সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৫ জিলহজ ১৪৪২

জীবনযাত্রা
  >
ফ্যাশন

শীত মৌসুমে বিয়ের সাজসজ্জা

নিউজজি ডেস্ক ৪ ডিসেম্বর , ২০২০, ১৩:২৭:৪৫

  • ছবি: ইন্টারনেট

শীত মানেই বিয়ের মৌসুম, বিয়ে মানেই বাহারি সাজসজ্জা। বিয়েতে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বর–কনেই নয়, আত্মীয়স্বজনসহ অভ্যাগতরা তো বটেই, পুরো বাড়িই সেজে ওঠে বৈচিত্র্যময় সাজে। না হলে বিয়েবাড়ি ঠিক জমে না। এ সাজের রয়েছে রকমফের, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তার ঘটেছে বিবিধ রূপান্তর। কিন্তু এই শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে কিছু বিষয় জানা থাকা চাই।

বিয়ের দুই প্রধান চরিত্র বর ও কনে। এ দুজন সবকিছুর মধ্যমণি, সাজসজ্জারও। এখন গায়েহলুদ থেকে শুরু করে বিয়ের দিন পর্যন্ত বর–কনের সাজসজ্জা মানেই পারলার। নিদেনপক্ষে প্রশিক্ষিত সজ্জানিপুনা কোনো বিউটিশিয়ানকে ডেকে আনা।

আজ আপনাদের শীত মৌসুমে হবু বউদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো। তবে শীতে ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে প্রাণ হীন হয়ে পড়ে। এই মৌসুমে তাই বিশেষ পুষ্টি ও আর্দ্রতা যোগান দেবে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা প্রয়োজন, পাশাপাশি চাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

পরামর্শ-

বিয়ের আগে ত্বকের বাড়তি যত্ন নিয়ে সবাই বেশ তোড়জোড় শুরু করে দেয়। তবে সুন্দর ত্বক পেতে যত্নের মাত্রা বেড়ে গেলে তা আবার হীতে বিপরীত হতে পারে। বিয়ের অন্তত ছয় সপ্তাহ আগে ত্বকের উপযোগী ট্রিটমেন্ট করানো যেতে পারে। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় অনেকের ত্বকেই স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কালচে হয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি ত্বকের পরিবর্তিত রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে ফাউন্ডেশন বাছাই করতে হবে।

আমাদের দেশে বিয়ে আর কনে মানেই উজ্জ্বল রংয়ের ছড়াছড়ি। তাই মেইকআপটাও হওয়া চাই মানানসই। আর বিয়ের মেইকআপ হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী। তাই মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভালোমানের এবং ত্বকের জন্য মানানসই প্রাইমার লাগাতে হবে। এরপর মূল মেইকআপে যেতে হবে। কখনও স্বাভাবিক গায়ের রংয়ের তুলনায় বেশি হালকা ফাউন্ডেশন বেছে নেওয়া ঠিক নয়। এতে দেখতে অস্বাভাবিক লাগতে পারে।

মেইকআপের আগে ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিলে মেইকআপ বেইস সুন্দরভাবে বসে।  শীতে ত্বক মলীন হয়ে যায়। ত্বকের উজ্জ্বলভাব ফিরে পেতে নিতে হবে মেইকআপের সাহায্য। ত্বকের উঁচু অংশগুলোতে হাইলাইটার বুলিয়ে নিন। বিয়ের কনেদের সোনালি বা হালাকা গোলাপি শেইডের হাইলাইটারে বেশি ভালো লাগবে। নাকের উপরে, গালের উঁচু অংশে, ঠোঁটের উপরে, থুতনিতে এবং কপালে হালকা করে হাইলাইটার বুলিয়ে নিতে হবে।

আমাদের দেশে কনের সাজে সোনালি আইশ্যাডোর জনপ্রিয়তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও লাল, গোলাপি বা পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে সবুজ, বেগুনি বা নীল ইত্যাদিও বেশ মানিয়ে যায়। 

দিনের অনুষ্ঠানে হালকা মেইকআপই উপযোগী। কারণ দিনের অনুষ্ঠানে সাজের ক্ষেত্রে ‘ন্যাচারাল লুক’ ধরে রাখা খুবেই জরুরি। রাতের আয়োজনে ভারী মেইকআপ করা যেতে পারে। দিনের সাজে চোখের মেইকআপের জন্য প্যাস্টেল শেইড যেমন* হালকা নীল, হালকা সবুজ, হালকা বেগুনি ইত্যাদি রং বেছে নেওয়া যেতে পারে। সোনালি শিমারের বদলে ব্রঞ্জ বা ম্যাট সিলভার রং বেছে নিতে পারেন।

শীতে ঠোঁটের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে ঠোঁট ফাঁটা বা চামড়া ওঠার সমস্যা দেখা দেয়। এ রকম ঠোঁটে কোনো লিপস্টিকই ভালো লাগবে না। তাই নিয়মিত ঠোঁট স্ক্রাব করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। আর যখনই ঠোঁট শুষ্ক মনে হবে তখনই লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে।

গড়ন ধরন বুঝে শাড়ি

আপনার গায়ের রং শ্যামলা বা চাপা হলে একটু গাঢ় রঙের শাড়ি বেছে নিন। যেমন ব্লাড রেড, গাঢ় নীল বা গোলাপি। পেঁয়াজ বা বেগুনি রঙের শাড়ি মানিয়ে যাবে সবাইকে। যদি উচ্চতা কম হয়, তাহলে বেছে নিন সরু পাড় বা পাড় ছাড়া শাড়ি। উচ্চতা ভালো হলে চওড়া পাড়ের শাড়ি পরুন। আপনার গড়ন হালকা শুকনো হলে ভারী শাড়ি বেছে নিন। শাড়িটি হতে পারে টিস্যু বা মসলিনের আর ভারী কাজের। ভারী গড়নের হলে বেছে নিন সফট ম্যাটেরিয়ালের গাঢ় রঙের শাড়ি। যেমন শিফন বা জর্জেট।

বউ ভাতের সাজ গয়না

বউভাত অনুষ্ঠানের গয়না হোক আরেকটু ছিমছাম এবং হালকা-পাতলা। যেহেতু বিয়ের দিন সোনার গয়না পরা হয়, সেহেতু বউভাতের দিন মুক্তার গয়না পরতে পারেন। দেখতে ভালো লাগবে। আর এতে বিয়ে ও বউভাতের সাজেও ভিন্নতা থাকবে। যদি মুক্তার গয়না পরেন তাহলে কোনো ধরনের সোনা না পরলেই ভালো মানাবে। এ ছাড়া চাইলে রুপার গয়নাও পরতে পারেন। তবে কেউ চাইলে বিয়ের দিনও মুক্তার গয়না পরতে পারেন।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers