শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ , ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

জীবনযাত্রা

সঞ্চয়ের জন্য জাপানের কাকেবো পদ্ধতি মেনে চলুন

নিউজজি ডেস্ক নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১৪:৪৫:২১

315
  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: বিশ্বের জনপ্রিয় লেখকদের একজন সারা হার্ভি, যিনি লিখেছেন ‘কাইজেন: জাপানিস সিক্রেট টু লাস্টিং চেঞ্জ’। টোকিওতে অবস্থানের সময় জাপানি সংস্কৃতির প্রতি মুগ্ধ হয়ে তিনি এই দর্শনগুলো নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে সাহিত্য পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে হার্ভি জাপানিদের অর্থ সঞ্চয়ের কাকেবো পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন।

লেখিকা জানান, ২০২৭ সালে তিনি লন্ডনের এক প্রকাশনা সংস্থার চাকরি ছেড়ে জাপানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জাপানের সংস্কৃতি তার খুব ভালো লাগে এবং সে সময় নতুন কিছু করার চিন্তায় ছিলেন। সারা বলেন, “আমি জাপানে চলে যাই, টোকিওতে ছয় মাস থাকার পর বুঝলাম, জাপানি জীবনধারায় ছোটখাটো বিষয়, সচেতনতা এবং ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ওপর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখানকার জীবনযাপন আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোই বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে, আমি বুঝলাম আমার অপ্রয়োজনীয় ও আবেগপ্রবণ খরচের অভ্যাস কতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঠিক তখনই আমি ‘কাকেবো’ নামের জাপানি বাজেটিং পদ্ধতির কথা শুনি। এর অর্থ ‘পরিবারের হিসাবের খাতা’। শুনে আগ্রহ জন্মাল, আর আমি ঠিক করলাম নিজে এটি চেষ্টা করব।”

কাকেবো: অর্থ সঞ্চয়ের শতবর্ষী জাপানি পদ্ধতি ‘কাকেবো’। এটি আবিষ্কার করেছিলেন ১৯০৪ সালে হানি মটোকো, যিনি জাপানের প্রথম নারী সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। উদ্দেশ ছিল  নিজের আয় ও ব্যয়ের সম্পর্কটা ভালোভাবে বোঝা, এবং সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া। এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে কোনও অ্যাপ, সফটওয়্যার বা এক্সেল শিটের দরকার হয় না। শুধু একটা খাতা ও কলম  ঠিক যেন এক ধরনের ‘অর্থনৈতিক মেডিটেশন’।

গবেষণায় দেখা গেছে, হাতে লিখে হিসাব রাখা মানসিকভাবে সচেতনতা বাড়ায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলে এবং খারাপ অভ্যাস চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। কাকেবোও ঠিক এটি করে—এটি তোমার খরচের পেছনের মানসিক কারণগুলো সামনে নিয়ে আসে। কাকেবো শেখায়, প্রতিটি খরচের আগে নিজেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে হবে।

কোনো কিছু কেনার আগে কাকেবো পদ্ধতি অনুযায়ী নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করা জরুরি:

আমি কি এই জিনিস ছাড়া বাঁচতে পারি না?

আমার বর্তমান আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী এটি কেনা ঠিক হবে?

আমি কি সত্যিই এটা ব্যবহার করব?

বাড়িতে এর জন্য জায়গা আছে কি?

আমি এটা কীভাবে দেখলাম বা জানলাম, কোনও বিজ্ঞাপন, দোকান, না কি সোশ্যাল মিডিয়া?

আজ আমার মানসিক অবস্থা কেমন? (খুশি, চাপগ্রস্ত, না কি মন খারাপ?)

এটা কেনার চিন্তায় আমি কেমন অনুভব করছি, এবং এই অনুভূতি কতক্ষণ থাকবে?

লেখিকা বলেন, এই প্রশ্নগুলো আমার কেনাকাটার সিদ্ধান্তে নাটকীয় পরিবর্তন এনেছিল। আমি বুঝতে পারলাম, আসলে কোনটা ‘চাওয়া’ আর কোনটা ‘প্রয়োজন’। ফলাফল হিসেবে আমি দ্রুত, যৌক্তিক ও বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করি।

মাইন্ডফুল খরচ ও সঞ্চয়: সারা বলেন, কাকেবো আমাকে শুধু খরচ কমাতে সাহায্য করেনি, বরং অর্থের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও সচেতন ও মানবিক করে তুলেছে। এই পদ্ধতি কখনোই বলে না যে জীবনের আনন্দ কেটে ফেলতে হবে। বরং শেখায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনা, নিজের অভ্যাস বুঝে ধীরে ধীরে বদলানো। যেমন, মন খারাপ থাকলে একটা ফুল কেনা কোনও অপরাধ নয়; বরং এটি মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

কাকেবো থেকে শেখা ৬টি বাস্তব পরামর্শ

১️. ২৪ ঘণ্টা নিয়ম: অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার আগে একদিন অপেক্ষা করা। যদি পরদিনও দরকার মনে হয়, তখনই কেনা।

২️. সেলের ফাঁদে পা না দেয়া: ভাবুন যেটা সেলে কিনতে চাইছেন সেটা কি পুরো মূল্য দিয়ে কখনও কিনতেন?

৩️. ব্যাংক ব্যালান্স নিয়মিত দেখা: প্রতিদিনের হিসাব জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হয়।

৪️. ক্যাশে খরচ করা: নগদ অর্থ হাতে গেলে খরচের চাপ বেশি অনুভূত হয়, আর বাজেট মেনে চলা সহজ হয়।

৫️. মানিব্যাগে সতর্কবার্তা রাখা:  যেমন, কার্ডে ছোট একটা বার্তা যাতে লেখা থাকবে ‘‘এটা কি সত্যিই এটা দরকার?”

৬️. যে পরিবেশে খরচ বাড়ে, সেটি বদলানো:  মার্কেটিং ইমেল, ইনফ্লুয়েন্সার বা অনলাইন শপিং লোভ জাগালে আনসাবস্ক্রাইব বা আনফলো করো।

এই ছোট ছোট পরিবর্তন সাধারণ মনে হলেও এটা সঞ্চয় বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। সাধারণ সঞ্চয়ের থেকে কাকেবো মেনে চললে অর্থ জমানোর পরিমাণ কিছুটা হলেও বাড়বে। অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ হলে সঞ্চয় করা সহজ হবে। তাই যদি আপনি সঞ্চয় করতে চাইলেও মাস শেষে ব্যয় নিয়ে চিন্তায় থাকেন তাহলে আজ থেকে মানতে পারেন কাকেবো পদ্ধতিটি।

 

 

নিউজজি/এস আর

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers