বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ , ৮ শাওয়াল ১৪৪৫

খেলা

হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা থেকে ৩ উইকেট দূরে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার এপ্রিল ২, ২০২৪, ১৮:০২:১৩

239
  • আউট হয়ে হতাশ মুমিনুল। ছবি-ক্রিকইনফো

শ্রীলঙ্কা : ৫৩১ ও ১৫৭/৭ ডি. (৪০.০ ওভারে)

বাংলাদেশ : ১৭৮ ও ১৩২/৪ (৩৪.০ ওভারে)

( চতুর্থ দিন শেষে)

২০০৮-৯ মৌসুমের পর শ্রীলঙ্কার কাছে টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের লজ্জা পায়নি বাংলাদেশ দল। ১৫ বছর পর এবার সেই লজ্জার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।  ৪র্থ দিন শেষে সে শঙ্কার আলামতই তীব্র। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে একাদশতম সিরিজ জয় এবং ৬ষ্ঠ ওয়াইট ওয়াশের আনন্দ থেকে এখন ৩ উইকেট দূরে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশকে সেখানে দ্বিতীয়বারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সমতা আনতে হলে শেষ তিন জুটিকে করতে হবে আরও ২৪৩ রান।  

সিরিজে সমতা আনতে হলে করতে হবে বিশ্বরেকর্ড। সিরিজের শেষ টেস্টে সান্ত্বনার ড্র পেতে হলে পাড়ি দিতে হবে শেষ ৩ জুটিকে পঞ্চম দিনের পুরোটা। 

সিলেটে সর্বশেষ টেস্টের আবহটাই যেনো পাচ্ছে চট্টগ্রাম। সিলেট টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৫০৯ রানের চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়ে ৩২৮ রানে জিতে উৎসব করেছে শ্রীলঙ্কা। এবার একাদশতম সিরিজ জয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে ৫১১ রানের চ্যালেঞ্জ।

টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮'র বেশি রান তাড়া করে জেতার অতীত নেই কারো। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২০৯ তাড়া করে একবার জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। ফলে সাঁতরে মহাসমুদ্র পাড়ি দেয়ার মতো পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দল।   

 শেষ ম্যাচ বাঁচাতে হলে ব্যাটিংয়ে পার করতে হবে পৌনে দুই দিন। চতুর্থ দিনে ৭৩ ওভারের সঙ্গে পঞ্চম দিনে ৯০ ওভার প্রতিরোধের সংকল্প নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে নেমেছে বাংলাদেশ।

এই মহা চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে ৪র্থ দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৬৮/৭। মিরাজ ৪৪ রানে এবং তাইজুল ১০ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। জয় থেকে শ্রীলঙ্কা যেখানে ৩ উইকেট দূরে, সেখানে অলৌকিক কিছু করতে হলে বাংলাদেশের দরকার আরও ২৪৩ রান। 

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন ৬৫ মিনিট ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা যোগ করেছে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান। আগের দিনের স্কোর ১০২/৬ কে টেনে নিয়েছে এদিন ইনিংস ঘোষণা পর্যন্ত ১৫৭/৭ পর্যন্ত। তৃতীয় দিন ৩৯ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা ম্যাথুউজ টেস্ট ক্যারিয়ারে এদিন ৪১তম ফিফটি উদযাপন করেছেন।

বিশ্বকাপে টাইমড আউট বিতর্কে সাকিবের সঙ্গে মনস্তাত্বিক যুদ্ধ বেঁধে যাওয়া ম্যাথুউজের উইকেটটি পেয়েছেন সাকিব। তার মিডল এন্ড লেগ পিচিং ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ম্যাথুউজ (৭৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫৬)। ১১ মাস পর প্রত্যাবর্তন টেস্টে সাকিব পেয়েছেন ৪ উইকেট (৩/১১০ও ১/৩৯)। টেস্টে আড়াইশ উইকেট ক্লাবের সদস্যপদ থেকে ১৩ উইকেট দূরে এখন তিনি।

তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ৪ উইকেট পাওয়া অভিষিক্ত পেসার হাসান মাহমুদের ৫ম উইকেটের স্বপ্ন পূরণ হয়নি এদিন। আজ ৪ ওভারের স্পেলে উইকেটহীন কাটিয়েছেন তিনি। ২ ওভারের স্পেলে খালেদও কাটিয়েছেন উইকেটহীন। 

প্রথম ইনিংসের মতো এই ইনিংসেও বাংলাদেশ ব্যাটাররা শ্রীলঙ্কা বোলারদের অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে বিপর্যস্ত হয়েছে। ৪টি উইকেটের মধ্যে দুটিতে হেসেছে শ্রীলঙ্কা অ্যাঙ্গেল ডেলিভারি দিয়ে। লাঞ্চের আগে ৩৫ মিনিট উইকেটহীন কাটিয়ে ওপেনিং পার্টনারশিপ বড় করার আভাস দিয়েছিলেন জয়-জাকির।

তবে লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে ভেঙ্গে তাদের প্রতিরোধ। বাঁ হাতি স্পিনার প্রবথ জয়সুরিয়াকে ব্যাকফুটে কাট করতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন জয় (৩২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৪)। লাঞ্চের পর ৭ম ওভারে বিশ্ব ফার্নান্ডোর অ্যাঙ্গেল ডেলিভারিতে ফার্স্ট স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন জাকির (৩৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৯)। লাহিরু কুমারার একই ধরণের ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে শান্ত হয়েছেন বোল্ড (৫৫ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২০)।

ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ানডে আমেজে ব্যাট করেছেন মুমিনুল। প্রবথ জয়সুরিয়াকে এক ওভারে মেরেছেন ১ বাউন্ডারি, ১ ছক্কা।  ৫৪ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারে ১৯তম ফিফটি উদযাপন করে ইনিংসটাকে বড় করতে চাননি মুমিনুল। টি ব্রেকের চার মিনিট আগে প্রবথ জয়সুরিয়াকে সুইপ করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন মুমিনুল (৫৬ বলে ৮ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৫৬)। 

টি ব্রেকের পর সাকিব-লিটনের পার্টনারশিপে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখেছে বাংলাদেশ দল। তবে কামিন্দু মেন্ডিজের আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাকিব ৩৬ রানে (৫৩ বলে ৩ বাউন্ডারি) ফিরে গেলে ৫ম উইকেট জুটি থেমেছে ৬১ রানে।

চলমান সিরিজে ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে চট্টগ্রাম টেস্টে ৪র্থ ইনিংসকে নিয়েছিলেন বেছে লিটন। তবে শর্ট বল খেলার প্রবণতায় ফিফটি হাতছাড়া করেছেন তিনি। লাহিরুর শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ (৭২ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৮)। মিরাজের সঙ্গে বোঝাপড়ায় চতুর্থ দিন পার করার আভাস দিয়েও রণেভঙ্গ দিয়েছেন শাহাদত দিপু। কামিন্দু মেন্ডিজের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে এলবিডাব্লুউতে (৩৪ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১৫) থেমেছেন দিপু। 

সিলেট টেস্টে ১৮৮, ১৮০-এর পর চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসে ১৭৮। এই প্রথম চলমান টেস্ট সিরিজে আড়াইশ দেখেছে বাংলাদেশ। ৫ ইনিংস পর ফিফটির স্বপ্ন দেখছেন মিরাজ।  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন