সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১ আশ্বিন ১৪২৮ , ১৮ সফর ১৪৪৩

ফিচার
  >
মানচিত্র

সুখশান্তির দেশ অস্ট্রিয়া

নিউজজি ডেস্ক ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৮, ১২:১৪:৩৬

18K
  • সুখশান্তির দেশ অস্ট্রিয়া

সম্প্রতি আমাদের দেশের যোগাযোগ মাধ্যমে সেফাতুল্লাহ সেফুদার বিচিত্র ভিডিওর কল্যাণে অস্ট্রিয়া দেশটি নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ। তার উপর সেফুদার সংলাপ ‘ কী? হিংসে হয়? আমার মতো হতে চাও?’ এর পর যখন এক জরিপে উঠে এলো পৃথিবীর অন্যতম সুখী দেশ অস্ট্রিয়া, তখন এ নিয়ে আরও কত কথা। সেফুদার মতো আলোচিত ও বিতর্কিত লোকটি থাকেন অস্ট্রিয়ায়। আসলে কেমন সে দেশ? কী তার ইতিহাস? চলুন, জেনে নেয়া যাক। 

অস্ট্রিয়ার ইতিহাস ৯৭৬ সালে শুরু হয়। ঐ বছর লেওপোল্ড ফন বাবেনবের্গ বর্তমান অস্ট্রীয় এলাকার বেশির ভাগ অংশের শাসকে পরিণত হন। ১২৭৬ সালে রাজা প্রথম রুডলফ হাব্স্বুর্গ বংশের প্রথম রাজা হিসেবে অস্ট্রিয়ার শাসক হন। হাব্স্বুর্গ রাজবংশের রাজারা প্রায় ৭৫০ বছর অস্ট্রিয়া শাসন করেন। ১৯১৯ সালে সাঁ জেরমাঁ-র চুক্তির ফলে হাব্স্বুর্গ রাজবংশ সরকারিভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং অস্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৮ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়াতে রাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধি পায়। ১৯৩৮ সালের ১২ই মার্চ জার্মানি অস্ট্রিয়াতে সৈন্য পাঠায় এবং দেশটিকে জার্মানির অংশভুক্ত করে নেয়। এই ঘটনাটির ঐতিহাসিক নাম দেয়া হয়েছে আন্শ্লুস (জার্মান ভাষায় Anschluss)। সেসময় বেশির ভাগ অস্ট্রীয় এই আনশ্লুস সমর্থন করেছিল। ১৯৩৮ সালের মার্চ থেকে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলের মধ্যে অস্ট্রিয়ার অধিকাংশ ইহুদীকে হয় হত্যা করা হয় অথবা নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়। সিন্তি, জিপসি, সমকামী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্ব্বীদেরও একই পরিণাম ঘটে। ১৯৩৮ সালের আগে অস্ট্রিয়াতে ২ লক্ষ ইহুদী বাস করত। ১৯৩৮ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে এদের অর্ধেকের বেশি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। জার্মানরা ইহুদীদের ব্যবসা ও দোকানপাটে লুটতরাজ চালায়। প্রায় ৩৫ হাজার ইহুদীকে পূর্ব ইউরোপে গেটো বা বস্তিতে পাঠানো হয়। প্রায় ৬৭ হাজার ইহুদীকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়; যুদ্ধশেষে এদের মাত্র ২ হাজার বেঁচে ছিল। ১৯৪৫ সালে জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তিরা অস্ট্রিয়াকে চারভাগে ভাগ করে। ১৯৫৫ সালের ২৫শে অক্টোবর নাগাদ এরা সবাই অস্ট্রিয়া ত্যাগ করে এবং অস্ট্রিয়া পূর্ণ স্বাধীনতা পায়। 

দানিউব নদী দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির ডোনাএশিঙেনের কাছ থেকে উৎপত্তি লাভ করে অস্ট্রিয়ার ভেতর দিয়ে পূর্বমুখে প্রবাহিত হয়ে কৃষ্ণসাগরে পতিত হয়েছে। আল্পসের উত্তরের ইন নদী, ৎসালজাখ নদী ও এন্স নদী দানিউবের উপনদী। অন্যদিকে আল্পসের দক্ষিণের অর্থাৎ মধ্য ও পূর্ব অস্ট্রিয়ার গাইল নদী, ড্রাভা নদী, ম্যুর্ৎস নদী ও মুরা নদী সার্বিয়াতে গিয়ে দানিউবে পতিত হয়েছে। 

গ্রোসগ্লকনার পর্বতশৃঙ্গ আল্পসের তিনটি প্রধান শাখা, উত্তর চুনাপাথরীয় আল্পস, কেন্দ্রীয় আল্পস, ও দক্ষিণ চুনাপাথরীয় আল্পস অস্ট্রিয়ার পশ্চিম থেকে পূর্ব জুড়ে বিস্তৃত। ৩৭৯৭ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট গ্রোস্গ্লকনার অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। অস্ট্রিয়ার মাত্র ২৮% অঞ্চল সমতল বা অপেক্ষাকৃত কম পাহাড়ি। 

বোহেমীয় অরণ্য দানিউব উপত্যকার উত্তরে অস্ট্রিয়ার প্রায় ১০% এলাকা জুড়ে অবস্থিত একটি গ্রানাইট মালভূমি এলাকা। 

অর্থনীতি অস্ট্রিয়ার অর্থনীতি ব্যবস্থাকে একটি সামাজিক বাজার অর্থনীতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এর গঠন প্রতিবেশী জার্মানির অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মতন। ২০০৪ সালের তথ্য অণুযায়ী অস্ট্রিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪র্থ ধনী দেশ। এখানকার মাথাপিছু স্থুল জাতীয় উৎপাদন প্রায় ২৭,৬৬৬ ইউরো। কেবন লুক্সেমবুর্গ, আয়ারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ড্স এই দিক থেকে অস্ট্রিয়ার চেয়ে এগিয়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ২০০২-২০০৬ সময়সীমাতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ১ থেকে ৩.৩%-এর মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। মধ্য ইউরোপে অবস্থিত বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সদস্যরাষ্ট্রগুলির (যেগুলি বেশির ভাগই পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত) প্রবেশদ্বার হিসেবে অস্ট্রিয়া গুরুত্ব লাভ করেছে।

একনজরে 

পুরো নাম : অস্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্র । রাজধানী : ভিয়েনা । সরকার পদ্ধতি : আধা রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র (কার্যত পার্লামেন্টারি প্রজাতন্ত্র) । জনসংখ্যা : ৮৬ লাখ দুই হাজার ১১২ জন (২০১৫ সালের গণনা) । ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০১.৪ জন । জাতিগোষ্ঠী : অস্ট্রিয়ান (৮১.১%), জার্মান (২.৭%), তুর্কি (২.২%), অন্যান্য (১৪%)।  আয়তন : ৮৩ হাজার ৮৭৯ বর্গকিলোমিটার । প্রধান ভাষা : জার্মান । ধর্ম : খ্রিস্টান । গড় আয়ু : ৭৮ (পুরুষ), ৮৪ (নারী)।  জিডিপি : ৪০২.৪২০ বিলিয়ন ডলার (মোট) ৪৭ হাজার ৩১ ডলার (মাথাপিছু)।  মুদ্রা : ইউরো।

ইউরোপের এই দেশটি বসবাসের জন্য খুবই উপযোগী, কেননা, সেখানে অপরাধ প্রবণতা এবং নরহত্যার হার খুবই কম। অস্ট্রিয়া এখানকার পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার কারণেও সুপরিচিত। এ দেশের সরকার দেশের সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা এবং কঠোর বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যাপারে আপোষহীন। আর্থিক মাথাপিছু আয়ের হিসেবে অস্ট্রিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। দেশটি এর অধিবাসীদের জীবনযাত্রার মান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানের দিক থেকেও খুব উন্নত। চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অসাধারণ সব ঐতিহাসিক স্থাপনার কারণে অস্ট্রিয়া প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভ্রমণপিপাসু মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
        
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers