শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮ , ৮ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
মানচিত্র

ইতিহাস ঐতিহ্যের তামিলনাড়ু

লুৎফর হাসান ২৩ নভেম্বর , ২০১৯, ১৩:১৪:৫৭

  • ইতিহাস ঐতিহ্যের তামিলনাড়ু

তামিলনাড়ুর কথা আলোচনা করতে গেলে আমাদের চোখ চলে যায় রজনীকান্তে। শুধু রজনীকান্ত না, ধানুশের ভক্ত আশেকানে ভরা আমাদের দেশ। আজকাল ভিন্ন ধারার সিনেমার আলোচনায় কত প্রিয় সিনেমার নাম যুক্ত হয়েছে, হিসাব নাই। যেমন গত কিছুদিন ধরে আমরা নব্বই দশকের লোকজন ও আজকালকার টিনেজ ছেলেমেয়েরা বিজয় সেতুপতিদের নাম লুফে নিয়েছে নাইন্টি সিক্স ধারার সিনেমায়। ফলে সেই রজনীকান্ত থেকে এই যুগ পর্যন্ত সমান আধিপত্য তামিল সিনেমার। তবে তামিল মানে সিনেমা নয় শুধু। তামিলনাড়ুর ইতিহাস ঐতিহ্য ব্যাপক বিস্তৃত। আমাদের মানচিত্রের আজকের আয়োজন তামিলনাড়ু।  

 
দক্ষিণ ভারতের ইতিহাস দুই সহস্রাধিক বছর ধরে ঘটমান উক্ত অঞ্চলের একাধিক রাজবংশ ও সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের ইতিহাস। দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের কোনো লিখিত উপাদান না পাওয়া গেলেও প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষ থেকে অনুমিত হয় খ্রিষ্টের জন্মের কয়েকশো বছর আগেই এই অঞ্চলে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। মৌর্য সম্রাট অশোক সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে নিজ আধিপত্য বিস্তার করার সময় দাক্ষিণাত্যের একাধিক অঞ্চল জয় করেন। এই সময় থেকেই এই অঞ্চলের লিখিত ইতিহাসের সূত্রপাত। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সাতবাহন, চালুক্য, পল্লব, রাষ্ট্রকূট, চের, চোল, পাণ্ড্য, কাকতীয় ও হোয়েসল রাজবংশ দক্ষিণ ভারতে নিজ আধিপত্য বিস্তার করে। এই সকল রাজ্যগুলি সর্বদাই নিজেদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকত। পরে উত্তর ভারত থেকে মুসলমান বাহিনী দক্ষিণ ভারত আক্রমণ করলে তাদের বিরুদ্ধেও এরা সামরিক অভিযান চালায়। মুসলমান আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ উত্থান ঘটে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের। এই সাম্রাজ্য সমগ্র দক্ষিণ ভারতে নিজ অধিকার স্থাপন করতে সক্ষম হয় এবং দাক্ষিণাত্যে মুঘল অভিযানের বিরুদ্ধে প্রধান বাধাস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে যখন ইউরোপীয় শক্তিগুলি এই অঞ্চলে পদার্পণ করতে শুরু করে তখন এই নতুন প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রামের ক্ষমতা দক্ষিণের রাজন্যবর্গের মধ্যে আর অবশিষ্ট ছিল না। ফলে ধীরে ধীরে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ব্রিটিশদের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত করেন। অবশিষ্ট অঞ্চলগুলি একাধীন ব্রিটিশ-নির্ভরশীল দেশীয় রাজ্যে বিভক্ত থাকে। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর ভাষার ভিত্তিতে দক্ষিণ ভারত অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল ও তামিলনাড়ু রাজ্যে বিভক্ত হয়।
 
 
 
 
দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার চেয়েছিল ১৯৬৫ সালে হিন্দিকে একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি ভাষা করে দিতে। তার প্রতিবাদে অহিন্দি জাতিগুলো গর্জে উঠেছিল, তামিলনাড়ুর রাজপথ তামিল ছাত্র-যুবদের রক্তে লাল হয়ে গেছিল। তামিলনাড়ু বুক চিতিয়ে লড়েছিল হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে৷ তামিলরা অহিন্দি জাতি গুলোকে পথ দেখিয়েছিল, কিছুটা হলেও ঠেকাতে পেরেছিল হিন্দি সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংসাত্মক খেলাকে। হিন্দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একমাত্র সরকারি ভাষা বানানো আটকানো গিয়েছিল। ১৯৮৬ সালে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী জাতীয় শিক্ষা নীতি চালু করেছিলেন।  এই শিক্ষার নীতিমালা নবোদয় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রদান করা হয়েছে, যেখানে ডিএমকে হিন্দী শিক্ষার দাবি বাধ্যতামূলক হবে।  এম. জি. রামচন্দ্রন (যা ১৯৭২ সালে ডিএমকে থেকে বিভাজিত ছিল) নেতৃত্বে আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাশগাম (এডিএমকে), তামিলনাড়ু ক্ষমতায় ছিল এবং ডিএমকে প্রধান বিরোধী দল ছিল।কর্নানধী তামিলনাড়ুর নবোদয় স্কুলে খোলার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন ঘোষণা করেন।  এই আন্দোলনে গ্রেফতার হয় বিশ হাজার মানুষ। ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আদেশ দেয় যে, সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলিতে সরকারী কর্মচারী ও সরকারী কর্মচারীদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য হিন্দি বা হিন্দি এবং ইংরেজী উভয়ই ব্যবহার করা উচিত, কিন্তু সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্পোরেশন বা ব্যাংকের কর্মকর্তারা হিন্দিকে প্রধান্য দিতে থাকে। এই পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর সমস্ত রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করেছিল।  তামিলনাড়ুর  তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা সাবধান করে দিয়েছিলেন যে হিন্দি ভাষা ব্যবহারে চিঠি ও আত্মার বিরুদ্ধে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে এই নির্দেশটি তামিলনাড়ুদের জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলতে পারে যারা তাদের ভাষাগত বিষয়ে গর্বিত এবং উৎসাহিত ।ঐতিহ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ইংরেজী যোগাযোগের ভাষা নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশাবলীর যথাযথভাবে সংশোধন করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। 
 
 
 
তামিলনাড়ু ভারতীয় উপদ্বীপের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত। এই রাজ্যের সীমানায় পুদুচেরি, কেরল, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ অবস্থিত। তামিলনাড়ুর ভৌগোলিক উত্তর সীমায় পূর্বঘাট, পশ্চিম সীমায় নীলগিরি, আন্নামালাই পর্বত ও পালাক্কাদ, পূর্ব সীমায় বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ পূর্ব সীমায় মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। আয়তনের বিচারে তামিলনাড়ু ভারতের একাদশ অবস্থানে। জানা যায়, এই রাজ্যের আয়তন গ্রিসের সমান। এবং জনসংখ্যার বিচারে ভারতের সপ্তম বৃহত্তম রাজ্য। 
 
 
ভারতের অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে তামিলনাড়ুর অবস্থান পঞ্চমে। তামিলনাড়ু প্রগতিশীল, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্ভরযোগ্য একটি অর্থনীতির খুব উজ্জ্বল দৃশ্য প্রদর্শণ করে। এখানে উন্নয়নশীল শিল্প, উন্নত কাঠামোগত কৃষিজ অংশ, ব্যাংক ও আর্থিক বিষয়ে ভাল সমর্থন রয়েছে যা পুরোপুরি একটি সম্পূর্ণ রাজ্যের সার্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উন্নতিতে সাহায্য করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই রাজ্য একদম শীর্ষে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও অতুলনীয়। 
 
 
খাবারদাবারে তামিল লোকজন ব্যতিক্রম। সুনাম তাদের পুরো বিশ্ব জুড়েই। ইডলি , দোসা এখানকার প্রধান খাবার। এছাড়া বিবিধ মিষ্টি খাবারের চল রয়েছে। দোসা হচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশের একটি রুটিজাতীয় খাবার যা আটার গোলা বা খামি থেকে তৈরী করা হয়। এর প্রধান উপাদান চাল এবং কলাইয়ের ডাল। দোসা দক্ষিণ ভারতীয়দের খাদ্যাভ্যাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এটা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয়। প্রথাগতভাবে গরম সাম্বার, আলু তরকারি, পনির বা চাটনির সংগে দোসা পরিবেশন করা হয়।
 
 
 
পর্যটনের আশীর্বাদপুষ্ট এই রাজ্য। ভারতে উঁকি দিতে সমুদ্রের পথ ধরে চলে যেতে হয় এই তামিলনাড়ু। যেদিকে চোখ যাবে, সেদিকেই ওপার বিস্ময়ের হাতছানি। 
 
 
কন্যাকুমারী ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কন্যাকুমারী জেলার অন্তর্গত একটি শহর। এই শহরটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দুতে অবস্থিত। অন্তরীপটি ভারতের পশ্চিম উপকূল ধরে প্রসারিত পশ্চিমঘাট পর্বতমালার এলাচ পর্বতশ্রেণীর দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত। কন্যাকুমারী জেলার সদর শহর নাগেরকইল এই শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কন্যাকুমারী একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রাচীনকালেও কন্যাকুমারী ছিল তামিলাকাম বা প্রাচীন তামিল দেশের দক্ষিণতম অঞ্চল। কন্যাকুমারী নামটি এসেছে হিন্দু দেবী কন্যাকুমারীর (যাঁর স্থানীয় নাম কুমারী আম্মান) নামানুসারে। এই শহরের সৈকত অঞ্চলে যেখানে আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর পরস্পর মিলিত হয়েছে, সেখানেই দেবী কুমারীর মন্দির অবস্থিত। এই শহরের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলি হল দেবী কুমারীর মন্দির, বিবেকানন্দ রক মেমোরিয়াল, প্রাচীন তামিল কবি তিরুবল্লুবরের ১৩৩ ফিট উঁচু মূর্তি এবং গান্ধীমণ্ডপম্‌ (ভারত মহাসাগরের জলে মহাত্মা গান্ধীর চিতাভষ্ম বিসর্জনের আগে এখানে তা রাখা হয়েছিল)।
 
 
মহান চোল মন্দিরসমূহ বা গ্রেট লিভিং চোল টেম্পলস দক্ষিণ ভারতে চোল রাজাদের রাজত্বকালে নির্মিত কয়েকটি মন্দির। এই মন্দিরগুলি হল তাঞ্জাভুরের বৃহদীশ্বর মন্দির, গঙ্গইকোণ্ডচোলীশ্বরম মন্দির ও দরসুরমের ঐরাবতেশ্বর মন্দির। ১৯৮৭ সালে বৃহদীশ্বর মন্দিরটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা লাভ করে। ২০০৪ সালে গঙ্গইকোণ্ডচোলীশ্বরম ও ঐরাবতেশ্বর মন্দিরদুটিও এই তালিকায় একযোগে যুক্ত হয়। এই কেন্দ্রটি “মহান চোল মন্দিরসমূহ” নামে পরিচিত।
 
 
 
কৃষ্ণের মাখন নাড়ু (অপর নাম: বাণ ইরাই কল ও কৃষ্ণের বিশালাকায় মাখন নাড়ু) হল ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ইতিহাস-প্রসিদ্ধ শহর মহাবলীপুরমে অবস্থিত বিশালাকার একটি গ্র্যানাইট প্রস্তরখণ্ড। ভূমিতল থেকে ১.২-মিটার (৪ ফু) উচ্চতায় একটি ঢালু অংশে সামান্য নত অবস্থায় অথচ ভারসাম্য বজায় রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই পাথরটির। এটির উচ্চতা প্রায় ৬ মিটার, প্রস্থ ৫ মিটার ও ওজন প্রায় ২৫০ টন। একাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় পাথরটিকে এখন অর্ধ-গোলাকৃতি মনে হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, বিগত ১,২০০ বছর ধরে পাথরটি একই স্থানে রয়েছে। কথিত আছে, পল্লব সম্রাট নরসিংহবর্মণ পাথরটি স্থানচ্যূত করার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। ১৯০৮ সালে মহাবলীপুরমের তৎকালীন গভর্নর আর্থার হ্যাভলক নিরাপত্তাজনিত কারণে সাতটি হাতির সাহায্যে পাথরটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।
 
 
ধর্মরাজা রথ হল ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কাঞ্চীপুরম জেলায় বঙ্গোপসাগরের করোমণ্ডল উপকূলে মহাবলীপুরমে অবস্থিত পঞ্চরথ স্মারকস্থলের একটি স্মারক। এটি একটি একশিলায় খোদিত ভারতীয় প্রস্তরখোদাই স্থাপত্যের নিদর্শন। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে পল্লব রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্মণ ও তাঁর পুত্র নরসিংহবর্মণ (৬৩০-৬৯০ খ্রিস্টাব্দ; ইনি "মামল্ল" বা মহাবীর নামেও পরিচিত ছিলেন) এই স্মারকটি নির্মাণ করান। সমগ্র চত্বরটি এখন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) তত্ত্বাবধানে আছে। ১৯৮৪ সালে গোটা চত্বরটি "মহাবলীপুরম স্মারকস্থল" ("গ্রুপ অফ মনুমেন্টস অ্যাট মহাবলীপুরম") নামে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা পায়।
 
 
পঞ্চরথ বা পাণ্ডবরথ হল বঙ্গোপসাগরের করমণ্ডল উপকূলের মহাবলীপুরমে অবস্থিত একটি স্মারক চত্বর। এই চত্বর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের কাঞ্চীপুরম জেলায় অবস্থিত। পঞ্চরথ ভারতের মনোলিথিক প্রস্তরখোদাই স্থাপত্য শিল্পকলার একটি নিদর্শন। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষভাগে পল্লব রাজা প্রথম মহেন্দ্রবর্মণ ও তাঁর পুত্র প্রথম নরসিংহবর্মণের (৬৩০–৬৮০ খ্রিস্টাব্দ; এঁদের "মামল্ল" বা "মহাযোদ্ধা"-ও বলা হত) রাজত্বকালে এই রথগুলি নির্মিত হয়। এই স্মারকগুলি প্রথম নরসিংহবর্মণের বিশেষ কৃতিত্ব। কারণ, এই ধরনের স্থাপত্য ভারতে তাঁর আগে নির্মিত হয়নি।
 
 
 
ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

 

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers