বুধবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮ , ১৪ জুমাদাউস সানি ১৪৪৩

খেলা

মুশফিক-লিটনের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিংই দেখতে চেয়েছি

শফিকুল হক হীরা, সাবেক অধিনায়ক, ম্যানেজার নভেম্বর ২৬, ২০২১, ২১:১১:২৪

314
  • শফিকুল হক হীরা, সাবেক অধিনায়ক, ম্যানেজার

গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ে সফরে শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর পর বাংলাদেশ টি-২০ ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত ছিল। পাঁচ মাস পর টেস্টে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্র শুরু হয়েছে বাংলাদেশের।

সব সময় দেখে আসছি, নতুন বলে বাংলাদেশ টপ অর্ডারদের বিপক্ষে বিপক্ষ দলগুলো এডভানটেজ নিয়ে থাকে। শুক্রবারও তেমনটাই দেখলাম। বাংলাদেশ প্রথম সেশনে প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেনি। তামিমের অনুপস্থিতি এদিন ভালই টের পেয়েছি আমরা।

একটা পর্যায়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৪৯/৪। লিটন মুশফিককে নিয়ে সম্প্রতি অনেক কথা হয়েছে, সমালোচনা হয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে না পারায় তাদেরকে হোমে টি-২০ সিরিজ থেকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। যদিও কেউ কেউ বলছে বিশ্রাম নয়, বাদ দেয়া হয়েছে।

তবে আমি বলব বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। এই বিশ্রামের কারণ টেস্ট। এই সময়টা তারা নিজেদের মতো অনুশীলন করে টেস্টের প্রস্তুতি নিয়েছে, শুক্রবার এই জুটির ব্যাটিং দেখে তা মনে হয়েছে। যেহেতু তাদের উপর নির্বাচকমন্ডলী, টিম ম্যানেজমেন্ট সন্তুষ্ট নন-সে কারণেই তাদের রানে ফেরার তাগিদ ছিল। নিজদের প্রমানের তাড়াও ছিল। লাঞ্চ পর্যন্ত ওরা খুব দেখে-শুনে খেলেছে।

লাঞ্চ ব্রেকের সময় ৪০ মিনিট উইকেট বিশ্রাম পেয়েছে। ফলে লাঞ্চের পর এই পিচটা ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে গেছে। যদিও লাঞ্চের পর পাকিস্তানের বোলাররা বলে সুইং পেয়েছে, তারপরও লিটন, মুশফিক দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছে।
৬০-এর ঘরে লিটন একটা চান্স দিয়েছে। সেই সুযোগটা পাকিস্তান নিতে না পারায় তার মাশুলটা দিতে যাচ্ছে সফরকারী দলটি। জিম্বাবুয়ে সফরে লিটন মাত্র ৫ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছে। শুক্রবার যখন ও ৯০ রানের ঘরে, তখন সম্ভবতঃ ওই ইনিংসের কথাটা মনে রেখে ব্যাট করেছে। ও যখন সেঞ্চুরির কাছাকাছি, তখন হ্যামেস্ট্রিংয়ে টান পেয়েছে, বাঁ হাতেও ব্যাথা পেয়েছে। দেখলাম পাকিস্তানের এক ফিল্ডার এসে ওর হাতে ম্যাসাজ করছে। তার পর মাঠে এলো আমাদের ফিজিও। লিটন এই চোট নিয়েই দিনটা পার করে গেছে।
দ্বিতীয় নতুন বল লিটন-মুশফিক খেলতে চাচ্ছে না। এমনটা ধরে নিয়ে দ্বিতীয় নতুন বলে দিনের শেষ দিকে অ্যাটাক করতে যেয়ে বোকা বনে গেেছে পাকিস্তান দল। মুশফিকুর রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি অনেক কথা হয়েছে। মুশফিকও পাল্টা মন্তব্য করে এসব আলোচনায় নিজেকে জড়িয়েছে।  আমরা সবাই বলি, ও আদর্শ টেস্ট ব্যাটসম্যান। সেটাই প্রুভ করতে চাচ্ছে সে। প্রথম দিন যেভাবে  ও ব্যাট করেছে, তাতে ওর সেঞ্চুরিটিও প্রাপ্য।
আমাদের এই জুটিটা ইতোমধ্যে ২০৪ রানে অবিচ্ছিন্ন আছে। এদের পেছনের সারিতে বেশ ক'জন ব্যাটসম্যান আছে। ইয়াসির আলী রাব্বী চট্টগ্রামের ছেলে। অনেক দিন দলের সাথে থেকে অভিষেক হলো ছেলেটির। এই ছেলেটির ব্যাটিং সামর্থ মিরাজের চেয়ে ভাল মনে হচ্ছে। যেহেতু রাব্বীকে ব্যাটসম্যান হিসেবে নেয়া হয়েছে, তাই ওকে ৭ নম্বরে খেলানো উচিৎ। ওর পেছনে মিরাজ, তাইজুলও ব্যাট করতে পারে। তাই ৪০০ থেকে ৪৫০ স্কোর করা দরকার। তা সম্ভব হলে ম্যাচ বাঁচানোর সুযোগ থাকবে।
উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য ভাল। পাকিস্তানের এই টেস্ট দলটি কিন্তু সেরাদের নিয়েই গঠিত হয়েছে। এই উইকেটে ভাল ব্যাটিংয়ের সামর্থ আছে ওদের। এটাও মাথায় রাখতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন