বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮ , ১৪ জুমাদাউস সানি ১৪৪৩

খেলা

স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করছে পাকিস্তান

শামীম চৌধুরী, চট্টগ্রাম থেকে নভেম্বর ২৭, ২০২১, ১৫:১১:৫১

318
  • ফিফটির পথে আবিদ আলীর একটি শট। ছবি-ক্রিকইনফো

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৩৩০/১০ (১১৪.৪ ওভারে)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ৭৯/০ (২৯.২ ওভারে)
(২য় দিনের টি ব্রেক পর্যন্ত)

দিনের দ্বিতীয় সেশনে উইকেট থেকে তেমন একটা মুভমন্টে পাওয়া যায় না। এই সেশনে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করা সম্ভব, তা দেখিয়ে দিয়েছেন প্রথম দিন মুশফিক-লিটন এই সেশনে ১০২ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনটি একান্ত নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের ৩৩০/১০-এর জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে এই সেশনে তাদের স্কোর উইকেটহীন ৭৯। দ্বিতীয় দিনের টি ব্রেক পর্যন্ত ২৫১ রানে পিছিয়ে ছিল পাকিস্তান। আবিদ আলী হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন (৮৯ বলে ৫২)। টেস্ট ডেব্যুটেন্ট আবদুল্লাহ শফিকের স্কোর সেখানে ২৭।

প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫৩/৪। এমন একটি দিন শেষে চারশর দিকেই চোখ রাখার কথা বাংলাদেশ দলের। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের গেম প্লানে অবশ্য বাংলাদেশ দলকে সাড়ে তিনশর মধ্যে বেঁধে ফেলা ছিল লক্ষ্য। প্রথম দিনের খেলা শেষে এ লক্ষ্যের কথাই জানিয়েছিলেন পাকিস্তান পেসার হাসান আলী।

শুধু লক্ষ্যের কথা জানিয়ে থেমে থাকেননি হাসান আলী। নিজে দায়িত্বটা নিয়েছেন (৫/৫১)। শনিবার (২৬ নভেম্বর) প্রথম সেশনে তার দুটি স্পেলেই (৬-২-৭-২ ও ১.৪-০-৬-২) শেষ বাংলাদেশ। যোগ করতে পেরেছে এদিন, শেষ ৬ উইকেটে ৭৭ রান।

বাংলাদেশকে অল আউট করেই লাঞ্চে গেছে পাকিস্তান। প্রথম দিন প্রথম সেশনে ৬৯ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৪ উইকেট। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটিও দুর্যোগময়-৭৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ৬ উইকেট।

দিনের প্রথম ঘণ্টা বিপজ্জনক। টেস্টের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও সেই বিপদসংকুল ঘণ্টা বড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। প্রথম দিনের প্রথম ঘণ্টায় স্কোরকর্ডে ৪৩ উঠতে হারিয়েছে বাংলাদেশ ২ ওপেনার। দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘণ্টায় আরো বেশি নাকাল বাংলাদেশ দল। ২৩ রানে হারিয়েছে ৩ উইকেট। দুই সেট ব্যাটসম্যান লিটন, মুশফিক ফিরেছেন এই ঘণ্টায়। দ্বিতীয় ঘণ্টায় ৫৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ শেষ তিন ব্যাটার। অনোন্যপায় দিনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় মিরাজ ৬ বাউন্ডারিতে ৩৮ করেছেন। তাতেই স্কোরটা টেনে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ ৩৩০/১০ পর্যন্ত।

প্রথম দিনে মুশফিক-লিটনের পার্টনারশিপ দ্বিতীয় দিনে দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। তবে প্রথম দিনে ২০৪ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ দ্বিতীয় দিন যোগ করতে পেরেছে মাত্র ২ রান। দিনের দ্বিতীয় ওভারে হাসান আলীর বলে ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে লিটন এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন। আম্পায়ার নট আউট সিদ্ধান্ত দিলে রিভিউ আপিলে লিটন এলবিডাব্লুউতে থেমে গেছেন। ২৮৩ মিনিটের ইনিংসে ২৩৩ বলে ১১ চার, ১ ছক্কায় করেছেন তিনি ১১৪। দ্বিতীয় দিনে যোগ করতে পেরেছেন ১ রান। খেলেছেন ১১ মিনিট।

প্রথম ঘণ্টায় পাকিস্তান পেসার হাসান আলীর স্পেলটাই (৬-২-৭-২) বিপদে ফেলেছে বাংলাদেশ দলকে। দলের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে প্রতীক্ষিত অভিষেকে নিজেকে চেনাতে পারেননি ইয়াসির। ডেব্যুটেন্ট ইয়াসির আলী রাব্বী প্রথম রানের জন্য ১৪টি বল মোকাবিলা করেছেন। তবে হাসান আলীর বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁকে গ্যাপটা একটু বেশিই ছিল তার। লেগ স্ট্যাম্পটা উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছেন চট্টগ্রামের এই ছেলেটি (১৯ বলে ১ চার-এ ৪)। শাহীন শাহ আফ্রিদিকে থার্ডম্যান দিয়ে বাউন্ডরি শটে সেঞ্চুরির সম্ভাবনার জানান দিয়ে নার্ভাস নাইনটিজের ঘরে আটকে গেছেন মুশফিক। শাহীন শাহ আফ্রিদির জায়গায় ফাহিম আশরাফের হাতে বল তুলে দিয়েই সাফল্য দেখেছেন বাবর আজম।

দ্বিতীয় দিন ফাহিম আশরাফের ৫ম ডেলিভারিতে মুশফিক উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ (৯১)। নিজের আউটটা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন মুশফিক। ব্যাটে, না প্যাডে লেগেছে তা নিয়ে সন্দিহান থাকায় রিভিউ নিয়েছিলেন। তবে সেই রিভিউতে লাভ হয়নি। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল যখন মুশফিকের ব্যাট অতিক্রম করছিল তখন তার ব্যাট প্যাডের সঙ্গেও লেগে ছিল। কিন্তু আল্ট্রাএজে স্পাইক দেখা যাওয়ায় ইংলিশ ফিল্ড আম্পায়ার মিচেল গফ-এর সিদ্ধান্ত যথার্থ বলে রায় দিয়েছেন টিভি আম্পায়ার গাজী সোহেল। ৩৪৯ মিনিচের ইনিংসে ২২৫ বলে ১১টি চার মেরেছেন মুশফিক।

দ্বিতীয় স্পেলে শেষ ২টি ডেলিভারিতে রাহি (৮) এবং এবাদতের উইকেট (০) পেয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টকে স্মরণীয় করে রেখেছেন পাকিস্তান পেসার হাসান আলী। বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক ইনিংসে পেয়েছেন ৫ উইকেট।

দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে মুমিনুলের ভুলে অবধারিত একটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। তাইজুলের তৃতীয় ওভারের ৫ম বলে আবদুল্লাহ শফিক ছিলেন পরিষ্কার এলবিডাব্লুউ। ফিল্ড আম্পায়ার গফ-এর নট আউট সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিভিউ আপীল করলেই উইকেটটা এই ব্যাটারকে ৯রানে এবং পার্টনারশিপ ৩১ রানে থামিয়ে দেয়া যেতো। অথচ, মুমিনুল রিভিউ না নেয়ায় পার্টনারশিপটি দুর্ভাবনায় ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

 

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন