শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮ , ৮ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
মানচিত্র

পৃথিবীর কোথাও যা নাই মাদাগাস্কারে আছে

নিউজজি ডেস্ক ১৪ অক্টোবর , ২০১৯, ১৫:৩১:১০

  • পৃথিবীর কোথাও যা নাই মাদাগাস্কারে আছে

বলা হয়, মাদাগাস্কার হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন দ্বীপ। প্রায় দশ মিলিয়ন বছর ধরে বিচ্ছিন্নকরণে দ্বীপটিতে অনেক ফুল-ফল জন্মে থাকে। মালাগাসি ভাষায় মাদাগাস্কারকে বলা হয় মাদাগাসিকারা এবং এখানকার জনগোষ্ঠীকে বলা হয় মালাগাছি।মধ্যযুগে ইউরোপীয়দের দ্বারাই মাদাগাস্কার শব্দটি জনপ্রিয়তা পায়। তেরো শতকে ভেনেশিয় অভিযাত্রী মার্কো পোলো প্রথম মাদাগেইসকার শব্দটির উল্লেখ করেন। যদিও তিনি সোমালির মোগাদিসুর ভ্রম অনুবাদে এই নামটি ব্যবহার করেন।

মালাগাসি ভাষাতে, মাদাগাস্কার দ্বীপটি মাদাগাস্কার  এবং তার জনগণকে মালাগাসি বলা হয়। দ্বীপের নাম "মাদাগাস্কার" স্থানীয় মূলত নয়, বরং ইউরোপীয়রা মধ্য ইউরোপে জনপ্রিয় ছিল। নাম মাদাগিস্কার প্রথম তেরো শতকের ভার্জিনিয়ান এক্সপেরারি মার্কো পোলো এর স্মরণে মোগাদিশু নামে একটি দূষিত লিপ্যন্তর হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছিল। সোমালিয়া বন্দর যা দিয়ে পোলো দ্বীপটিকে বিভ্রান্ত করেছিল পনেরশ সালে সেন্ট লরেন্সস দিবসে, পর্তুগিজ পরিদর্শক দিজো দিয়াস দ্বীপে অবতরণ করে এবং এটি সাও লৌন্নকো নামকরণ করে। পোলো এর নাম রেনেসাঁ মানচিত্রে পছন্দ এবং জনপ্রিয় ছিল। মাদাগাস্কারের কোনও মালাগাসি ভাষার নাম না বলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর এই দ্বীপটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে হয়, যদিও কিছু সম্প্রদায়ের নিজস্ব অংশ বা তাদের সমস্ত ভূখণ্ডের নিজস্ব নাম রয়েছে যা তারা বাস করত।

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মাদাগাস্কার। দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার উপকূল ঘেঁষে এর অবস্থান। দেশটির মাদাগাস্কার নামের দ্বীপটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ। অসংখ্য ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে এই দেশটি গঠিত। প্রায় নয় কোটি বছর আগে এক প্রাগৈতিহাসিক ভাঙনের পর ভারতীয় উপদ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মাদাগাস্কার। জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে মাদাগাস্কার অনন্য। এই দেশে যেসব বন্যপ্রাণী পাওয়া যায় তার ৯০ শতাংশই বিশ্বের অন্য কোথাও নেই। তবে জনসংখ্যা ও পরিবেশগত কারণে প্রাণীরা হুমকির মুখে। মাদাগাস্কারে প্রথম মানুষের বসতির সন্ধান পাওয়া যায় দুই হাজার খ্রিস্টপূর্বে। ক্রমেই এই অঞ্চলে বার্নিও, বান্তুসহ নানা জাতিগোষ্ঠীর লোকজন বসবাস শুরু করে। 

মাদাগাস্কারের সংস্কৃতিতে একজন জীবিত মানুষের চেয়ে একজন মৃত মানুষের গুরুত্ব অনেক বেশি। সে হিসেবে একজন বয়স্ক মানুষের গুরুত্ব তাঁদের কাছে অনেক বেশি, কারণ তিনি খুব অল্প সময়েই সম্মানিত একটি জীবনে পদার্পণ করতে চলেছেন। কোনো শিশু যদি তার চেয়ে বয়োজ্যাষ্ঠ কারো আগে কিছু খেয়ে ফেলে, তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হয়। খাবার টেবিলেও বসার স্থান, খাবার পরিবেশনের প্রক্রিয়ায় বয়োজ্যাষ্ঠদের আলাদা মর্যাদা প্রাধান্য পায়। পারিবারিক চিরশয়নের স্থান (কবর)-কে মালাগাসিরা বলেন "তানিন্দ্রাজানা" (বাংলায়: পূর্বপুরুষের ভূমি)। সম্প্রদায় থেকে সম্প্রদায়ে তানিন্দ্রাজানা'র ধরণ বিভিন্ন হয়: মেরিনা মন্দির বানানো হয় পাথর আর সিমেন্ট দিয়ে, ভিতরে ছোট কুঠুরিতে মৃতদেহ জড়িয়ে রাখা হয় রেশমি কাপড়ে; মাহাফালি মন্দিরগুলো পাথরের তৈরি হলেও কাঠের পোস্ট দিয়ে ফ্রেম করা হয়, যেগুলোতে আবার মানুষ আর জীবজন্তুর কারুকার্য করা থাকে; পশ্চিম উপকূলের মরণদাভা নদী তীরবর্তী সাকালাভা সম্প্রদায়ের ছাদে দেখা যায় শৌর্যবীর্য, প্রজনন ইত্যাদির প্রতীকায়নে বিভিন্ন যৌনাসনের চিত্র। মাদাগাস্কারে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী থাকলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মালাগাসিই জানাহারি (বাংলায়: সৃষ্টিকর্তা) একজন পরম ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন; কেউ তাঁকে আন্দ্রিয়ামানিত্রা (বাংলায়: মিষ্টি বা সুগন্ধির অধিকর্তা) নামেও ডাকেন।

মাদাগাস্কার । নামটা শুনেই সবার প্রথমে মাথায় আসে একটা এনিম্যাটেড মুভির  কথা। এলেক্স, মার্টি, মেলমেন, গ্লোরিয়া ইত্যাদি ক্যারেক্টারগুলোর কথা অনেকেরই মনে আছে। মনে আছে তাদের মজার মজার বিভিন্ন কান্ড কারখানা !নামটা মাদাগাস্কার হওয়ার পেছনের কারণটা হল, আসলেই মাদাগাস্কার নামের একটা দেশ আছে,যেখানে এরকম অনেক অনেক প্রানি আছে! আজকে আমাদের অভিজান ওই দেশের আনাচে কানাচে ! মুভিতে একটা কাঠবিড়ালি দেখা যায়। কিম্ভুতকিমাকার আচরণের জন্যে সে বিখ্যাত। মুভির নাম এজন্য যে এর কারণ হল, এই প্রাণী মাদাগাস্কার ছাড়া আর পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যায়না! আরো একটা উল্ল্যেখযোগ্য বিষয় হল,জুলিয়েন কিন্তু আসলে কাঠবিড়ালি না,এর নাম লেমুর।এছাড়া আরো প্রায় ১০০ প্রজাতি এবং উপপ্রজাতির লেমুর আচ্ছে এই দেশে,যা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায়না।

মাদাগাস্কার দ্বীপটি প্রায় ৭০ কোটি বছরের পুরনো। বর্তমান মাদাগাস্কার ১৬৫ কোটি বছর আগে আফ্রিকা থেকে এবং ১০০ কোটি বছর আগে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই প্রাচীন বিচ্ছিন্নতাই মাদাগাস্কারকে অনন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীজগৎ উপহার দিয়েছে। এখানে প্রাপ্ত প্রায় ৯০ শতাংশ জীব বৈচিত্র্য পৃথিবীতে অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এর মধ্যে বিলুপ্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মাঝে রয়েছে উড়তে পারে না এমন দৈত্যাকার পাখি ও বামন হিপ্পো।

পুরো মাদাগাস্কারই অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঠাসা। পর্যটকেরা এখানে আসেন, অনেকে আসেন হানিমুনে কিংবা কেউ কেউ দলবেঁধে ছুটি কাটাতেও। পাহাড় আর সবুজ জলের ঝর্ণা দেখতে হলে যেতে হবে ইসালো ন্যাশনাল পার্কে, অদ্ভুত প্রাণীর রাজ্য দেখতে হলে যেতে হবে র্যাতনোমাফানা ন্যাশনাল পার্ক, মাসোয়ালা ন্যাশনাল পার্ক। আন্দাসিব-মান্তাদিয়া। হাজার বছরের প্রাচীন স্থাপত্য নিয়ে বেঁচে থাকা পাহাড় দেখতে হলে ছুটতে হবে রয়েল হিল অব আম্বো হিমাঙ্গা, অপূর্ব সমুদ্র সৈকত ইফাতি, মাথায় টুপি পরা লম্বা লম্বা গাছ নিয়ে বাউবেস এভিনিউ, ছুটি কাটাবার সবচেয়ে সেরা জায়গা নসি বে, বেমারা সিঙ্গি, ইলে সেন্ট মারি।  

একনজরে -

পুরো নাম : মাদাগাস্কার প্রজাতন্ত্র।

রাজধানী ও সবচেয়ে বড় শহর : অ্যান্তানানারিভো।

দাপ্তরিক ভাষা : মালাগাসি ফরাসি।

জাতিগোষ্ঠী : মেরিনা (২৬ শতাংশ), বেটসিমিসারাকা (১৫ শতাংশ), টিসিমিহেতি (৭ শতাংশ), সাকালাভা (৬ শতাংশ)।

সরকার পদ্ধতি : ইউনিটারি সেমি-প্রেসিডেনশিয়াল কনস্টিটিউশনাল রিপাবলিক।

প্রেসিডেন্ট : হ্যারি রাজাওনারিমামপিয়ানিনা।

স্বাধীনতা : ফ্রান্স থেকে ২৬ জুন ১৯৬০।

আয়তন : পাঁচ লাখ ৮৭ হাজার ৪১ বর্গকিমি।

জনসংখ্যা : দুই কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার।

ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৫.২ জন।

জিডিপি : ৪০ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

মাথাপিছু : এক হাজার ৫৬৩ ডলার।

মুদ্রা : মালাগাসি এরিয়ারি।

জাতিসংঘে যোগদান : ১৯৬০ সাল।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers