মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১১ শ্রাবণ ১৪২৮ , ১৬ জিলহজ ১৪৪২

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

আমাদের "টাওয়ার ব্রিজ"!

আবু দারদা মাহফুজ ৭ জুন , ২০২১, ১৮:০২:০৫

  • ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশের মানুষ, যারা কখনো সিলেটে যায়নি, তারাও সিলেট শহরকে চেনে "কীন ব্রিজ" এর শহর হিসেবে। পত্রপত্রিকায় বা অন্যমাধ্যমে সিলেটের এই কীন সেতুর ছবি দেখেনি, এমন লোক বাংলাদেশে খুব হাতেগোনাই আছে। আজ আমি সেই কীন সেতুর ইতিহাসকে "সীমিত পরিসরে"(পড়ুন "সংক্ষিপ্ত আকারে") আপনাদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবো নীচের কয়েকটি প্যারাগ্রাফে।

শ্রীহট্ট বা সিলেটের প্রবেশদ্বার বলে খ্যাত লালরঙা এই সেতু। সিলেট শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা সুরমা নদীর উপরে ক্ষীয়মাণ অহংকার নিয়ে প্রায় নয় দশক ধরে দাঁড়িয়ে আছে কীন সেতু। সুরমা নদী সিলেট শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ- এই দুইভাগে ভাগ করেছে। আর কালের সাক্ষী এই সেতুটি শহরের দুই পাড়ের মানুষের গল্পগুলোকে একই গদ্যের অন্তর্ভুক্ত করে রেখেছে। ১৯৩৬ সালে সুরমার উপরে এই সেতুটি নির্মান করা হয়। তখন সিলেট তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষের বৃহত্তর আসামের গভর্নর ছিলেন স্যার মাইকেল কীন। তার নামানুসারে সেতুটির নামকরণ করা হয়।
 
লোহা এবং স্টিলের অবকাঠামোয় তৈরী সেতুটির দৈর্ঘ্য ৩৫০.৫২ মিটার বা ১১৫০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৭.৭ ফুট। তখনকার সময়ে ৫৬ লাখ টাকায় সেতুটি নির্মান করা হয়েছিলো। নির্মানের পর থেকে সেতুটি ভারী যানাবাহন পারাপারও করেছে দীর্ঘদিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক বাহিনী দেশের অন্য সেতুগুলোর মতো এই সেতুতেও আঘাত হানে। ডিনামাইটের আঘাতে ব্রিজের একাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে ক্ষত সারিয়ে তুলে ১৯৭৭ সালে সেতুটি আবার চালু করা হয়।
তারপর থেকে আরওকিছু বছর ভারী যানবাহন চলেছে এর উপর দিয়ে। কিন্তু ধনুক আকৃতির সেতুটি ক্রমেই দূর্বল হতে থাকায় ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর উপর দিয়ে শুধু রিকশা বা ভ্যানজাতীয় হালকা যান চলাচল করছিলো সিলেটের দুই অংশের মাঝে। কিন্তু, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট মধ্যরাতের পর থেকে কীন সেতুর উপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করে দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে, এখন সুরমার দুই পারের মানুষ শুধু পায়ে হেটে এই সেতু পার হতে পারে।
 
এটি বর্তমানে বাংলাদেশের দীর্ঘতম পদচারী সেতু। কীন সেতুর প্রেমে মুগ্ধ হয়ে সিলেটের কবি দিলাওয়ার লিখে গেছেন "কীন ব্রিজে সূর্যোদয়" কবিতাটি। ইংল্যান্ডেরলন্ডন শহরে যেমন টাওয়ার ব্রিজ আছে, ঠিক তেমনই আমাদের "লন্ডন" সিলেট শহরে কীন সেতু আছে। তাই, উপমা দিয়ে বলতেই পারি, কীন সেতু হলো আমাদের "টাওয়ার ব্রিজ"।
 
গ্রন্থনাঃ আবু দারদা মাহফুজ, দ্বাদশ শ্রেণি, সরকারী কেএমএইচ ডিগ্রী কলেজ, কোটচাঁদপুর, ঝিনাইদহ
 
নিউজজি/

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers