সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ , ১১ সফর ১৪৪৩

অন্যান্য
  >
নারী দিবস

নারী জীবনের সাতকাহন

ইসরাত জাহান ৭ মার্চ , ২০১৯, ১৪:৫০:৩০

  • নারী জীবনের সাতকাহন

একটা মেয়ে শিশু থেকে নারী হয়ে উঠার পেছনে হাজারটা না বলা গল্প লুকিয়ে থাকে। অনেক মেয়ে শিশুর জন্মটা পরিবারে নিয়ে আসে শোকের ছায়া। পরিবার হয়তো তাকে চায়নি, চেয়েছিল পুত্রসন্তান। আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশী বলে উঠবে আবার মেয়ে! ভাবটা এমন যে দম্পতির ছেলে সন্তান নেই তাদের মতো কপালপোড়া আর কেউ নাই।

মেয়েটি বেড়ে উঠতে গিয়ে শোনে হাজারটা বিধি-নিষেধ। তুমি মেয়ে মানুষ কথায় কথায় প্রতিবাদ করতে যাবে না। মেয়েরা হবে স্বল্পভাষী। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই মেয়ে ট্যাটনা কিংবা দেমাগ বেশি। এমনকি রাস্তায় চলার সময় কেউ মাল বললেই প্রতিবাদ করতে পারবে না। রাস্তায় চলতে গিয়ে বখাটের উৎপাত হলে সহজ সমাধান মেয়েটার বিয়ে দেয়া। মেয়েটা যদি হয় মেধাবী, যদি নিজেকে প্রমাণ করার ইচ্ছে থাকে তবু তার কথা শোনা হবে না। জোর করে বিয়ে দেয়া হবে।

মেয়েরা পড়ালেখার অধিকার পেলেও খুব কম মেয়েকে বিয়ের আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার, নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ দেয়া হয়। বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়ি ঢোকার সাথেই জীবনটা বদলে যায়। যেই মেয়েটা হয়তো মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে নাস্তার টেবিলে যেতো। বিয়ের পর সেই মেয়েই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সবার জন্য নাস্তা বানিয়ে সবার ঘুম ভাঙ্গায়। একটা নতুন বাড়ি নতুন পরিবেশ সবাই তাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা না করে উল্টো তার ভুল ধরতেই ব্যস্ত সবাই। শুধু তাই নয় বাবা-মা তুলে কথা শুনিয়ে দেবে। ধীরে ধীরে মেয়েটি এসব মানিয়ে নেয়। কারণ তাকে শিক্ষা দেয় সবসময় তোমাকেই মানিয়ে নিতে হবে।

বাড়ির কে কী পছন্দ করে না করে সুবিধা-অসুবিধা সবটা তাকেই খেয়াল করতে হবে। তবু কেউ বলবে না তুমি সারাদিন সবার খেয়াল রাখো এখন একটু বিশ্রাম করো। আর চাকুরে মেয়ে হলেতো কথায় নাই। অফিস করে ফিরে আবার সবার দেখভাল করা। ভালোমন্দ রান্না হলে ভালোটা আগে পুরুষ সদস্যরা খাবে। তারপর যা বেঁচে যাবে সেগুলো বাড়ির বৌঝি খাবে। এতেই নারীর সম্মান বাড়ে এতেই নারীর কৃতিত্ব। সেই কিশোরী বেলা থেকেই নারী মাতৃত্বের প্রস্তুতি নেয়। একসময় মা হয়। তারপর নারীর দ্বিতীয় জীবন শুরু। সন্তানের ভালো-মন্দ মায়ের ভালো-মন্দ হয়ে যায়। এভাবে সবার সুবিধা-অসুবিধা দেখভাল করেই নারী জীবনের অবসান হয়। কোনো মেয়ে মারা গেলে বলা হয় অমুকের মা নইতো অমুকের বৌ মারা গেছে। মারা যাবার সময়ও নিজের একটা পরিচয় নিয়ে যেতে পারে না। আশার কথা এত ঝড়-ঝাঁপটা সয়েও মেয়েরা এখন ঘর-বাহির দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। নিশাত মজুমদাররা পর্বত জয় করছে।

পুরুষতো আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। বরং তারা আমাদের সহযোগী আর সহযোদ্ধা। তাই নারীর চলার পথটা সহজ হতো যদি পুরুষ নারীকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতো। নারী পুরুষের সহাবস্থান ছাড়া সমাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব না। কিন্তু এই কথাটা বইয়ের পাতায় যত্ন করে রেখে দেয়া আছে। বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। যে লোক টিভিতে এসে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলছে সেই হয়তো তার নারী গৃহকর্মীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছে। আমাদের সমাজ শিক্ষা দেয় পুরুষ মানুষ একটু আধটু লম্পট হলে ক্ষতি নাই। চরিত্র শুধু নারীর নষ্ট হয় পুরুষের না। স্বামী মারধর করলেও মেনে নিয়ে সংসার করাটা নারীর দায়িত্ব।

যে হাতে দোলনা দোলে সে হাতেই বিশ্ব চলে, কথাটা বারবার প্রমাণিত হলেও আমেরিকানরা হিলারীকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নিতে পারেনি। মেনে নিতে পারে না, নারী শুধু নারী না- সে মানুষ। তারও আছে নিরাপদে পৃথিবীতে বিচরণের অধিকার।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers