রবিবার, ২০ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ , ৯ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
ভ্রমণ

তেঁতুলিয়ার ডাক বাংলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা

নিউজজি ডেস্ক ১৫ মার্চ , ২০২১, ১৮:৫৯:০৬

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ডাক বাংলো। মানুষের তৈরি ডাক বাংলো হলেও এর চারপাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এর পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা মহানন্দা নদীর দৃশ্য দেখে মুহূর্তেই কল্পনার রাজ্যে ভাসবেন আপনি, আমি ও সবাই! মাঝে মাঝে এ ডাক বাংলো থেকে স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়। সব মিলিয়ে অভূতপূর্ব দৃশ্য সৃষ্টি হয় স্থানটিতে।

জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে আছে একটি ঐতিহাসিক ডাক বাংলো। এর নির্মাণ কৌশল অনেকটা ভিক্টোরিয়ান ধাঁচের। কুচবিহারের রাজা এটি নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে ডাক-বাংলোটি জেলা পরিষদ কর্তৃক পরিচালিত।

এ ডাক বাংলোর পাশেই আছে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত একটি পিকনিক স্পট। ডাক বাংলো ও পিকনিক স্পট দুটি স্থানই পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় স্থানটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। সৌন্দর্য বর্ধনে এ স্থান দুটির সম্পর্ক যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষা ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন (অর্থাৎ নদী পার হলেই ভারত) সুউচ্চ গড়ের উপর সাধারণ ভূমি হতে প্রায় ১৫ হতে ২০ মিটার উঁচুতে ডাক-বাংলোটি অবস্থিত। সেখান থেকেই হেমন্ত ও শীতকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। যখন কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিললেই মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। ছোট থেকে বড় সব মানুষই এক পলক দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আর ফটোগ্রাফাররা তো তাদের ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত সব সময় বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ছবি উঠানোর জন্য।

বর্ষাকালে মহানন্দা নদীতে পানি থাকলে এর দৃশ্য আরও বেশি মনোরম হয়। শীতকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য অনেক দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার ভালো সময় সাধারণত সূর্যোদয়ের পর থেকে সকাল ১১-১২টা পর্যন্ত। আলো বাড়তেই এর রূপ বদলাতে থাকে। যদিও খুব কাছের ভিউ পেতে হলে আপনাকে বাইনোকুলার নিয়ে যেতে হবে।

যেভাবে যাবেন তেঁতুলিয়ার ডাক বাংলোতে

পঞ্চগড় যেতে সবচেয়ে ভালো জার্নি হবে ট্রেনে। সেটা সাধারণ বা ভিআইপি কেবিনও হতে পারে। চাইলে আপনি হানিফ কিংবা নাবিল পরিবহনে যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৬০০-১০০০ টাকার মধ্যে। অন্যান্য বাসগুলোতেও যেতে পারেন। এখানকার বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর জন্য পঞ্চগড় শহর থেকে গাড়ি বা মাইক্রোবাস ভাড়া করে যাওয়া ভালো। আবার পঞ্চগড় থেকে লোকাল বাসও পাওয়া যায়।

সারা দিনের জন্য এসব জায়গা ঘুরতে রিজার্ভ কারের ভাড়া পড়বে ২৫০০-৩০০০ টাকা। আর মাইক্রোবাসের ভাড়া পড়বে ২৫০০-৩৫০০ টাকা। পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন এবং শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এসব ভাড়ার গাড়ি পাওয়া যাবে। পঞ্চগড় বাস টার্মিনালের পাশে ধাক্কামারা মোড় থেকে তেতুলিয়ার বাস ছাড়ে সারাদিন। ভাড়া পড়বে ৭০-৮০ টাকা। তেঁতুলিয়া থেকে অটো ভ্যান ভাড়া নিয়েও চলে যেতে পারেন ডাকবাংলোয়।

তেঁতুলিয়ায় কোথায় থাকবেন?

তেঁতুলিয়ায় মহানন্দা নদী তীরের ডাক বাংলোতে থাকার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। দুই বেডের প্রতি কক্ষের ভাড়া পড়বে ৫০০-৭০০ টাকার মধ্যে। ডাকবাংলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে চাইলে কেয়ারটেকারের সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন। বন বিভাগের রেস্টহাউসে থাকার জন্য জেলা সদর অথবা তেঁতুলিয়ায় বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো আছে। এখানে থাকার অনুমতি নিতে হবে পঞ্চগড় থেকে। এখানে প্রতি কক্ষের ভাড়া ৫০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়াও তেঁতুলিয়াতে থাকার জন্যে ডিসি বাংলো আছে।

কাজী ব্রাদার্স আবাসিক হোটেলসহ পঞ্চগড়ে থাকার জন্য মধ্যম মানের বেশ কিছু হোটেল আছে। এ রকম কয়েকটি হচ্ছে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া রোডে হোটেল মৌচাক, সিনেমা হল রোডে সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজ, তেঁতুলিয়ায় চৌরাস্তা হতে বায়ে সীমান্তপাড় হোটেল। এক হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন এসি কক্ষ।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ডাক বাংলোর অদূরেই রয়েছে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। ডাক বাংলো থেকে খুব সহজেই সেখানে যাওয়া যাবে। এবং উপভোগ করতে পারবেন একের ভিতর দুই সুন্দর্য। সুতরাং একা বা ফ্যামিলিসহ চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন বাংলাদেশের মধ্যেই অসাধারণ জায়গায়। আর দেখতে পারেন অসাধারণ কিছু দৃশ্য।

নিউজজি/আইএইচ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers