সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ , ৮ মুহররম ১৪৪৬

অন্যান্য
  >

ঐতিহ্যবাহী বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

চঞ্চল রহমান, ঝিনাইদহ ১৮ জুন , ২০২৪, ২২:০০:৪৭

81
  • ছবি: নিউজজি

প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সুনামের সঙ্গে গত ৩১ বছর শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এখন পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৭টি এসএসসি ব্যাচ সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। এবার সেসব প্রাক্তান্ত শিক্ষার্থীদের উদ্যেগে ‘‘এসো মিলি শিকড়ের টানে’’ স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। 

১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি ব্যাচের অন্তত ৪০০ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্কুল জীবন শেষে দীর্ঘ বছর পর দেখা হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সহপাঠিদের সাথে। আনন্দ ভাগাভাগি করে সবাই মিশে গিয়েছিল অনুষ্ঠানে। আনন্দের কোনও কমতি ছিলনা সহপাঠিদের মাঝেও।

ঈদ পুনর্মিলনী সাবেক প্রাধন শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান, সাবেক সহকারি শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান, বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ মুরতাজ আলী, সহকারি শিক্ষক মোঃ হুসাইন আহম্মদ, সহকারি শিক্ষক মোঃ হাফিজুর রহমান, সহকারি শিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক মোঃ জহুরুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষিকা মোছাঃ আলিমা খাতুন ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ কামরুল ইসলাম কাজল উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৯ সালের শিক্ষার্থী মোঃ মিলন মিয়া। 

মঙ্গলবার বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে সকাল ১১ টায় পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যেগে ঈদ পুর্নমিলন অনুষ্ঠান। এরপর শুরু হয় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব। 

শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব শেষে শুরু হয় স্মৃতিচারন। প্রথমে ১৯৯৭ এসএসসি ব্যাচের কৃর্তী শিক্ষার্থী আজাদ রহমান বলেন, ‘আমি এ অনুষ্ঠানে এসে ধন্য। কোনদিন ভাবেনি এমন একটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারব। এখানে এসে স্কুল জীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আমাদের শিক্ষকমন্ডলীরা যে সুশিক্ষা দিয়েছিলেন সেটাই পরবর্তী জীবনে আমার অনেক কাজে দিয়েছে। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আমি এখন এসপি পদে কর্মরত। এই জায়গা আসার জন্য আমার স্কুল ও স্যারদের অবদান সবচেয়ে বেশি। অনেকেই বলেন চাকরি হয় না। তাদের প্রতি আমার পরামর্শ নিরাশ হয়েন না, পরিশ্রম করেন, আপনি অবশ্যই ফল পাবেন।’

এদিকে ২০০১ এসএসসি ব্যাচের কৃর্তী শিক্ষার্থী মোঃ আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি অনেকদিন আগেই স্কুল জীবনের গন্ডি পেরিয়েছি। বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার আত্বিক সম্পর্ক। কোনদিন স্কুল জীবনের স্মৃতি ভোলার নয়। আমি সব সময় এই স্কুলের সাফল্য কামনা করি।’ 

২০০৪ এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী চঞ্চল রহমান বলেন, ‘১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। ২০০৪ সালে আমি এ প্রতিষ্ঠান থেকে সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ন হয়। এই অনুষ্ঠানে এসে স্কুল জীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। আমাদের সময় আমাদের স্কুলের মাত্র একটি একতলা বিল্ডিং ছিল। পুকুরের পাড়ে ২টি টিনসেড ইটের ঘর ছিল। যে কারণে ঐ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করতে বেশ সমস্যা হতো। তারপরও শিক্ষকদের সঠিক দিক নির্দেশনায় সবকিছু পেছনে ফেলে আমরা আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছায়। আজ বাংলাদেশের অনেক জায়গায় আমাদের বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কর্মরত। তাদের নাম শুনতেই বেশ ভাল লাগে। বর্তমান স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। একটি চারতলা বিল্ডিং, একটি দোতালা বিল্ডিং। চারদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সব মিলিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য স্কুলের দারুণ এক পরিবেশ। তবে আমাদের স্কুলের পরিবেশ আগের মত নেই। এ জায়গায় সবার দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কামনা করছি।’

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শেষে শুরু হয় ব্যাচভিত্তিক পরিচয় পর্ব। এরপর সাবেক প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘১৯৯৩ সালে আমরা যে উদ্দেশ্যে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম তা আজ মনে হচ্ছে সার্থক। এখানে একসঙ্গে আমি আবারও আমার সন্তানদের পাব ভাবিনি। সত্যিই নিজের আজ বড় বেশি ভাল লাগছে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে পেয়ে অনেক স্মৃতি মনে আসছে। একটা সময় আমাদের স্কুলের তেমন অবকাঠামো ছিল না। যা ছিল তাও একটা সময় ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে যায়। তবে সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়ায়। আমাদের সমাজের সবার সহযোগিতায় আমরা আবারও শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করি। শুধু তাই নয় আমরা সফলও হয়। আশা করি এই সফলতার ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে।’ 

সাবেক সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যেগে আয়োজিত আজকের এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও হবে। একটা বড় অনুষ্ঠান করতে যেয়ে কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে হবে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে তেমন কিছুই হয়নি। সব কিছু ঠিক আছে। যারা এ অনুষ্ঠান সফল করতে পরিশ্রম করেছেন তাদের সবার প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন। আসলে বলার মতো কিছু নেই। শুধু বলব, এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি যেন সুনামের সঙ্গে চলে সেদিকে কতৃপক্ষের দৃষ্টি যেন থাকে।’

বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ মুরতাজ আলী বলেন, ‘বাকোসপোতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে সব ব্যাচের সমন্বয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান এবারই প্রথম। এত বড় আয়োজন যাদের উদ্যেগে হচ্ছে তাদের সকলকে ধন্যবাদ। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও যেন হয় এটাই কাম্য। এজন্য যেকোন প্রয়োজন হলে আমরা করব। এ জন্য তোমাদের চিন্তার কিছু নেই। তোমরা আমার সন্তান। তোমাদের প্রতি আমার আহ্বান, সমাজে ভাল মানুষের বড় অভাব। এজন্য ভাল মানুষ হতে হবে। সমাজে ভাল কাজে সম্পৃক্ত হতে হবে। তবেই আমাদের পরিশ্রম সাফল।’

শিক্ষকদের বক্তব্য শেষে শুরু হয় ক্রীড়াঅনুষ্ঠান। সেখানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন  ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি মোঃ আমিনুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মোঃ মুরতাজ আলী ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশের আহবায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান। 

সবশেষে ছিল মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে অত্র বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী গান পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্ত করেন। শিক্ষক মন্ডলীরাও অংশ নেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। সে সময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।    

সকলের সহযোগিতায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলন মেলাকে স্বার্থক করে তুলতে যে নাম গুলো আলোচিত হয় তারা হলেন, মোঃ হাফিজুর রহমান, ফয়জুল হাবিব, মোঃ আরাফাত, মো. নাজমুল হোসেন, সাদিকুল ইসলাম, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ সুমন রহমান, মোঃ জামাল হোসেন, আব্দুস সালাম, মোঃ শাওন, মোঃ রিয়াদ, প্লাবন রহমান। 

আগামীতে আরো বড় পরিসরে এ ধরণের অনুষ্ঠান করার দাবি জানান অনুষ্ঠানে আগত শিক্ষার্থী ও অতিথিরা। 

নিউজজি/ 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন