বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ , ২ মুহররম ১৪৪৮

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

স্বপ্ন বাজদের গল্পবলি

তৌহিদুল ইসলাম কৌশিক গাইবান্ধা থেকে ২৭ এপ্রিল , ২০২০, ১১:৩৫:২৬

1
  • স্বপ্ন বাজদের গল্পবলি

গাইবান্ধা: ছেলেগুলো তখন সবেমাত্র প্রাইমারীর গন্ডী পেরিয়ে মাধ্যমিকে পদারপর্ণ করেছে। কেন জানি ওরা আর সবার থেকে আলাদা। চিন্তা, ভাবনায় ওরা যেন আকাশ ছুতে চায় সেই বয়স থেকেই। সাল ২০০৯। অনেকটা আবেকের বশেই তারা অনানুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করলো একটিনাম ‘‘ঝিলপাড়া রয়েল্স ক্লাব” জে-আর-সি)।

খেলাধুলায় ম্যাচ জয়ের যে সম্মানী পেতো তা আবার ভাগ হতো দু’ভাগে। একটা নিজেদের খেলা সংক্রান্ত খাতে আর একটি মানুষের কল্যাণে। অনেকটা লোক চক্ষুর আরালে। ঝিলের পাড়ের লোকগুলো কিংবা দোকানের আন্টি দেখেছে ওদের এই বেড়ে উঠা। ঘর নেই, নেই বসার কোন জায়গা।মিটিং চলতো কখনো ঝিলের পাড়ে কখনো বা আবার পুরাতন পৌরসভা সংলগ্ন মাঠে। এভাবেই তারা তাদের পড়াশুনা, খেলাধুলার পাশাপাশি ছোট পরিসরে সামাজিক কাজে নিজেদের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে থাকে। সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করেনা। ওদের জন্য ও নয়। দিন,মাস, পেরিয়ে বছরের পর বছর। এক সময় ঘরও উঠলো।

মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, পেরিয়ে অনেকে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে, অনেকে আবার চাকরীরত আছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশপুলিশ, সাংবাদিকতায় সহ নানান সরকারী বেসরকারী কর্মক্ষেত্রে। অনেকে আবার হণ্য হয়ে চাকুরী নামক সোনার হরিণ খুঁজছেন। পথ সবার আলাদা হয়েছে তবে মানব সেবার নেশা কাটেনি ওদের। বলছি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ছোট একটি সংগঠন “ঝিলপাড়া রয়েল্স ক্লাবের কথা।

ঈদের অসহায় মানুষের ঘরে উপহার পৌছে দেয়া, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ সহ নানান কাজে এখনো তারা একত্রিত হয়। মানুষের জন্য, মানুষের টানে। পড়াশুনা বা চাকুরীর দূরত্ব তাদের সামাজিক কাজের মধ্যে এখন অবদি চিরধরাতে পারেনি। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বব্যাপী যখন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস চোখরাঙানী দিচ্ছিল বিশ্বের উন্নতদেশ গুলোতে, তখনই গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সচেতনতা মূলক ব্যানার ঝুলিয়ে দেয় ওরা। তখন পর্যন্ত গোবিন্দগঞ্জে এ বিষয়ক কোন প্রচারণা শুরুই হয় নি বলা চলে।

ঝিল পাড়া রয়েল্স ক্লাবের সভাপতি সামিন ইস্তিয়াক নিবিড়বলেন, এই ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে যেমন বাহবা পেয়েছি তেমনি খোঁচা দিয়ে কথা বলতেও অনেকে ছাড় দেয়নি। বলেছে ঢাকাতে এখন পর্যন্ত করোনা আসেনি, আর তোমরাকি এলাকায় করোনা আনবে। ভালো কাজ করলে যেমন বাহবা পাওয়া যায় তেমনি সমালোচনা ও। ও সব কথাকে পাশকাটিয়ে আমরা আমাদের কর্মকান্ড এগিয়ে নিয়ে যাচি্ছ। ইতিমধ্য আমরা ১৫৫টি পরিবারকে ৭ দিনের খাবার বিতরণ করেছি। দুরন্ত পণায় দূর্বার নামে ফান্ডকালেকশন গ্রূপ খুলে আমরা অর্থসংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি আমাদের ক্লাবফান্ড থেকেও সহযোগিতা করা হয়ছে।

দেশের এমন কঠিন সময়ে যেখানে জনপ্রতিনিধিরা জনগণকে এড়িয়ে চলছেন, সেখানে ক্লাবটি তাদের সহজাত স্বভাব ধরে রেখেছেন। ইতিমধ্যে নিজেদের সামাজিক কাজকর্মের পাশাপাশি বিদ্যানন্দ ফাউনডেশনের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাজকরছে ক্লাবটির সদস্যরা।

জরুরী রিলিফ রেসপন্স টিম গোবিন্দ গঞ্জের টিম লিডার ফাহিম ফয়সাল দীপ জানান, আমরা খাঁটি গরীব এবং বিদ্যানন্দের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে যাচি্ছ। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জন্য মোট বিদ্যানন্দের উপহার ব্যাগ পেয়েছি ২১৪টি। যা ভূতগাড়ী কামদিয়া ইউনিয়নের সাওতাল পাড়া, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্গত কাইয়াগঞ্জ গ্রাম, সাপমারা ইউনিয় নেরকামার পাড়া, রাজাহার ইউনিয়নের নওগাঁ গ্রাম, দরবস্ত ইউনিয়নের বগুলা গারি, গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের পারগয়রা ও কালিকা ডোবা, কোচা শহর ইউনিয়নের শিংগা মনোহরপুর, তালুককানুপুর ইউনিয়ন, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের জগদীশপুর এবং মেহেরুন্নেছা বৃদ্ধাশ্রমে বিদ্যানন্দের এর উপহার পৌঁছে দিয়েছে গোবিন্দগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবীরা।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার ৬ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর রিমন তালুকদার বলেন, ওদের এ সকল কর্মকান্ড আজকের নয়, অনেক আগে থেকে সামাজিক কাজগুলোতে ওরা বরাবরই অসহায় মানুষের পাশে থাকে। সমাজে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ যদি ওদের মতো এগিয়ে আসে তবে করোনার এই মহামারীতে আমরা অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতেপারবো। ক্লাব কতৃপক্ষকে আমি জানিয়েছি যে কোন ধরনের সহযোগীতায় আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়ে নয়, তোমাদের দাদা হিসেবে পাশে আছি।

নিউজজি/ এস দত্ত

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2023 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers