শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ , ৫ জুমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফিচার
  >
বিশেষ দিবস

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস আজ

নিউজজি ডেস্ক  ২৫ নভেম্বর , ২০২৫, ১৬:৩৮:২৭

976
  • ছবি : সংগৃহীত

আজ ২৫ নভেম্বর,  আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে এ দিনকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। জাতিসংঘ দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ দিবস উদ্যাপন কমিটি ১৯৯৭ সাল থেকে এ দিবস ও পক্ষ পালন করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনও নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

জাতিসংঘের এবারের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতা রোধে ঐক্যবদ্ধ হোন’।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সাইবার সহিংসতাসহ নারী ও কন্যার প্রতি সব ধরনের নির্যাতনকে ‘না’ বলুন এবং নারী ও কন্যার অগ্রসরমাণতা নিশ্চিত করুন”—এ প্রতিপাদ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ পালন করছে। পক্ষটি পালনকালে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার অবস্থা ও অবস্থান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আগের তুলনায় সহিংসতার মাত্রা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সহিংসতায় নতুন নতুন ধরন যুক্ত হচ্ছে। ১৩ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী জীবনে কোনো একবার নিকটতম সঙ্গী দ্বারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এ নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক সহিংসতা।

তিন মাসে নির্যাতনের শিকার ৬৭৮ নারী ও শিশু: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে মোট ৬৭৮ নারী ও কন্যাশিশু যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। শুধু অক্টোবরেই নির্যাতিত হয়েছেন ১০১ কন্যা ও ১৩০ নারী।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সহিংসতা নিয়ে এসেছে ২৬ হাজার ৩১৭টি কল। এর মধ্যে স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগেই কল এসেছে ১৪ হাজার ৯২৮টি। গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৪১৮। পরিসংখ্যান বলছে, নারীরা ঘরেও নিরাপদ নন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানায়, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ছিল ৪২৭টি, এ বছর বেড়ে হয়েছে ৫০৩টি। স্বামীর হাতে হত্যার ঘটনাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ছিল ১৫৫টি, আর ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১৯৮টিতে।

বৈশ্বিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন জীবদ্দশায় স্বামী বা সঙ্গীর হাতে শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সংখ্যায় এই ভুক্তভোগী প্রায় ৮৪ কোটি। গত ১২ মাসে নির্যাতিত হয়েছেন আরও অন্তত ৩১ কোটি ৬০ লাখ নারী।

দেশে সহিংসতা বাড়ছে: মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি, বরং বেড়েছে। সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি চালু করা হচ্ছে। তার মতে, যেকোনো নারী বা শিশুর ওপর নির্যাতনের খবর পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রণালয়কে কাজ শুরু করতে হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের আসল কাজ হলো নারী ও শিশুকে সুরক্ষা দেয়া। এজন্য এ ব্যবস্থা চালু করলে দ্রুততম সময়ে প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগও জানায়, প্রতিদিনই ভুক্তভোগী নারীরা সাহায্যের জন্য আসছেন এবং বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

সচেতনতা ছাড়া সমাধান নয়: বেসরকারি সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল সবখানেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হন। ঘরের ভেতরের সহিংসতাকে অনেকেই ভুলভাবে স্বাভাবিক মনে করেন। সচেতনতা না বাড়ালে এ পরিস্থিতি কমবে না।

তার মতে, নারীকে সমাজের অংশ হিসেবে সমান মর্যাদায় দেখাতে হবে। নারীকে দুর্বল মনে করার প্রবণতা সমাজ থেকে দূর করতে না পারলে সহিংসতা রোধ সম্ভব নয়। পারিবারিক সহিংসতা দমনে পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যখন নারী নির্যাতন বেড়েই চলছে, এমন সময়ই পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস, যা মনে করিয়ে দিচ্ছে যে সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়াই এখন জরুরি মানবিক দায়িত্ব।

নিউজজি/হাআ

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
 নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers