মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ , ১১ জিলহজ ১৪৪৫

খেলা

মুশফিকের হাতে স্ট্যাম্প দেখে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন হৃদয়

স্পোর্টস রিপোর্টার মার্চ ১৯, ২০২৩, ০১:০৭:৫৪

277
  • ম্যান অব দ্য ম্যাচ তৌহিদ হৃদয়। ছবি-বিসিবি

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে ৪৭ ম্যাচে ৫ সেঞ্চুরি ১০ ফিফটিতে ১৬২৩ রানে বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক তৌহিদ হৃদয়। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি এই টপ অর্ডার নিজেকে চিনিয়েছে সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০তে।

ওই আসরে ১২ ইনিংসে ৫ ফিফটি, ৩৬.৬৩ গড়ে এবং ৩৬.৬৩ স্ট্রাইক রেটে ৪০৩ রান করে নির্বাচকদের নজরে এসেছেন। বিপিএলে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানে নির্বাচকদের নজরে এসে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪ও ২৭ রানের ইনিংসে ইয়েস কার্ড পেয়ে শনিবার ওয়ানডে অভিষেকও হয়েছে তৌহিদ হৃদয়ের।

ওয়ানডে অভিষেকে এতোদিন অভিষেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের মধ্যে ফিফটি ছিল আগে কেবল দুজনের। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ছয় নম্বরে নেমে ফরহাদ রেজা করেছিলেন ৫০। ২০১১ সালে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আটে নেমে নাসির হোসেন করেছিলেন ৬৩।সেই তালিকায় তৃতীয় নাম তৌহিদ হৃদয়।

বাংলাদেশের ১৪০ তম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে  ৫৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে চোখ রেখেছিলেন তৌহিদ হৃদয় সেঞ্চুরির দিকে।১৯৭২ সালে ম্যানচেষ্টারে  অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ডেভিড লেসাইলিকে (১০৩) দিয়ে শুরু ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরিয়ানদের লিস্ট।২০২১ সালের জানুয়ারিতে আবুধাবিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আফগানিস্তানের রাহমানুল্লাহ গুরবাজের সেঞ্চুরির পর তালিকাটি থেমেছে। শেষ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিংয়ে থাকলে ওয়ানডে অভিষেকে ১৭তম ভাগ্যবান হিসেবে পেতেন সেঞ্চুরি।

ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটার হিসেবে এই রেকর্ড হতে পারতো তার। তবে হুম-এর দ্বিতীয় স্পেলে ফ্লিক করতে যেয়ে বোল্ড আউট হয়ে ৭ম দুর্ভাগা ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে ৯০'র ঘরে থেমেছেন তৌহিদ হৃদয় (৮৫ বলে ৯ চার, ২ ছক্কায় ৯২)। 

ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেও ম্যাচ সেরা'র পুরস্কার পেয়েছেন তৌহিদ হৃদয়। তাই সেঞ্চুরি হাতছাড়া করার আক্ষেপ নেই তৌহিদ হৃদয়ের-‘যেটা পেয়েছি, এটাই হয়তো আমার রিজিকে ছিল। যা পেয়েছি, এতেই আলহামদুলিল্লাহ। পরেরবার হবে ইনশাল্লাহ।আসলেই কোনো আক্ষেপ নেই। অভিষেকে এত রান… ওভাবে চিন্তা করিনি। ভবিষ্যতে যাদের অভিষেক হবে, তাদের জন্য শুভকামনা, তারা যেন আরও ভালো কিছু করে।’ 

২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জিতে মুশফিকুর রহিম একটি স্ট্যাম্প তুলে নিয়ে স্মারক হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন নিজের কাছে। শৈশবে ঐ দৃশ্যটি টেলিভিশনে দেখে হয়েছেন অনুপ্রাণিত। একদিন জাতীয় দলে খেলবেন বলে সেই থেকে দেখেছেন স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণের গল্পটা শুনিয়েছেন তৌহিদ হৃদয়- ‘২০০৭ সালের একটা কাহিনী।তখন আমি অনেক ছোট। মুশফিক ভাই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জিতে একটা স্ট্যাম্প পেয়েছিলেন। একটা প্রোগ্রামে মুশফিক ভাইয়ের কাছে যখন স্ট্যাম্প দেখি, তখন থেকেই অনেক অনুপ্রাণিত হই। তখন থেকেই ইচ্ছে ছিল একদিন জাতীয় দলে যদি খেলতে পরি।’ 

তৌহিদ হৃদয়ের ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে ওঠার পথে বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক, বেশ ক'টা ক্লাবের কেচ খালেদ মাহমুদ সুজনের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেছেন তৌহিদ হৃদয়-‘যখন আমি অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেটে খেলি, তখন সুজন স্যার ওখান থেকে নিয়ে এসে সুযোগ করে দিয়েছেন। তারপর ফাস্ট ডিভিশন খেলে আমার এই উঠে আসা।’

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন