রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ , ২৩ জিলকদ ১৪৪৭

ফিচার
  >
ভ্রমণ

ঢাকার কাছে ঘুরে বেড়ানোর মতো কয়েকটি জায়গা

নিউজজি ডেস্ক ১৮ মার্চ , ২০২৪, ১৩:৪৯:১৯

6K
  • ঢাকার কাছে ঘুরে বেড়ানোর মতো কয়েকটি জায়গা

ঢাকা: প্রিয়জনের সাথে মূল্যবান মুহূর্তগুলো কাটাতে ঢাকার আশেপাশের সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন। এজন্য নিতে হবে সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা। তাই ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা একদিনের জন্য এসব সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে আসতে পারেন।

বড় কাটরা

পুরান ঢাকার চকবাজারের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মুঘল আমলের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন বড় কাটরা অবস্থিত। ১৬৪১ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহজাদা শাহ সুজার নির্দেশে প্রধান স্থপতি মীর আবুল কাসেম এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। আবুল কাসেমকে সে সময় ‘মীর-ই-ইমারত’ নামে আখ্যায়িত করা হত। শাহজাদা শাহ সুজার বসবাসের জন্য বড় কাটরা নির্মিত হলেও পরবর্তী সময়ে এটি মুসাফিরখানা হিসাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

বড় কাটরার উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুইটি প্রবেশ পথ রয়েছে। আয়তাকার প্রাঙ্গণ ঘিরে নির্মিত বড় কাটরার কক্ষের সংখ্যা মোট বাইশটি। পূর্ব-পশ্চিম অংশের মাঝামাঝি তিনতলা সমান উচ্চতার ফটকের দুইপাশে দ্বিতল ঘরের সারি এবং দুইপ্রান্তে আটকোণা দুইটি বুরুজ রয়েছে।

কথিত আছে, শাহজাদা শাহ সুজার জন্য এই প্রাসাদটি নির্মাণের পর তাঁর পছন্দ না হওয়ার কারণে স্থপতি আবুল কাসেমকে শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহার করার জন্য দিয়ে দেন। শর্ত ছিলো যে দানকৃত ওয়াকফ ইমারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ কোন অবস্থাতেই ব্যবহারের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির কাছ থেকে কোন প্রকার ভাড়া বা অর্থ নিতে পারবে না। তাই বাইশটি দোকানির নিকট ওয়াকফ করা দোকান বড় কাটরার খরচ নির্বাহের জন্য দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ প্রতœতও¦ বিভাগ ধ্বংসপ্রায় বড় কাটরা ইমারতকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য অধিগ্রহণ করতে চাইলেও মালিকদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে এটি হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার তত্ত¦াবধায়নে রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত বড় কাটরা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে।

নকশীপল্লী

ঢাকার কাছে নকশীপল্লী রেস্টুরেন্ট ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। নান্দ্যনিক উপস্থাপনায় তৈরী নকশিপল্লী পূর্বাচল যাওয়ার রাস্তা ধরে বোয়ালিয়া ও বালু ব্রিজ পেরিয়ে ডান দিকে মোড় নিয়ে ভোলানাথপুর কবরস্থানের রাস্তায় কিছুটা ভিতরের দিকে গেলেই নকশীপল্লী পৌঁছে যাবেন। বালু ব্রিজ থেকে ভিতরে মিনিট দশেক হাটলেই নকশীপল্লী দেখতে পাবেন। 

পুকুরের উপর নির্মিত কাঠের রাস্তা, ছনের ঘর, টানা বারান্দা এবং বসার জায়গাগুলো যেন একটি সাজানো গোছানো গ্রামের প্রতিচ্ছবি। জন্মদিন, পার্টি এবং ফটোশ্যুটের জন্য নকশিপল্লী এক অসাধারণ স্থান। নিরিবিলি ছায়া ঘেরা নকশিপল্লীতে ঘোড়ার গাড়ি ও নৌকায় চড়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক

ঢাকার শ্যামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ২.৩ একর জায়গা জুড়ে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক নির্মাণ করেন। পরিবার পরিজনদের নিয়ে প্রকৃতির সাথে সময় কাটাতে বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক হতে পারে একটি আদর্শ জায়গা। বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক নামের পাশাপাশি এটি ‘শ্যামপুর ইকো পার্ক’ এবং ‘বিআইডব্লিউটিএ ইকো পার্ক’ নামেও পরিচিত।

বুড়িগঙ্গা ইকো পার্কে আছে মেরী গো রাউন্ড, ক্যাপসুল, বুল ফাইট, স্ট্রাইকিং কার, ৯ ডি সিনেমা সহ ২৪টিরও অধিক আকর্ষণীয় রাইড, ফুড কোর্ট, বসার স্থান, নৌঘাট এবং নদীর তীরের চমৎকার দৃশ্য উপভোগের জন্য হাঁটার রাস্তা। পার্কটি প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকে। 

ঢাকার যেকোন স্থান হতে নিজস্ব গাড়ি বা বাসে যাত্রাবাড়ি এসে শ্যামপুরের বুড়িগঙ্গা ইকো পার্ক যাওয়া যায়।

মানা বে ওয়াটার পার্ক 

মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকায় অবস্থিত মানা বে ওয়াটার পার্ক বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম ওয়াটার পার্ক। প্রায় ৬০ হাজার স্কয়ার মিটার বিস্তৃত এই ওয়াটার পার্ক দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম পার্কটিতে সকল বয়সের মানুষের জন্য বৈচিত্র্যময় সব আয়োজন রয়েছে। ঢাকা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দরে অবস্থিত মানা বে পার্ক। দেশের মধ্যে এ পার্কটি অনেকটাই উন্তত দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর আদোলে বানানো। এখানে ১৭ টি রাইড রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ওয়াটার স্লাইড ট্যুর, ওয়েভ পুল ও ফ্লোরাইডার ডাবল। বাচ্চাদের জন্য একটি আলাদা জোন ও একটি কৃত্রিম নদীর ব্যবস্থা রয়েছে পার্কটিতে। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পাশেই ঢাকা থেকে যাবার পথে মেঘনা ব্রিজের পরেই এর অবস্থান মানা বে ওয়াটার পার্ক। ঢাকা থেকে বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে করে যেতে পারবেন। দেশের যেকোন স্থান থেকে বাসে আসতে পারেন। পার্কটিতে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা আছে।

মানাবে ওয়াটার পার্ক প্রতিদিন খোলা থাকে। শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সপ্তাহের বাকি দিন গুলো সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers