সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ , ১৮ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
মানচিত্র

ডোডো পাখির দেশ নীল মরিশাস

নিউজজি ডেস্ক ২৭ মার্চ , ২০১৯, ১৩:২৩:২৫

15K
  • ডোডো পাখির দেশ নীল মরিশাস

পৃথিবীতে এত নীল জল একসাথে নেই, যতখানি আছে মরিশাসের সৈকতে সৈকতে। এত নীলের দেখা পাওয়া যায় অনেক দেশেই, কিন্তু মরিশাসে যা দেখা যায়, সেটা অনন্য। এই ঘন নীল জলে আবার ভেসে থাকে কাঠের তৈরি সেই আদিকালের রংরুপ ধরে রাখা সব কাঠের জাহাজ। জানা যায়, আগ্নেয়গিরির কঠিন কালো যে বুদবুদ একদিন উপরে উঠে এসেছিল, সেটা জমে গিয়ে তৈরি হয়েছিল মানুষের বসবাসযোগ্য ভূমি। সেটাই আজ সৌন্দর্যের কেন্দ্রভূমি। 

সর্বপ্রথম ওলন্দাজ (পর্তুগিজ) অভিযাত্রীরা ১৫০৭ সালে আদিবাসীবিহীন দ্বীপটি আবিষ্কার করে । ওলন্দাজরা ১৬৩৮ সালে দ্বীপটিতে বসতি স্থাপন করে এবং ১৭১০ সালে পরিত্যাগ করে । পাঁচ বছর পর, দ্বীপটি একটি ফরাসি উপনিবেশ হয়ে ওঠে এবং একে 'আইল ডি ফ্রান্স' নামকরণ করা হয় । নেপলিয়নীয় যুদ্ধ চলাকালে ১৮১০ সালে ব্রিটিশরা মরিশাসের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে । ১৯৬৮ সালের ১২ মার্চে স্বাধীন কমনওয়েলথ রাজত্ব এবং ১৯৯২ সালের ১২ মার্চে কমনওয়েলথ মধ্যে প্রজাতন্ত্র হয়ে না ওঠা পর্যন্ত দেশটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল ।

আবার এরকমও কেউ কেউ বলেছেন, বিখ্যাত আরব নাবিক দিনা আরাবি ১৫০৭ সালে ভারত মহাসাগর দিয়ে পর্তুগালে যাওয়ার পথে ছোট একটি দ্বীপ দেখতে পান। দ্বীপটি দেখে তিনি সরাসরি দ্বীপের কাছেই নিজের জাহাজ ভিড়ান। দিনা আরাবি দ্বীপটির চতুর্দিক পরিদর্শন করেন। তিনি দ্বীপটির পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অনুকূল পরিবেশ এবং সারি সারি নারিকেলজাতীয় গাছ দেখে মুগ্ধ হন। পরিপাটি ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে পুলকিত হয়ে তিনি দ্বীপটির নাম রাখেন ‘মরিশাস’। 

১৫৫০ সালের পর থেকে মরিশাসে লোকবসতি আরম্ভ হয়। অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাস। এটা পূর্ব আফ্রিকার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম পোর্ট লুইস। পর্যটন তাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এছাড়া টেক্সটাইল, চিনি, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে। 

মরিশাসের অধিকাংশ মানুষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। মরিশাসের অধিকাংশ লোকই হিন্দি ভাষাভাষী। অল্পকিছু সংখ্যক লোক ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। পুরো নাম ‘রিপাবলিক অব মরিশাস’। দেশটি ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৯২ সালের ১২ মার্চ প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।

দেশটিতে মুসলিম ধর্মের লোকজনও আছে। আছে আচার অনুষ্ঠান। এদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ এবং আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংঘের সদস্য। মরিশাসে ৯টি জেলা রয়েছে, যা বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রাম নিয়ে গঠিত। স্বাস্থ্যব্যবস্থা খুবই উন্নত। সরকারি পর্যায় থেকে জনগণকে বিভিন্ন মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়ে থাকে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - 

সীমানা : ২০৪০ বর্গকিলোমিটার। 

জনসংখ্যা : ১৪ লাখ, হিন্দু ৫০%, খ্রিস্টান ৩০% এবং মুসলিম ১৫%। 

সাক্ষরতার হার : ৮৫%। 

কৃষিসম্পদ : আখ, আলু, কলা, সবজি, ফল, চা, মাছ, গবাদি পশু। 

স্বাধীনতা দিবস : ১২ মার্চ, ১৯৬৮ (যুক্তরাজ্য থেকে)। 

মরিশাসের জাতীয় প্রতীক ডোডো পাখি। পাখিটি আজ নানান রুপকথায় চলে গেছে। জানা যায়, এখানে যখন লোকবসতি ছিল না, তখন কেবল ডোডো পাখিই তার লম্বা ঘাড় উঁচিয়ে ঘুরে বেড়াতো। মানুষের আবাস শুরু হতেই কমতে থাকে ডোডো। এদেশে ডোডো রীতিমত রুপকথাই এখন। উইকিপিডিয়ার আশ্রয়ে জানা যায়, ডোডো একপ্রজাতির বিলুপ্ত উড্ডয়ন অক্ষম পাখি। পাখিটি ছিল মাদাগাস্কারের পূর্বে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মরিশাস দ্বীপে স্থানিক প্রজাতি। জিনগতভাবে আরেক বিলুপ্ত প্রজাতি রড্রিগেজ সলিটেয়ার এর নিকটতম আত্মীয়। মুরগি ও হাঁসের কাছাকাছি চেহারা সুরতের এ পাখিটি পৃথিবীর আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। মরিশাসের অধিবাসীরা এই পাখিটিকেই তাদের জাতীয় পাখি হিসেবে সাব্যস্ত করে নিয়েছে। 

মরিশাস পাহাড়-সমুদ্র-গাছপালা-মানুষ মিলে অসাধারণ সুন্দর একটি দেশ। মরিশাসে প্রায় ৪৫ হাজার বাঙালি কর্মরত। প্রতি বছর পর্যটনশিল্প থেকে এই দেশের আয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। মরিশাস যখন ফ্রান্সের অধীনে ছিল, তখন এই দেশটির শিক্ষা-দীক্ষা, পর্যটন, স্থাপত্য, পরিবেশ এবং বনসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। মরিশাসে মাত্র দুটি ঋতু আছে। বর্ষাকাল ও গ্রীষ্মকাল। সারা বছর দেশের গড় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পুরো মরিশাসই সুন্দর। তবুও কোনও স্থানগুলো অধিক আকর্ষণীয়, সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক - 

গ্রান্ড বেসিন

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উঁচুতে গ্রান্ড বেসিন একটি চমৎকার হ্রদ। এটি মরিশাস দ্বীপের সবচেয়ে পবীত্র হিন্দু এলাকা। এখানে দেবতা শিবের একটি মন্দির রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, হ্রদটির পানি ভারতের পবিত্র গঙ্গা নদী থেকে এসেছে এবং মানুষ তাদের আবাসস্থল থেকে পায়ে হেটে এখানে আসে মহা শিব রাত্রি উতযাপন করতে। এখানে ২০০৭ সালে ১০৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি স্থাপন করা হয়।

চ্যাম্প ডি মার্স, পোর্ট লুই

চ্যাম্প ডি মার্স রেস কোর্সে কাটাতে পারেন একটি বিকেল। এটি দক্ষিণ গোলার্ধের সবচেয়ে পুরাতন রেসকোর্স ময়দান। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ঘোড়ার উপর বেট লাগাতে পারেন দারুণ এক মগ কফি খেতে খেতে। আপনি যদি ঘোড়দৌড় প্রেমী নাও হোন চ্যাম্প ডি মার্স এর বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি আপনাকে নিশ্চিত মুগ্ধ করবে।

ক্যামারেল ওয়াটারফল

ক্যামারেল মরিশাসের সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাত, ১০০ মিটার এর উচ্চতা। এই প্রাকৃতিক জায়গাটি মুহুর্তে মন ভালো করে দেওয়ার মত। ছবি তোলার জন্য, সময়কে প্রকৃতির সাথে উপভোগ করার জন্য চমৎকার জায়গা এটি। ১০০ মিটার নীচে জলপ্রপাতটি যে পুকুর তৈরি করেছে তার সৌন্দর্য্য শ্বাসরুদ্ধকর। এখানে আরও দেখবেন, ‘Seven colored earth’ যেখানে দেখা মিলবে লাল, বাদামী এবং বেগুনী রং এর বালির আস্তরন। এই রঙ্গীন বালুকাবেলা তৈরি হয়েছে আগ্নেয় শিলা থেকে যা ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রায় শীতল হয়েছে, বালির সাথে মিশেছে আর অবশেষে বিভিন্ন রং ধারণ করেছে।

জর্জ ন্যাশনাল পার্ক 

এই জাতীয় উদ্যান ৬,৫৭৪ হ্যাক্টর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত আর আপনি এখানে ট্রেইলে সানন্দে হাইকিং করতে পারবেন, দেখতে পারবেন বন এবং বন্য জীবন। ঘন বনটিতে আছে ৩০০ প্রজাতির ফুলের গাছ। আপনি ভাগ্যবান হলে দেখতে পাবেন বিখ্যাত গোলাপি কবুতর, যা মরিশা্সের বিলুপ্তপ্রায় পাখি। ভাল জুতা, ম্যাপ আর গিয়ার নিয়ে বনে প্রবেশ করলে ভাল হয়।

স্কাইডাইভ

যদি আপনি রোমাঞ্চপ্রিয় হন তাহলে প্লেন থেকে লাফিয়ে পড়ে এক অতুলনীয় রোমাঞ্চের সম্মুখীন করতে পারেন নিজেকে। স্কাইডাইভ মরিশাসে আপনি স্কাইডাইভ করে অভুতপূর্ব দৃশ্য অবলোকন করতে পারবেন। নিচে সবুজ ঘন বন, টারকুইশ নীল জলরাশি, আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছেন আপনি। জীবনে প্রথমবার স্কাইডাইভ একটি কখনো না ভুলে যাওয়ার মত অভিজ্ঞতা, জীবনের মানে বদলে দিতে পারে এটি আপনার চোখে।

গ্রান্ড বে 

এটি একটি কস্মোপলিটন রিসোর্ট, পরিচিত এর অসাধারণ রাতের জীবনের জন্য, আছে কেনাকাটার সুবিধা আর বিলাশ বহুল রেস্তোরাঁ। উত্তরের দ্বীপমালায় চমৎকার ভ্রমণের জন্য গ্রান্ড বেই একটি চমৎকার জনপ্রিয় রিসোর্ট। এর জলীয় এলাকায় ডাইভিং, সেইলিং, অয়াটার সিকিং এবং উইন্ড সার্ফিং এর মত নানান মজার আর উপভোগ্য আয়োজন রয়েছে।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers