মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৫ জিলকদ ১৪৪৭

জীবনযাত্রা

শীতে ঘন ঘন প্রস্রাব, কখন সতর্ক হবেন?

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ৮, ২০২৬, ১৪:৩১:১১

286
  • ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: শীতকালে প্রস্রাবের চাপ বেড়ে যাওয়াটা সাধারণ সমস্যা। অনেকেই বারবার বাথরুমে যাওয়ার ঝামেলায় ভুগেন। কিন্তু কনকনে ঠান্ডায় কম্বল থেকে বের হয়ে ঘরে যেতে ইচ্ছে না হওয়ায় অনেকেই পানি খাওয়া কমিয়ে দেন। এই সমস্যা পুরুষদের মধ্যে বেশি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত কেউ এটিকে খুব গুরুত্ব দেয় না।

শীতকালে বার বার প্রস্রাবের চাপ আসে কেন?

সাধারণত শীতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বড় কোনো সমস্যা নয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ। ঠান্ডার মধ্যে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখতে কিছু পরিবর্তন ঘটায়, যার প্রভাব কিডনিতেও পড়ে।

তাপমাত্রা কমলে ত্বকের কাছে থাকা ক্ষুদ্র রক্তনালী বা ক্যাপিলারি সংকুচিত হয়। ফলে ত্বক থেকে তাপ নির্গমনের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্ত শরীরের কেন্দ্রীয় অঙ্গগুলোর দিকে চলে যায়—বিশেষ করে কিডনির দিকে।

কিডনিতে রক্ত প্রবাহ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই প্রস্রাবের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। শীতে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের অতিরিক্ত তরল প্রধানত প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়। সাধারণত এই পরিবর্তন সাময়িক এবং ক্ষতিকারক নয়। তবে, সব সময় এই বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

কখন গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

শীতকালে বারবার প্রস্রাব হওয়া অনেকের জন্য স্বাভাবিক মনে হলেও, বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত দিতে পারে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য এটি আরও সতর্কতার বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে কম সক্রিয় বা আগে থেকেই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।

ঠান্ডার কারণে রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। শীতের সময় রক্তনালী সংকুচিত হয় এবং শরীরচর্চার পরিমাণ কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করতে পারে। নিয়ন্ত্রণহীন উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ।

যখন কিডনি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে, তখন তা প্রস্রাব ঘন করার ক্ষমতা হারায়। ফলস্বরূপ, প্রস্রাব বেশি পরিমাণে পাতলা হয় এবং মানুষ বারবার বাথরুমে যেতে হয়—বিশেষ করে রাতে। তাই ঘন ঘন রাতের প্রস্রাব কিডনির দুর্বলতার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে সাবধান হবেন?

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা হওয়া
  • দুর্বল বা থেমে-থেমে প্রস্রাব হওয়া
  • প্রস্রাবে বেশি ফেনা হওয়া
  • মুখ, পা বা চোখের নীচের অংশ ফুলে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি

ফেনাযুক্ত প্রস্রাব সাধারণত প্রোটিন লসের কারণে হয়, যা কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। এছাড়াও প্রস্টেটের সমস্যা বা অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের কারণেও এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কেন সতর্কতা জরুরি?

কিডনির রোগ সাধারণত প্রথম দিকে নীরবে বাড়তে থাকে। তবে সহজ কিছু পরীক্ষা যেমন— ইউরিন টেস্ট, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, রুটিন ব্লাড প্রেসার চেক— কিডনির চাপ বা ক্ষতি দ্রুত ধরতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

শীত কমে গেলেও যদি বার বার প্রস্রাবের চাপ পায় তাহলে সাবধান হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

যাদের পরিবারের কারও কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ইতিহাস আছে, তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers