউরোর প্রথম সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে স্পেন। গতি আর নান্দনিক ফুটবলে আসরে ছয় ম্যাচ খেলে সবগুলোই জিতল দলটি।

বয়স ১৭ হতে বাকি মাত্র ৩ দিন। ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে ১৬ বছর বয়সে প্রথম গোল করা ফুটবলার হতে আজ লক্ষ্যভেদ করতেই হতো লামিনে ইয়ামালকে। টুর্নামেন্টজুড়ে জাদুকরী ফুটবল খেলা ইয়ামালের অবশ্য একটা গোল প্রাপ্যও ছিল। সেটা তিনি মঙ্গলবার রাতে পেয়েও গেলেন। তার রেকর্ড গড়া গোলেই পিছিয়ে থাকা স্পেন ফেরে সমতায়। এরপর দারুণ এক গোলে স্পেনের হয়ে ব্যবধান ২–১ করেন দানি অলমো। যা চেষ্টা করেও আর বদলাতে পারেনি এমবাপের ফ্রান্স।

মঙ্গলবার ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই নিজেদের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয় স্পেন। বার্তা দিয়ে জানায়, প্রেসিং ও আক্রমণকেই পাখির চোখ করতে যাচ্ছে তারা। তবে পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি ফ্রান্সও। শুরুতে মিডফিল্ড দখলে রাখার চেষ্টা করে দিদিয়ের দেশমের দল। এর মধ্যে ম্যাচের ৫ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত স্পেন। কিন্তু লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক ক্রসকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফাবিয়ান রুইজ। তার হেড চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।  

পাল্টা আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপেকে দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন ৩৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার জেসুস নাভাস।  তবে প্রথম যাত্রায় সফল হলেও দ্বিতীয়বার আর এমবাপেকে আটকাতে পারেননি নাভাস।

গোল খেয়ে ঘুরে দাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্পেন। প্রেসিং ও পাসিংয়ের শক্তি দেখিয়ে একাধিকবার আক্রমণেও যায় তারা। যদিও সেসব আক্রমণ গোলের জন্য যথেষ্ট ছিল না। উল্টো ১৯ মিনিটে দারুণ এক পাল্টা–আক্রমণে স্প্যানিশ ডিফেন্স কাঁপিয়ে দেন এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য গোলটি পাওয়া হয়নি তাঁর।

অবশেষে ২১ মিনিটে দেখা মিলে বহুল প্রতীক্ষিত  ইয়ামাল–জাদুর। সে সময় ২৫ মিটার দূর থেকেই চার ডিফেন্ডারকে হতভম্ব করে অবিশ্বাস্য এক শটে বাঁ পাশের ওপরের কোনা দিয়ে বল জালে জড়ান ইয়ামাল। 

এই গোলে ইউরোতে নতুন এক ইতিহাসও লিখলেন ১৬ বছর বয়সী এ উইঙ্গার। ইয়ামালই এখন ইউরোতে ১৬ বছর বয়সে গোল করা একমাত্র ফুটবলার। পাশাপাশি এই গোলে ইউরো ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হলেন ইয়ামাল (১৬ বছর ৩৬২দিন)। এর আগে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৭ বছর ২৩৯ দিনে গোল করেছিলে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সম্রাট পেলে।

সমতাও ফিরিয়েও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্পেন। যা ২৫ মিনিটে তাদের এনে দেয় নিজেদের দ্বিতীয় গোলটিও। দুর্দান্ত এক আক্রমণে নাভাসের শট প্রতিহত হয়। ফিরতি বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শট নেন অলমো। যা ইউলেস কুন্দের গায়ে জালে জড়ালে ২–১ গোলে এগিয়ে যায় স্পেন।

বিরতির পর শুরুতেই গতিময় আক্রমণে ফ্রান্স ডিফেন্সকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল স্পেন। তবে দ্রুত পাল্টা জবাব দিয়ে স্পেনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেও ফ্রান্সও। পরপর দুইবার আক্রমণে গিয়ে স্প্যানিশ সমর্থকদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ডরা। যদিও বারবার নিরাশ হতে হচ্ছিল তাদের। ৬০ মিনিটে ডেম্বেলের শট কোনোরকমে ফেরান স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। এ সময় সমতা ফেরাতে মরিয়া ফ্রান্স বেশ চাপে রাখে স্পেনকে।

দলীয় প্রচেষ্টা কাজে না আসায় এমবাপে একক নৈপুণ্যের কিছু ঝলকও দেখিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। এদিকে ৮৬ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। ম্যাচের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও ফ্রান্সকে আর সমতায় ফেরাতে পারেননি ফ্রানাস। শেষ পর্যন্ত তাই দারুণ জয়ে ইউরোর ফাইনালে উঠে যায় স্পেন। 

নিউজজি/সিআর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন