রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৩ জিলকদ ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক’ টনিক

নিউজজি ডেস্ক এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১৫:৫৪:১৩

78
  • ওজন কমানোর ‘ম্যাজিক’ টনিক

ঢাকা: ওজন কমানোর নানা ধরনের পানীয় এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে টিকটক ও পিন্টারেস্টের প্রচারিত বিভিন্ন ‘ম্যাজিক’ টনিক বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ফল পেতে হলে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পানীয় বেছে নেয়া জরুরি। এ সব পানীয় ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং শরীরের ক্যালোরি খরচ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ওজন কমাতে কার্যকর পানীয় কেমন হওয়া উচিত?

সব পানীয় একরকম কাজ করে না। একটি ভালো পানীয়—পেট ভরা রাখবে। কম ক্যালোরিতে তৃপ্তি দেবে। মেটাবলিজম বাড়াবে। ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করবে। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ক্ষুধা কমাবে। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখবে। হজমে সাহায্য করবে।

এই তালিকার অনেক পানীয়তে আছে চিয়া বীজ, আপেল সিডার ভিনেগার, গ্রিন টি, আদা, লেবু, দারুচিনি, শসা, পুদিনা ইত্যাদি। এগুলো শরীরের কিছু হরমোন সক্রিয় করতে পারে। যেমন জিএলপি-১। এই হরমোন ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে।

 

গ্রিন টি

সব পানীয়ের মধ্যে গ্রিন টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হয়েছে বলে ধরা হয়। এর জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী কিছু প্রমাণিত উপকারিতা। এতে থাকা ইজিসিজি নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে চর্বি কমাতে সহায়তা করে এবং বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এমনকি বিশ্রামের সময়েও এটি ক্যালোরি বার্ন করার প্রক্রিয়াকে কিছুটা ত্বরান্বিত করতে পারে।

গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন ধীরে ধীরে কাজ করে, ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ক্ষুধার অনুভূতি কিছুটা কমাতে পারে। তাই অনেকেই এটি খাবারের আগে বা খাবারের মাঝের সময়ে পান করতে পছন্দ করেন। নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে এসব উপকারিতা থেকে ধীরে ধীরে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

 

আপেল সিডার ভিনেগার

এই পানীয় ক্ষুধা কমায়। রক্তে শর্করা ঠিক রাখে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এটি খুব পরিচিত, সহজ ও কার্যকর। এতে আছে অ্যাসেটিক অ্যাসিড। এটি রক্তে শর্করা কমাতে সাহায্য করে। ইনসুলিনের কর্মদক্ষতা বাড়ায়। পেট ভরা থাকার অনুভূতি বাড়ায়।  খাওয়ার আগে খেলে ক্ষুধা কমে, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বেশি এমন খাবারের ক্ষেত্রে। সাধারণত ১ চামচ ভিনেগার, লেবুর রস আর সামান্য দারুচিনিকে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া হয়। তবে এটি বেশি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। দাঁতের ক্ষতিও হতে পারে। তাই দিনে একবার, পানি মিশিয়ে খাওয়া ভালো।

 

চিয়া লেমনেড

চিয়া বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দিতে সাহায্য করে। পানির সংস্পর্শে এলে এটি তরল শোষণ করে ফুলে ওঠে এবং একটি জেলের মতো ঘন আকার ধারণ করে। এর ফলে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায় এবং ক্ষুধার অনুভূতিও কমে আসে।

অন্যদিকে লেবুর রসে থাকা ভিটামিন সি হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। এই দুই উপাদান একসাথে মিশিয়ে সহজেই একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরি করা যায়। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিয়া বীজ ও কিছু লেবুর রস মিশিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রেখে দিলে এটি ভালোভাবে তৈরি হয়। এরপর পান করলে এটি উপকারিতা দিতে পারে।

 

কটেজ চিজ স্মুদি

এই স্মুদিতে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেশি গঠনের প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। এটি খেলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা অনুভূতি বজায় থাকে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি এতে সাধারণত চিনি কম থাকে, যা এটিকে আরও স্বাস্থ্যকর করে তোলে।

এই পানীয়টি মূলত লো-ফ্যাট কটেজ চিজ দিয়ে তৈরি করা হয়, যেখানে ধীরে হজম হওয়া প্রোটিন থাকে। স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে এর সঙ্গে বেরি, বাদাম দুধ এবং দারুচিনি যোগ করা যেতে পারে। এতে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি উপকারী ব্যাকটেরিয়াও পাওয়া যায়, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। সকালের নাস্তা হিসেবে বা ব্যায়ামের পর এই স্মুদি গ্রহণ করা বেশ ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

 

লেবু-আদা পানি

এটি হজমে সাহায্য করে। পেট ফাঁপাভাব কমায়। লেবুতে আছে ভিটামিন সি। আদায় আছে প্রদাহ কমানোর উপাদান। দুটো মিলে মেটাবলিজম বা বিপাক বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে খেলে ভালো হয়। খাবারের আগে খেলেও ক্ষুধা কমে।

 

দারুচিনি ও দুধ

দারুচিনি রক্তে শর্করা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। গরম দুধে দারুচিনি মিশিয়ে খেলে শরীর প্রশান্ত হয়। এতে রাতের ক্ষুধা কমে। ঘুমও ভালো হয়। ঘুম ভালো হলে ওজন কমানোও সহজ হয়।

 

শসা-পুদিনা ডিটক্স পানি

এটি শরীর ঠান্ডা রাখে। পানি সরবরাহ বাড়ায়। শসায় পানি বেশি থাকে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও আছে। পুদিনা হজমে সাহায্য করে। ক্ষুধা কমায়। এক জগ পানিতে শসা আর পুদিনা দিয়ে ঠান্ডা করে পান করতে পারেন।

 

দারুচিনি কফি

এটি শক্তি বাড়ায়। চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। কফির ক্যাফেইন মেটাবলিজম বাড়ায়। দারুচিনি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমা কমে। এতে আলাদা চিনি না দিলেও স্বাদ ভালো লাগে।

 

প্রাকৃতিক জেপবাউন্ড রেসিপি

এই পানীয়ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। এটি এখন অনেক জনপ্রিয়। এতে আছে চিয়া বীজ, ভিনেগার, লেবু, আর সামান্য ঝাল মরিচ গুঁড়া। এই উপাদানগুলো মিলে ক্ষুধা কমায়। পেট ভরা রাখে। এটি কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। তবে অনেকের জন্য এটি ভালো প্রাকৃতিক উপায়।

 

মাচা পানীয়

এটি মেটাবলিজম বাড়ায়। চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। মাচা হলো গুঁড়া করা চা পাতা। এতে গ্রিন টির চেয়ে বেশি উপকারী উপাদান থাকে। এটি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময়ও কাজে দেয়। এতে থাকা এল-থিয়ানিন মনোযোগ বাড়ায়।

আজকাল নানান ট্রেন্ডে মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তবে সঠিক খাবার আর নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবে। পেট ভরা রাখবে। পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তি দেবে। আর লক্ষ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করবে।

নিউজজি/এস আর/নাসি  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers