সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ , ১৮ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
মানচিত্র

পৃথিবীর সমস্ত গোলাপ যেন বুলগেরিয়াতেই

নিউজজি ডেস্ক ১০ এপ্রিল , ২০১৯, ১২:৫০:০৯

6K
  • পৃথিবীর সমস্ত গোলাপ যেন বুলগেরিয়াতেই

বুলগেরিয়ায় উৎপাদিত গোলাপের তেলের সুখ্যাতি বিশ্বজোড়া। প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে এই তেল রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে বুলগেরিয়া। ভোরের আলো ফুটলেই চোখে পড়ে দিগন্ত জোড়া গোলাপ ফুলের উদ্যান। বুলগেরিয়া পর্বত, নদনদী ও সমভূমির দেশ। উত্তর বুলগেরিয়ার পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বলকান পর্বতমালা প্রসারিত। বলকান পর্বতমালার নামেই অঞ্চলটির নাম হয়েছে বলকান। তবে বুলগেরীয়রা এগুলিকে Stara Planina বা প্রাচীন পর্বতমালা নামে ডাকে। ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী দানিউব বুলগেরিয়ার উত্তর সীমান্ত গঠন করেছে।

পশ্চিমে সোফিয়া এবং পূর্বে কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত নিম্নভূমিটি গোলাপের উপত্যকা নামে পরিচিত। তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এখানকার কৃষকেরা কাজালনুক গোলাপের চাষ করে আসছেন। এই গোলাপের তৈল নির্যাস অত্যন্ত দুর্লভ এবং বুলগেরিয়ার অন্যতম রপ্তানি পণ্য। বুলগেরিয়ার পূর্বে কৃষ্ণ সাগরের উপকূল উত্তরে খাড়া পার্বত্য ঢাল থেকে দক্ষিণে বালুকাময় সৈকতে নেমে এসেছে। এখানকার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে সারা বিশ্ব থেকে লোক বেড়াতে আসে। উত্তরের পর্বতমালাতে শীতকালে ভারী বরফ পড়ে; ফলে শীতকালীন ক্রীড়ার জমজমাট আসর বসে এখানে।

ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বুলগেরিয়াকে নিয়ে বহু শক্তির প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা হয়েছে। বহু শতাব্দী ধরে এটি একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল। মধ্যযুগে এসে দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রধান শক্তি ছিল। প্রথম বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের সময় (৬৩২/৬৮১—১০১৮) এখানকার শাসকেরা বলকান উপদ্বীপের অধিকাংশ এলাকা শাসন করেছেন। এখানকার খ্রিস্টান অর্থডক্স ধর্ম, সংস্কৃতি দক্ষিণ ও পূর্ব ইউরোপীয় বহু স্লাভীয় জাতিকে প্রভাবিত করেছে। পূর্ব ইউরোপের ভাষাগুলির লিখন পদ্ধতিতে প্রচলিত সিরিলীয় লিপি বুলগেরিয়াতেই উদ্ভাবিত হয়। দ্বিতীয় বুলগেরীয় সাম্রাজ্যের অবক্ষয়ের শেষে ১৩৯৩ সালে দেশটি উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। প্রায় ৫০০ বছর উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে শাসিত হবার পর ১৮৭৮ সালে সান স্তেফানোর চুক্তির মাধ্যমে বুলগেরিয়া একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯১২-১৯১৩ সালের প্রথম বলকান যুদ্ধে জয়ী হলেও ২য় বলকান যুদ্ধে দেশটি হেরে যায় এবং গ্রিস, সার্বিয়া ও রোমানিয়ার কাছে অনেক এলাকা হারায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সেনারা দেশটির দখলে ছিল। এসময় সোভিয়েত সরকারের সমর্থনে একটি সাম্যবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। সাম্যবাদী শাসনের সময় বুলগেরীয় নেতারা প্রধানত কৃষিভিত্তিক দেশটির অর্থনীতির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি শিল্পায়ন প্রকল্প শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের আগ পর্যন্ত বুলগেরিয়া একটি সাম্যবাদী রাষ্ট্র ছিল। ১৯৯০ সালে বুলগেরিয়াতে যুদ্ধের পর প্রথমবারের মত বহুদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এর নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বুলগেরিয়া থেকে বদলে বুলগেরিয়া প্রজাতন্ত্র রাখা হয়।

গণতন্ত্র ও মুক্ত বাণিজ্যের পথে রূপান্তর বুলগেরিয়ার জন্য সুখপ্রদ হয়নি। সাম্যবাদের পতন এবং বুলগেরীয় পণ্যের সোভিয়েত বাজারের বিলোপ ঘটায় দেশটির অর্থনীতির প্রবল সংকোচন ঘটে। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের ঊর্ধগতি, অবারিত দুর্নীতি, এবং সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার বিপর্যয় ঘটায় জীবনযাত্রার মানের চরম পতন ঘটে। অনেক বুলগেরীয় দেশ ছেড়ে চলে যান। বুলগেরীয় সরকার ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে গৃহীত সংস্কারগুলির ব্যাপারে অটল থাকলে ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জিত হয়। দেশটি ২০০৪ সালের মার্চে নেটোর এবং ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এই দেশে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। কী কারণে? জেনে নেয়া যাক - 

বাচকোভো মনাস্ট্রি

বুলগেরিয়ায় ৮০ লাখ মানুষের বাস৷ অথচ সেখানে মঠের সংখ্যা ২৩৭টি৷ এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই৷ কেননা ১১শ’ বছর আগে বুলগেরিয়া ছিল গোঁড়া খ্রিস্টানদের আখড়া৷ এই মনাস্ট্রিটা ১০৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত৷

ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনের উদ্যান, সোফিয়া

যদিও রাজধানী সোফিয়া হাজার বছরের পুরোনো, কিন্তু একে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন এটা একেবারে নতুন এবং চিরসবুজ৷ ন্যাশনাল থিয়েটারের সামনে যে উদ্যানটি রয়েছে সেটা মানুষের আড্ডা দেয়ার জন্য ভীষণ জনপ্রিয়৷প্লোভদিভ অ্যাম্ফিথিয়েটার নামেও রয়েছে এক অসাধারণ থিয়েটার। 

এই প্রাচীন মার্বেল থিয়েটারটি রোমানদের অন্যতম সুন্দর নিদর্শনের একটি৷ ত্রাজান সম্রাটের অধীনে থাকাকালীন এটি নির্মিত হয়৷

সন্ত সোফিয়ার মূর্তি  

ব্রোঞ্জের এই মূর্তিটিকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই৷ এটি দৈর্ঘ্যে ৮ দশমিক ৮ মিটার, ওজন ৫ টন৷ ২০০১ সালে শহরের মেয়র এই মূর্তিটি নির্মাণ করান৷ আপনার কাছে এটিকে সুন্দর মনে হোক আর না হোক এটি সোফিয়ার একটি নতুন ল্যান্ডমার্ক৷

বানিয়া বাশি মসজিদ, সোফিয়া

৫ শতক ধরে বুলগেরিয়া তুর্কিদের দখলে ছিল৷ এই বিশাল মসজিদটি অটোমান সাম্রাজ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ ষোড়শ শতাব্দীতে এটি নিমার্ণ করা হয় এবং এখনও এখানে নামাজ পড়েন মুসল্লিরা৷

ভেলিকো তারনোভো

এই বলকান রেঞ্জ ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত লম্বা পাহাড়ি রেঞ্জ, যা একই নামে পরিচিত৷ উত্তর ও দক্ষিণে এটি বুলগেরিয়াকে বিভক্ত করেছে৷ বুলগেরিয়ার পুরোনো রাজধানী ভেলিকো তারনোভো, উত্তরে অবস্থিত৷

প্লোভদিভ

রোমের মত প্লোভদিভ সাতটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত৷ তবে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরটি ৮ হাজার বছরের পুরোনো৷

এক নজরে  - 

পুরো নাম          : বুলগেরিয়া প্রজাতন্ত্র

রাজধানী           : সোফিয়া

সরকারি ভাষা : বুলগেরীয়

জাতিগোষ্ঠী        : বুলগেরীয় (৮৪.৮%), তুর্কি , (৮.৮%), রোমা (৪.৯%),  অন্যান্য (১.৫%)

সরকার             : ইউনিটারি পার্লামেন্টারি রিপাবলিক

প্রেসিডেন্ট         : রোসেন প্লেভনেলিয়েভ

প্রধানমন্ত্রী         : বয়কো বরিসোভ

স্বাধীনতা           : ৫ অক্টোবর ১৯০৮ (ওসমানিয়া সম্রাজ্য থেকে)

আয়তন            : এক লাখ ১০ হাজার ৯৯৪ বর্গ কিলোমিটার

জনসংখ্যা         : ৭৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭০

ঘনত্ব    : প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬৬.২ জন

জিডিপি   : মোট ১৩২ দশমিক ৫৮৮  বিলিয়ন ডলার,  মাথাপিছু ১৮ হাজার ৫০১ ডলার

মুদ্রা      : লেভ

জাতিসংঘে যোগদান : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৫৫।  

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers