মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়ার উপায়

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ২১, ২০২৬, ১৩:০৯:৪৬

275
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মানুষ হিসেবে খুব কমই কেউ নিজেকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। অথচ দৈনন্দিন জীবনের নানা পরিস্থিতিতে আমরা ইচ্ছায়–অনিচ্ছায় ছোট-বড় অনেক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকি। কখনো কাউকে সন্তুষ্ট করতে, কখনো নিজেকে বিপদ থেকে বাঁচাতে, আবার কখনো কোনো বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরতে গিয়ে আমরা সত্য থেকে সরে যাই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়, তৈরি হয় আস্থার সংকট। তবে সচেতন চেষ্টা ও আন্তরিকতা থাকলে মিথ্যা বলার এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

যেকোনো অভ্যাস বদলানোর প্রথম ধাপ হলো তার উৎস চিহ্নিত করা। মিথ্যা বলার আগে বা সময়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন—কেন আপনি এটি বলতে যাচ্ছেন? আপনার ভেতরে কি কোনো ভয়, অস্বস্তি বা চাপ কাজ করছে? নিজের অনুভূতি লক্ষ্য করাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া আপনি মিথ্যা বলছেন তথ্য লুকানোর জন্য, নাকি বাড়িয়ে বলার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছেন—এই পার্থক্য বোঝা গেলে মূল সমস্যার শিকড় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরাসরি ‘না’ বলতে না পারার দুর্বলতা থেকেই আমরা মিথ্যার পথ বেছে নিই।

নিজের সীমাবদ্ধতা বা প্রয়োজন সম্পর্কে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে কথা বলতে শেখা এই অভ্যাস ত্যাগে বড় ভূমিকা রাখে। কোনো অস্বস্তিকর প্রশ্নে মিথ্যা না বলে সরাসরি বলতে পারেন যে আপনি এই বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নন।

অনেক সময় আমরা সত্যের পরিণাম নিয়ে অহেতুক ভীত থাকি। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সত্যের ফলাফল আমাদের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি ইতিবাচক হয়। সত্য বললে সাময়িকভাবে কেউ বিরক্ত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে। তাই বড় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে সত্য বলার যাত্রা শুরু করা উচিত।

যেকোনো কথা বলার আগে নিজের অন্তর্দৃষ্টি বা ‘গাট ফিলিংস’ যাচাই করে দেখা প্রয়োজন যে কথাটি সবার জন্য সম্মানজনক কি না।

বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা তৈরি করা মিথ্যা ত্যাগের অন্যতম প্রধান শর্ত। নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখা এবং তথাকথিত ‘সাদা মিথ্যা’ দিয়ে বিষয়টিকে জায়েজ করার প্রবণতা ছাড়তে হবে। সত্যকে মেনে নেওয়ার অভ্যাস কষ্টকর মনে হলেও এটি মানুষকে আত্মিক শান্তি দেয় এবং সুন্দর জীবনের পথ প্রশস্ত করে।

তবে কারো ক্ষেত্রে যদি মিথ্যা বলাটা বাধ্যতামূলক বা আসক্তির মতো হয়ে দাঁড়ায়, তবে দেরি না করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শৈশবের কোনো ট্রমা বা মানসিক চাপ থেকেও এই প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা সঠিক থেরাপির মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দিনশেষে সততা বজায় রাখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদী বিশ্বাস ও মজবুত সম্পর্ক গঠনে সহায়তা করে। 

সূত্র: হেলথ লাইন।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers