সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ , ১০ জিলকদ ১৪৪২

ফিচার
  >
ব্যক্তিত্ব

‘কিং অব গজল’ তালাত মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কামরুল ইসলাম ৯ মে , ২০২১, ১৪:৪৬:১৭

  • ‘কিং অব গজল’ তালাত মাহমুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভারতীয় সঙ্গীতের অন্যতম কিংবদন্তি তালাদ মাহমুদ। বিশেষ করে গজলে তিনি অনন্য, অবিস্মরণীয়। তাকে বলা হয় কিংব অব গজল বা গজল সম্রাট। এছাড়া হিন্দিতে বলা হয় ‘শাহেনশাহ-ই-গজল’।

বরেণ্য এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্বের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৮ সালের ৯ মে ভারতের মুম্বাইতে মৃত্যুবরণ করেন। এরই মধ্যে তার প্রয়াণের ২৩ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয় এখনো দখল করে আছেন তিনি।

১৯২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লকনৌতে জন্মগ্রহণ করেন তালাত মাহমুদ। তার পিতা মনজুর মাহমুদ ছিলেন একটি বৈদ্যুতিক বাদ্যযন্ত্র দোকানের মালিক। ফলে ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন তালাত। এছাড়া তার বাবাও ছিলেন একজন কণ্ঠশিল্পী।

উত্তর প্রদেশের লকনৌ মরিস কলেজে পড়াশোনা করেন তালাত মাহমুদ। সেখানেই তিনি ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতের উপর পাঠ নেন পণ্ডিত এসসিআর ভাটের কাছে। পরিবার থেকে তালাতকে বলা হয়েছিল, তিনি যেন অভিনয় অথবা গান যেকোনো একটা পেশা বেছে নেন। তালাত বেছে নিয়েছিলেন গান।

তালাত মাহমুদের কণ্ঠ ছিলো বেশ মায়াময় ও সমধুর। এ কারণে তিনি অল্প সময়েই নিজের স্বকীয়তা উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। ১৯৩৯ সালে তার বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর, তখন তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার শুরু হয়। সেসময় তিনি লকনৌয়ের অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে মির্জা গালিবের গজল গাওয়ার জন্য ডাক পান। প্রথম গায়কীতেই তিনি গানের সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

তালাতের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এইচএমভি কোম্পানি তাকে অভিহিত করলো তরুণ উদীয়মান গজল তারকা হিসাবে। ওই বছরই ‘দাগ’ চলচ্চিত্রের জন্য আরেকটি গজল গাওয়ার ডাক পান তিনি। এই গানটিও তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।

এর সুবাদে তালাত মাহমুদের ক্যারিয়ার প্রায় দাঁড়িয়ে যায়। ১৯৪১ সালে এইচএমভি কোম্পানি তালাত মাহমুদের নন-ফিল্মি গজল ‘সাব দিন এক সমান নেহিন থা’ গজলটি রেকর্ড করে। এটা সাফল্য পাওয়ায় কোম্পানিটি তালাতকে গানের অ্যালবাম বের করার প্রস্তাব প্রদান করে। সেখান থেকেই ১৯৪১ সালে তার প্রথম গানের অ্যালবাম বের হয়। ‘সাব দিন এক সমান নেহিন থা’ গানটি ছাড়াও অ্যালবামটিতে ছিল, ‘বান জাঁও গিয়া কিয়া সে কিয়া মেঁ’, ‘ইস্কা তো কুচ ধিয়ান নেহিঁ থা’-র মতো বিখ্যাত গান। ১৯৪৪ সালে তার গানের অ্যালবাম সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম হিসেবে জায়গা করে নেয়।

গানে নিজের দক্ষতা আরও বাড়ানোর জন্য লকনৌ ছেড়ে কলকাতায় যান তালাত মাহমুদ। সেখানে গিয়ে তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত গজল গায়ক উস্তাদ বরকত আলী খান, কে. এল সায়গল এবং এম. এ রৌফের মতো সঙ্গীতজ্ঞের সহচর্য লাভ করেন।

তালাত মাহমুদ ছিলেন প্রথম কোনো ভারতীয় গজল গায়ক, যিনি বিদেশে কনসার্টের জন্য ডাক পেয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পশ্চিম আফ্রিকার একটি কনসার্টে তিনি গজল পরিবেশন করেন। এরপর আমেরিকার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন, ব্রিটেনের রয়েল অ্যালবার্ট হল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেন পিয়েরে কমপ্লেক্সসহ বিদেশের বিভিন্ন স্থানে গজল পরিবেশন করে শ্রোতাদের মাতিয়েছেন তিনি।

তালাত মাহমুদের গাওয়া বিখ্যাত গজলগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘হামসে আয়া না গায়া’, ‘যায়ে তো যায়ে কাহাঁ’, ‘তাসভীর বানাতা হু’, ‘দিল-এ-নাদান তুঝে হুয়া কেয়া হ্যয়’, ইতনা মুঝসে তু পেয়ার বাঁধা’, ‘সিনে মে সুলাগতে হে আরমা’, ‘শাম-এ-ঘাম কি কাসাম’, ‘জালতে হে জিসকে লিয়ে’, ‘মেরি ইয়াদ মে তুম’, ‘ফির ওয়াহি শাম’, ‘জিন্দেগি দেনেওয়ালে সুন’, ‘মে দিল হু এক’, ‘আন্ধে জাহান কে আন্ধে রাস্তে’, ‘কাঁদালে নীলা কাঁদালে’, ‘আশকো নে জো পেয়ার হ্যায়’, ‘বেচ্যান নাজার’, ‘হোকে মাজবুর’, ‘চাল দিয়া কারভান’, ‘আয়ে দিল মুঝে অ্যাইয়সি জাগা’, মিলতে হি আঁকে দিল হুয়া’ ইত্যাদি।

এছাড়া ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো’ এবং ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়’-এর মতো কালজয়ী বাংলা গান গেয়েছিলেন তালাত মাহমুদ।

গানের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছিলেন তালাত মাহমুদ। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে- ‘রাজ লক্ষ্মী’, ‘তুম অউর মে’, ‘সমাপ্তি’, ‘আরাম’, ‘থোকার’, ‘দিল-এ-নাদান’, ‘ডাক বাবু’, ‘ওয়ারিস’, ‘রাফতার’, ‘এক গাঁও কি কাহানি’, ‘লালা রুখ’, ‘মালিক’ ও ‘সোনে কি চিড়িয়া’ ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত জীবনে তালাত মাহমুদ বিয়ে করেছিলেন কলকাতার বাঙালি নারী লতিকা মল্লিককে। খ্রিস্টান হওয়ায় প্রথমে লতিকাকে মেনে নিতে চায়নি তালাতের পরিবার। তবে শেষ পর্যন্ত মেনে নেন। পরবর্তীতে লতিকা তার নাম পরিবর্তন করে নাসরিন রাখেন। তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়েছিল।  

কিং অব গজল তালাত মাহমুদ তার ক্যারিয়ারে বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাকে ‘পদ্মবিভুষণ’ পদকে ভূষিত করে। এছাড়াও তিনি মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, লতা লতা মুঙ্গেশকর পুরস্কার, আলামি উর্দু কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড, বোম্বে ফিল্ম ক্রিটিকস অ্যাওয়ার্ড, গালিব অ্যাওয়ার্ড, নওশাদ আলি অ্যাওয়ার্ড, ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

 

 

নিউজজি/কেআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers