শনিবার, ১২ জুন ২০২১, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ , ১ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
পাঠক বিভাগ

উন্নয়নের স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে

মো: ওয়াহিদুজ্জামান ২২ এপ্রিল , ২০১৮, ১৬:৪৫:১৩

  • ছবি : নিউজজি

ঢাকার অদূরে ধামরাই পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়বাড়ীয়া গ্রামে আমার বসবাস। এই গ্রামের আশে পাশে রয়েছে অনেক ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানা, অনেক সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । ঢাকা আরিচা মহাসড়ক থেকে বাটা সু ফ্যাক্টরির পাশ দিয়ে যে রাস্তাটি ছয়বাড়ীয়ার দিকে চলে গেছে তা তালতলা এলাকা পর্যন্ত দুইটি ওয়ার্ডের ( ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড) আওতাধীন । পৌরসভায় মধ্যে অবস্থান হওয়া সত্বেও সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে গ্রামটি বঞ্চিত।  

আমি দেখেছি নির্বাচনের আগে নেতারা যখনই ভোট চাইতে আসেন তখনই অবলীলায় স্বীকার করে বলেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড ধামরাই পৌরসভার সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা, তাই আমরা ক্ষমতায় গেলে আমাদের উন্নয়ন কর্ম এই ওয়ার্ড থেকেই শুরু হবে। এরকম অনেক সুন্দর সুন্দর কথার ফুলঝুরি আমরা শুনেছি। বিশ্বাসও করেছিলাম। কিন্তু বাস্তবে তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন গ্রামবাসী দেখেনি। অনেক দিন যাবত এই গ্রামের রাস্তার বেহাল অবস্থা হওয়ার এলাকাবাসীর মধ্যে অনেক ক্ষোভ থাকলেও সবাই অনেকটা নিরুপায় হয়ে গেছে, যেন দেখার কেউ নেই। 

স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা অনেকদিন ধরেই বলে আসতেছেন রাস্তার টেন্ডার হয়ে গেছে, কিছুদিন পরেই রাস্তার কাজ ধরবে। আমরাও আশায় বসে থাকি, কবে আলোর মুখ দেখবো! কিন্তু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না দেখে হতাশ হই বারবার । শীতের আগে কাজ ধরার কথা শুনে আসলেও এই পর্যন্ত কাজের কোন নাম গন্ধ নেই। এখন অনেকেই আশংকা করছেন বৃষ্টির দিন চলে এসেছে তাই উন্নয়নের স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে! 

কয়েকটি গ্রামের শত শত ছাত্র ছাত্রী এই ভাঙাচুরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। নানান পেশার কর্মমূখী মানুষসহ শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই একমাত্র রাস্তা দিয়েই জীবনের তাগিদে অফিসে যেতে হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে পরতে হয় মহা বিপাকে। অনেক সময় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়েও রিক্সা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে হেটে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। জায়গায় জায়গায় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। আগে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা বংশী নদীর পানি যখন ভালো ছিলো তখন সাধারণ মানুষ হাট বাজার কিংবা অফিস আদালতে যেত নৌকা দিয়ে। ইপিজেড সহ আশেপাশের কলকারখানার বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে পতিত হওয়ায় একদিকে যেমন নদীর পানি পঁচে গেছে অন্যদিকে নদী দখলের কারণে নাব্যতা হারিয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে। স্থলপথ ও জলপথ দুটিই এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। 

এককথায় সমাজের সর্ব স্তরের মানুষের একটাই কষ্ট সারাদেশে এতো উন্নয়নের দেখি আমাদের গ্রামে কেন উন্নয়ন নেই! কেউ দোষ দেন স্থানীয় নেতাকর্মীদের আবার কেউ দোষ দেন নিজেদের ভাগ্যের। দেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নাম কাটিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পা রাখলেও এই এলাকার ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি। পৌরসভার দেড়যুগ হয়ে গেলেও এই গ্রামে এখোনো গ্যাস পর্যন্ত আসেনি যা গ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত লজ্জার ও বেদনাদায়ক। প্রত্যক গ্রামেই সাধারণত একটি মাঠ থাকে কিন্তু শত শত বছরের পুরাতন গ্রাম হলেও একটি খেলার মাঠ পর্যন্ত এই গ্রামে নেই যা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্যও মনে হতে পারে। যে গ্রামে খেলাধুলার ও চিত্তবিনোদনের জন্য জন্য একটি মাঠ নেই সে গ্রামের ছেলেরা বিপদগামী হবে এটা খুব স্বাভাবিক। শিশুদের মানসিক বিকাশ সহ সুস্থ বিনোদনের জন্য একটি মাঠ ও পার্ক খুব প্রয়োজন। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি মাঠের চিন্তা করলেও তা বিভিন্ন জটিলতার কারনে আলোর মুখ দেখেনি। সবার প্রশ্ন আমরা কেমন পৌরসভায় বসবাস করি যেখানে ট্যাক্স গুনতে হয় ঠিকই কিন্তু এলাকার কোন উন্নয়ন নেই! একটি এ গ্রেডের পৌরসভায় বসবাস করেও যদি নুন্যতম নাগরিক সুবিধা ভোগ আমরা না করতে পারি তাহলে অত্র এলাকের জনমনে সারাদেশের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন জাগা অস্বাভাবিক বলে আমি মনে করিনা। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ আপনার নির্দেশনায় অবিলম্বে সরজমিনে পরিদর্শনপূর্বক অত্র এলাকায় পরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মান ও শিশুদের খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি মাঠ ও পার্ক নির্মাণ করে দিয়ে জনমনে অস্বস্তি দূর করুন। আমার বিশ্বাস আপনার নির্দেশনা পেলে অতি দ্রুত পৌরসভার এ গ্রেডের রূপকল্প অনুসারে আমাদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড তথা ছয়বাড়ীয়া গ্রামে একটি বড় মাঠ হবে, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ রাস্তাঘাট ও সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখবে সে প্রত্যাশায়...

লেখক: মো: ওয়াহিদুজ্জামান

উপ-ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)

পরিচালক , আরবান স্কুল এন্ড কলেজ, ইসলামপুর, ধামরাই, ঢাকা

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers