সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ , ৮ মুহররম ১৪৪৬

খেলা

সেন্ট ভিনসেন্টে ছোট্ট মসজিদে ২২ জনের ঈদের জামাত

শামীম চৌধুরী, সেন্ট ভিনসেন্ট থেকে জুন ১৮, ২০২৪, ০৮:১৪:২৩

244
  • ঈদের নামায শেষে ইমামের সঙ্গে আমরা ৫ সাংবাদিক। ছবি-সংগৃহিত

সেন্ট ভিনসেন্ট এন্ড গ্রেনাডিয়ান্সে মুসলিম জনসংখ্যা বড়জোর দুই হাজার। যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৫ শতাংশেরও কম। এখানে এসে মসজিদ খুঁজে পাওয়াটাও দুস্কর।

আর্নস ভেল ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে কিংসটাউনগামী সড়কে একটা কাঠ-টিনের ঘরটার বাইরে ছোট্ট একটা সাইনবোর্ডে লেখা-‘মসজিদ আল ইসলাম।’ আর্নস ভেল শহরে স্থানীয়দের জামাতে নামায আদায় করার একমাত্র মসজিদ এটাই।

আশে-পাশে সাজানো গোছানো বাড়ি-ঘর, বানিজ্যিক ভবন। অথচ, ছোট্ট এই মসজিদটির বাইরে কার পার্কিং পয়েন্ট থাকলেও সংস্কারের অভাবে অযত্নে পড়ে আছে মসজিদ ঘরটি। মসজিদ সংস্কার কিংবা মসজিদের নির্মাণ কাজের জন্য কোনো চাঁদার বাক্সও চোখে পড়েনি। 

মুয়াজ্জিন আছেন, তবে মসজিদ থেকে আজান দূরের মুসল্লিদের শোনার সুযোগ নেই। কারণ, নেই কোনো মাইক। এখানকার মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে যারা নামাযী, ইসলাম সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখেন তাদের একজনকে দিয়ে ঈদ-জুমা'র নামাজে ইমামতি করানো হয়। 

প্রায় ৭০০ বর্গফুটের মতো একটা রুমে তিন কাতার মিলিয়ে জামাতে সর্বোচ্চ ৩০ জন দাঁড়াতে পারবে। সেই মসজিদে সোমবার ঈদের জামাতে ইমামসহ ২২ জন আদায় করেছেন নামায। যে ২২ জনের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে আসা ৫ ক্রীড়া সাংবাদিকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ  ক্রিকেট দলের খেলা দেখতে আসা ৩ প্রবাসী বাংলাদেশী। 

এখানে মুসলিমদের মধ্যে একটা গ্রুপ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোববার ঈদ উল আজহা উদযাপন করেছেন। অন্যরা বাংলাদেশের মতো সৌদি আরবের পরদিন অর্থাৎ সোমবার ঈদ উৎসব করেছেন। 

এই মসজিদের ইমাম রোববার বাংলাদেশ দলের টিম হোটেলে ঈদ-এর নামাযে ইমামতি করেছেন। সোমবার স্থানীয় মুসলিমদের ঈদ উল আজহার নামাযে ইমামতি করতে হয়েছে তাকে। মোবাইল দেখে ইংরেজিতে খুৎবা দিয়েছেন তিনি। ঈদ উল আজহার নামাযের নিয়মটাও বলেছেন তিনি ইংরেজিতে। 

জনপ্রতি এক পথে ৬ ডলার করে ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে মসজিদ আল ইসলামে ঈদ এর নামায পড়তে পেরে আমরা মহাখুশি। ১৮ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এসে আমরা এখানে ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছি দেখে, মসজিদের ইমাম, পরিচালনা কমিটি অনেক বেশি আনন্দিত। ঈদ এর নামায শেষে আমাদের সবার খোঁজ খবর নিয়েছেন। সবার সাথে এখানকার মুসল্লিরা কোলাকুলি করেছেন। তুলেছেন ছবি। 

তবে ঈদ উল আজহার দিনে পশু কোরবানী দেয়ার যে রেওয়াজ আছে ইসলামে, এখানে সেই রেওয়াজ কারা পালন করেন, তা নিদ্দিষ্ট করে বলতে পারেননি কেউ। এখানে গরু, খাসির দাম তুলনামূলক বেশি-এটা একটা কারন। এখানকার মুসলিমরা তেমন ধনাঢ্য নয়, এটাও কারন হতে পারে।

সেন্ট ভিনসেন্ট ঘুরে একটি মাত্র সুপার শপে হালাল মুরগির মাংসের সন্ধান পেয়েছি। হালাল গরু, খাসির মাংসের তথ্য দিতে পারেননি কেউ। এমন একটা দেশে সংখ্যালঘু মুসলিমদের অধিকাংশের কাছে ঈদের বিশেষ ভোজে থাকছে রকমারি সামুদ্রিক মাছ।  ঈদের সকালে শেমাই-পায়েস-মিষ্টান্ন খাওয়ার যে রেওয়াজ আছে বাংলাদেশে, সেসব নেই এখানে। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন