বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ , ১৩ মুহররম ১৪৪৪

খেলা

তামিমের মাইলস্টোনের দিনে লিটন-বিজয়-মুশফিকের ফিফটি

শামীম চৌধুরী আগস্ট ৫, ২০২২, ১৭:৪০:৩০

159
  • ৮ হাজার রানের মাইলস্টোনের পথে তামিমের একটি শট। ছবি-ক্রিকইনফো

বাংলাদেশ : ৩০৩/২ (৫০ ওভারে)

টোয়েন্টি-২০ সিরিজ ২-১এ হেরে বড় ঝাঁকুনি খাওয়ারই কথা বাংলাদেশ দলের। তবে প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে ফিরেই চেনা বাংলাদেশ হাজির। জিম্বাবুয়েকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে ছন্দটা একটু বেশিই পেয়েছে যেনো তামিমের দল।

ব্যাট করতে এসেই হাফ সেঞ্চুরির দেখা—মাহমুদউল্লাহ ছাড়া সবার স্কোর ছুঁয়েছে তা। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডেতে ৮ হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ প্রাপ্তির দিনে তামিম থেমেছেন ৬২-তে। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়ার আগে লিটনের নামের পাশে ৮১ রান।

৩ বছর ৫দিন পর ওয়ানডে প্রত্যাবর্তন ইনিংস উদযাপন করেছেন বিজয় হাফ সেঞ্চুরিতে। সময়ের হিসেবে ৭ বছর ৯দিন পর হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন বিজয় প্রিয় ফরমেটে (৭৩)। হজব্রত পালন করে মাঠে ফিরেই মুশফিক দিয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি উপহার (৫২*)।

ভায়রা মাহমুদউল্লাহ পেয়েছেন মাত্র ১২ বল। তাতেই তার স্কোর ২০*। এমন ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬ষ্ঠ বারের মতো ইনিংসে ৩শ' প্লাস করতে পেরেছে বাংলাদেশ। হারারেতে এর আগে সর্বোচ্চ স্কোর ছিল বাংলাদেশের ৩০২/৫। গত বছরের সেই স্কোর টপকে শুক্রবার (৫ আগস্ট) বাংলাদেশের স্কোর ৩০৩/২।

ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে সাবধানী ব্যাটিং৫০/০, ওপেনিং পার্টনারশিপে তামিম-লিটনের দারুণ বোঝাপড়ায় ১২০ বড় স্কোরের আবহ দিয়েছে। শেষ ৬০ বলে টোয়েন্টি-২০ স্টাইলে ব্যাটিং করেছেন বিজয়, মুশফিক, লিটন। এই ৬০ বলে বাংলাদেশ যোগ করেছে ১১৯।
ওয়ানডেতে ৮হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ পেতে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন অধিনায়ক তামিম। এই মাইলস্টোনে দরকার তার ৫৭। একদিবসীয় ক্রিকেটে ফর্মের তুঙ্গে থাকা তামিমের সামনে প্রতিপক্ষ যখন জিম্বাবুয়ে, ক্যারিয়ারের সেরা দুটি ইনিংস এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে (১৫৪ ও ১৫৮), তখন এই সিরিজে তিনটি তামিমের মাইলস্টোনের দিকেই চোখ সমর্থকদের।

৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ৮ হাজারি ক্লাবের সদস্যপদ পেয়েছেন তামিম। প্রথম স্কোরিং শটটি তার নাগারাভাকে ইনিংসের ৬ষ্ঠ বলে ফ্লিক শটে বাউন্ডারি দিয়ে। নুয়াচিকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারিতে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস। সিকান্দার রাজাকে থার্ডম্যানে বাউন্ডারি শটে পৌছে গেছেন এই মাইলস্টোনে। ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার, এই এক হাজার রানটি এসেছে একটু দ্রুতই।

লেগেছে তামিমের মাত্র ২৩টি ইনিংস। ২২৯তম ম্যাচে ২২৭তম ইনিংসে তামিম পূর্ণ করেছেন ওয়ানডেতে ৮ হাজার রান। এই মাইলস্টোনে পেছনে ফেলেছেন ভারত লিজেন্ডারি দ্রাবিড় (২২৮), অস্ট্রেলিয়ার গিলক্রিস্ট (২৩০), পাকিস্তানের ইনজামাম (২৩১) ভারতের শেভাগ (২৩৪),শ্রীলঙ্কার আতাপাত্তু (২৩৯), ডি সিলভা (২৪৭) এবং সাঙ্গাকারাকে (২৪৭)।

মাইলস্টোনের ম্যাচে তামিম থেমেছেন ৬২ রানে, সিকান্দার রাজাকে হুক করতে যেয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে। তবে ৮৮ বলে ৬২ রানের এই ইনিংসে আছে দর্শনীয় ৯টি বাউন্ডারি। নুয়াচি,নাগারাভা,বার্লকে কভার দিয়ে ট্রেডমার্ক শটটি এক কথায় অসাধারণ। শুধু নিজে মাইলস্টোন পূর্ণ করেননি। লিটনকে নিয়ে ১২০ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপে দিয়েছেন নেতৃত্ব তামিম। ওয়ানডেতে ১৪ সেঞ্চুরির পাশে ৫৩তম সেঞ্চুরিটি অবশ্য এদিন পূর্ণ করতে সতর্ক ব্যাটিং করেছেন তামিম।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ম হাফ সেঞ্চুরিতে লেগেছে তার ৭৯টি বল। ৪৮-এ আটকে ছিলেন বেশ কিছুক্ষণ। অবশিষ্ট ২ রানে লেগেছে তার ১৫টি বল। বড়ই কাকতালীয়। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার-তিনটি মাইলস্টোনেই তামিমের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে!

বছরটা দারুণ কাটছে লিটনের। এ বছর ইতোমধ্যে করেছেন টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ মিলিয়ে ২৮ ম্যাচে করেছেন ১৩৯৬ রান। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ওয়ানডে ক্যারিয়ারসেরা ১৭৬ রানের ইনিংসটা তার এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। সে কারণে ছন্দময় ব্যাটিং করেছেন শুক্রবার (৫ আগস্ট)। হারারেতে তামিমের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ১২০ রানে রেখেছেন অবদান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ফিফটিও এদিন পূর্ণ করেছেন লিটন সতর্ক দৃষ্টিতে ৭৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ব্যাটটা চওড়া করতে চেষ্টা করেছেন।

ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে পর পর ৩টি বাউন্ডারিতে সে বার্তাই দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ওডিআই সেঞ্চুরিতেও ছিল তার চোখ। তবে ৮৯ বলে ৮১ রানের ইনিংসটা থেমেছে তার চোট পেয়ে। যে ইনিংসে ছিল ৯ চার, ১ ছক্কা। সিকান্দার রাজাকে কুইক সিঙ্গল নিতে যেয়ে পায়ের পেশিতে টান পড়ায় দাঁড়িয়ে উঠতে পারেননি লিটন দাস।  স্ট্রেচারে শুয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে ডানহাতি এই ওপেনারকে।

৫০ ওভার ফরম্যাটের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১১৩৮ রানে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বিশ্বরেকর্ড করে বিজয় ফিরেছেন জাতীয় দলে। তবে ৫০ ওভারের ম্যাচের পারফরমারকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে টেস্ট এবং টি-২০তে, জিম্বাবুয়ে সফরেও টপ অর্ডার সঙ্কটে টি-২০তে নামিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে। তার ফলটা ভালো হয়নি।

সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ২৩ও ৪, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের টি-২০তে ১৬,৩,১০, জিম্বাবুয়ে সফরে টি-২০তে সেখানে ২৬,১৬,১৪! এমন পারফরমেন্সে ওয়ানডে সিরিজে তার ফেরার পথ রুদ্ধ হওয়ার কথা। তবে শান্ত’র পরিবর্তে বিজয়কে নামিয়ে দিয়ে যথার্থ সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। প্রিয় ফরমেটে ৩ বছর ৫দিন পর প্রত্যাশিত ব্যাটিং করেছেন বিজয়। শুরু থেকে ছিলেন স্ট্রাইক রেটের প্রতি সজাগ। ৪৭ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৩৯তম ওয়ানডেতে ৪র্থ হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ব্যাটটা আরও চওড়া।

তবে নুয়াচির বলে ছক্কা মারতে যেয়ে লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (৬২ বলে ৭৩)। এই নুয়াচিকেই পর পর দুই বলে মেরেছেন বিজয় চার, ছক্কা!  নুয়াচির শর্ট বলে আপার কাটে তার বাউন্ডারিও পেয়েছে বাহাবা। জিম্বাবুয়ে বোলারদের মধ্যে উইকেটের দেখা পেয়েছেন নুয়াচি (১/৬৫), সিকান্দার রাজা (১/৪৮)।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন